ক্রীড়া প্রতিবেদক
চট্টগ্রামে প্রথম টি-২০তে জয়ের পর দ্বিতীয় ম্যাচ বৃষ্টিতে পরিত্যক্ত। তাই গতকাল মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ ও নিউজিল্যান্ডের তৃতীয় টি-২০ ম্যাচ ছিল টাইগারদের সিরিজ জয়ের। আর কিউইদের সমতায় ফেরার। দুপুরের মুদ্রা নিক্ষেপে জয়টা সফরকারীদের। ফলে টস জিতে তারা স্বাগতিকদের ব্যাটিংয়ে আমন্ত্রণ জানায়। দুই ওপেনার সাইফ হাসান ও তানজীদ হাসান তামিমের ওপর দায়িত্ব বর্তায় বাংলাদেশের ইনিংসের গোড়াপত্তনের। সাইফ হাসানের ডাউন দ্য উইকেটে খেলতে গিয়ে সেই যে উইকেট পতনের শুরু তা অব্যহত ছিল শেষ পর্যন্ত। ফলে বৃষ্টির আগে ও পরে মিলে টি-২০ সিরিজের আয়োজকদের সংগ্রহটা কোনো মতে একশ পেরিয়েছে।
খোলস ছেড়ে বের হতে পারছিলেন না তানজিদ তামিম। অন্য প্রান্তে সাবলীলই মনে হচ্ছিল সাইফ হাসানকে। ডিন ফক্সক্রফটের প্রথম ওভারে তিন রান নিয়ে তার শুরু। এরপর নাথান স্মিথের পরের ওভারে মারেন প্রথম চার। মনে হচ্ছিল ইনিংসটা টানতে পারবেন। অন্য প্রান্তে জুনিয়র তামিম বল নষ্ট করতে শুরু করেন। সাইফ হয়তো এই দেখেই চতুর্থ ওভারের প্রথম বলে জায়দেন লেনক্সকে তুলে মারতে গিয়ে আসেন ডাউন দ্যা উইকেটে। ব্যাটে বলেও হয়েছিল। তবে তা যুৎসই হয়নি। এর পরও হয়তো বেঁচে যেতেন। কিন্তু নিউজিল্যান্ড ফিল্ডার টিম রবিনসন যেভাবে পেছনে দৌড়ে গিয়ে বলের ফ্লাইটের উপর চোখ রেখে শেষ পর্যন্ত বলটি তালু বন্ধী করলেন এতে প্রশংসা পেতেই পারেন তিনি।
৩.১ ওভারে ২১ রানে বাংলাদেশ দলের প্রথম উইকেটের পতন। এরপর ৬.৪ ওভার শেষে বৃস্টি। ততক্ষণে ব্যাকসিটে চলে গেছে লিটন দাসের দল। দলীয় ৩৫ রানে তানজিদ তামিমের বিদায়ের পর একই স্কোর লাইনে কোনো রান না করে আউট পারভেজ হাসান ইমন। স্মিথের প্রথম ওভার দেখে মনে হচ্ছিল দিনটি তার ভালো যাবে না। অথচ তার বলেই বোল্ড ১০ বলে ছয় রান করা তামিম। পারভেজ হাসান ইমন স্মিথের বাউন্স বলে প্রথমে বাঁচার চেষ্টা করেন। এরপর মত পাল্টিয়ে সেই বল পাঠাতে চেয়েছিলেন থার্ডম্যানের ওপর দিয়ে। তবে বল ঠিকমতো ব্যাটে না লাগায় ইশ সোধীর তালুবন্ধী। কোনো রানই নিতে পারেননি তিনি। পরপর দুই বলে প্যাভিলিয়নে তারা। ফলে প্রথম পাাঁচ ওভারে ৩৫ রান আসে। উইকেটে তখন তৌহিদ হৃদয় ও লিটন দাস। দু’জনে চেষ্টা করেন ভাঙা ইনিংসকে গড়তে। তখনই ৬.৪ ওভারের শেষে বৃষ্টি নামে। দলীয় স্কোর তখন তিন উইকেটে ৫০। লিটন ২৫ এবং হৃদয় দুই রানে অপরাজিত।
১ ঘণ্টা ৫৪ মিনিট পর বৃষ্টি শেষে মাঠের পানি নিষ্কাশন শেষে ফের খেলা শুরু। নির্ধারিত হয় ২০ ওভারের বদলে ১৪ ওভারের ম্যাচ। ফলে রান তুলতে মরিয়া ব্যাটিং টাইগারদের। তবে সাফলতা আসেনি। এক ছয় আর তিন চারে ১৭ বলে ২৬ করা লিটন ক্লার্কসনের বল তুলে মারতে গিয়ে ধরা পড়েন জ্যাকবসের হাতে। এরপর শামীম পটোয়ারাী রিভার্স হিট নিতে গিয়ে ক্যাচ দেন ডিপ পয়েন্টে। ১৩.৩ ওভারে শামীম এবং ১৩তম ওভারের প্রথম বলে তৌহিদ হৃদয় আউট হওয়ার পর বুঝা যাচ্ছিল ইনিংসটা আর বড় হচ্ছে না। এর মধ্যে হৃদয় রান আউটের হাত থেকে রক্ষা পান বিপক্ষ বল ধরার আগেই স্ট্যাম্প ভেঙে ফেলায়। যদিও পরে ছিলেন অলরাউন্ডার সাইফউদ্দিন, রিশাদ হোসেন, শেখ মাহেদীরা। এক রানকে দুই রানে পরিণত করতে গিয়ে রান আউট রিশাদ। সাইফুদ্দিন পয়েন্টে দর্শনীয় ক্যাচের শিকার। এরপর শেষ ওভারের প্রথম দুই বলে সিয়ার্সের গতি আর নিজেদের উইকেট ছেড়ে খেলার কারণে বোল্ড শরীফুল ও রিপন মণ্ডল। অন্য দিকে সাত রনে অপরাজিত মাহেদী সতীর্থদের আসা-যাওয়া দেখেছেন। যে কারণে ১৪.২ ওভারে ১০২ রানে অলআউট বাংলাদেশ।



