কূটনৈতিক প্রতিবেদক
জাতিসঙ্ঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার পর পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে ড. খলিলুর রহমানের দায়িত্ব পালনের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সিদ্ধান্ত দেবেন বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ। তিনি বলেছেন, নিষ্ঠার সাথে কাজ করতে হলে ড. খলিলুর রহমানকে জাতিসঙ্ঘে সময় দিতেই হবে। কিন্তু তার মানে এই নয় যে, তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রী থাকতে পারবেন না। এটা প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্ত। আমি মনে করি, পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে আলোচনা করে প্রধানমন্ত্রী একটা সিদ্ধান্ত দেবেন।
গতকাল বুধবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে এক প্রশ্নের জবাবে শামা ওবায়েদ এ কথা জানান। গত মঙ্গলবার নিউইয়র্কে এক প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনে সাইপ্রাসের প্রার্থীকে হারিয়ে ড. খলিলুর রহমান জাতিসঙ্ঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন। এই সভাপতিত্বের মেয়াদকাল এক বছর। ইউএনজিএতে পূর্ণকালীন দায়িত্ব পালনের জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাকে এক বছরের জন্য ছুটি দেবেন বলে ইতোপূর্বে জাতিসঙ্ঘ সদস্য রাষ্ট্রগুলোর সাথে অনানুষ্ঠানিক এক সংলাপে জানিয়েছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
খলিলুর রহমানের অনুপস্থিতিতে ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে কেউ দায়িত্ব নেবেন কি না জানতে চাওয়া হলে শামা ওবায়েদ বলেন, এ বিষয়ে আমি অবগত নই। সেটা প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্ত। তিনি বলেন, ইউএনজিএর সভাপতি হিসেবে খলিলুর রহমানের জয়লাভ নিঃসন্দেহে বাংলাদেশের জন্য অনন্য এক মাইলফলক। প্রধানমন্ত্রীর দূরদর্শী নেতৃত্বে ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীর যোগ্যতায় এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। জাতিসঙ্ঘের পাশাপাশি পুরো বিশ্বই বাংলাদেশের ওপর আস্থা রেখেছে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান থেকে শুরু করে এখনো বিএনপি কূটনৈতিকভাবে সফল।
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেসের প্রধান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেছেন, বাংলাদেশের একটি চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের (ওসমান হাদী) খুনিরা মেঘালয় থেকে পশ্চিমবঙ্গে এসে পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়েছিল। তখন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহা তাকে ফোন করে বিষয়টি যাতে জানাজানি না হয়, সে জন্য অনুরোধ করেছিলেন। মমতার এ মন্তব্য সম্পর্কে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে শামা ওবায়েদ বলেন, এটা আমাদের আলোচনার বিষয় নয়। এখন যদি ভারত সরকার বাংলাদেশকে হাদী হত্যার বিষয়ে কিছু বলে আমরা অবশ্যই দেখবো। আমরা হাদী হত্যার বিচার চাই। ভারতে যারা ধরা পড়েছে তাদের দেশে ফিরিয়ে এনে বিচার করতে হবে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এটা নিয়ে কাজ করছে। আমরা ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের সাথে এ ব্যাপারে কথা বলছি।



