কোন বিভাগে কার কত আসন

Printed Edition

নয়া দিগন্ত ডেস্ক

বরিশাল বিভাগে ছয়টি আসনের সব ক’টিতে জয় পেয়েছেন বিএনপি প্রার্থীরা। অন্যদিকে খুলনার ছয়টি আসনের চারটিতে বিএনপি ও দু’টিতে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন এবং রাজশাহীতেও ছয়টি আসনের চারটি ধানের শীষ ও দু’টি দাঁড়িপাল্লা জয় পেয়েছে।

বরিশালের বিএনপির নিরঙ্কুশ বিজয়

বরিশাল ব্যুরো জানায়, বরিশাল জেলার ছয়টি সংসদীয় আসনে নিরঙ্কুশ বিজয় পেয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল- বিএনপি। শুক্রবার ভোর রাতে বেসরকারিভাবে জেলার ছয়টি আসনের ফলাফল ঘোষণা করেন জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মো: খাইরুল আলম সুমন।

বরিশাল-১ (গৌরনদী-আগৈলঝাড়া) আসনে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী জহির উদ্দিন স্বপন পেয়েছেন এক লাখ ৫৫২ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামী মনোনীত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী মো: কামরুল ইসলাম খান পেয়েছেন ৪৬ হাজার ২৬৩ ভোট।

জহির উদ্দিন স্বপন ৫৪ হাজার ২৮৯ ভোট বেশি পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন।

এখানে হ্যাঁ ভোট পড়েছে এক লাখ ১২

হাজার ২০৮ এবং না ভোট পড়েছে ৭৩ হাজার ৯৮৯টি।

বরিশাল-২ (বানারীপাড়া-উজিরপুর) আসনে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ও কেন্দ্রীয় বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য সরদার সরফুদ্দিন আহমেদ সান্টু পেয়েছেন এক লাখ ৪১ হাজার ৬২২ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী আবদুল মন্নান পেয়েছেন ৭৪ হাজার ৮২ ভোট। সান্টু ৬৭ হাজার ৫৪০ ভোট বেশি পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। এখানে হ্যাঁ ভোট পড়েছে এক লাখ ৩৪ হাজার ২৭৮ এবং না ভোট পড়েছে ৮০ হাজার ৯৬৬টি।

বরিশাল-৩ (বাবুগঞ্জ-মুলাদী) আসনে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন পেয়েছেন ৮০ হাজার ৯৩০ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ১১ দলীয় জোট মনোনীত ঈগল প্রতীকের প্রার্থী ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ভূঁইয়া পেয়েছেন ৬১ হাজার ১৯২ ভোট। জয়নুল আবেদীন ১৮ হাজার ৭৩৮ ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছেন। এখানে হ্যাঁ ভোট পড়েছে এক লাখ ২২ হাজার ৩০৫ এবং না ভোট পড়েছে ৪০ হাজার ৬৩৬টি।

বরিশাল-৪ (হিজলা-মেহেন্দীগঞ্জ) আসনে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ও জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক মো: রাজিব আহসান পেয়েছেন এক লাখ ২৮ হাজার ৩২২ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী মো: আব্দুল জব্বার পেয়েছেন ৭৪ হাজার ৬৮৪ ভোট। তিনি ৫৩ হাজার ৬৩৮ ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছেন। এখানে হ্যাঁ ভোট পড়েছে এক লাখ ৪৩ হাজার ৯০০ এবং না ভোট পড়েছে ৬৪ হাজার ৫১১টি।

বরিশাল-৫ (সদর ও মহানগর) আসনে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট মজিবর রহমান সরোয়ার পেয়েছেন এক লাখ ৩৫ হাজার ১৪৬ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী মুফতি ফয়জুল করীম পেয়েছেন ৯৫ হাজার ৪৪ ভোট। সরোয়ার ৪০ হাজার ১০২ ভোট বেশি পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। এখানে হ্যাঁ ভোট পড়েছে এক লাখ ৭৬ হাজার ৬৮৭ এবং না ভোট পড়েছে ৬৯ হাজার ৩৯৪টি।

বরিশাল-৬ (বাকেরগঞ্জ) আসনে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী আবুল হোসেন খান পেয়েছেন ৮২ হাজার ২১৭ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত মো: মাহমুদুন্নবী পেয়েছেন ৫৫ হাজার ৯৮৮ ভোট। আবুল হোসেন খান ২৬ হাজার ২২৯ ভোট বেশি পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। এখানে হ্যাঁ ভোট পড়েছে এক লাখ ১৫ হাজার ৭৪ এবং না ভোট পড়েছে ৪১ হাজার ৭০০টি।

বরিশাল জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক খাইরুল আলম সুমন ফলাফল প্রকাশে কিছুটা বিলম্ব হওয়ায় দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, জেলার ছয়টি আসন থেকে ফলাফল পাওয়ার পর চূড়ান্ত বার্তা প্রস্তুত করতে সময় লেগেছে। বরিশালে সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতায় বড় ধরনের কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই নির্বাচন সম্পন্ন করতে পেরেছি। বরিশালের ছয়টি আসনেই সুষ্ঠু ও সুন্দর পরিবেশে নিরপেক্ষ ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

খুলনায় ৪টি বিএনপি ও ২টিতে জামায়াতের জয়

খুলনা ব্যুরো জানায়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খুলনার ছয়টি আসনের মধ্যে চারটিতে বিএনপি ও দু’টিতে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী জয়লাভ করেছেন। এ ফলাফলের চমক হচ্ছে খুলনা-২ আসনে বিএনপির জনপ্রিয় অভিজ্ঞ রাজনীতিক নজরুল ইসলাম মঞ্জুর এবং খুলনা-৫ এ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারের পরাজয়।

বেসরকারিভাবে প্রাপ্ত ফলাফল অনুযায়ী, খুলনা-১ (দাকোপ-বটিয়াঘাটা) আসনে বিএনপি আমীর এজাজ খান এক লাখ ২১ হাজার ৩৫২ ভোট পেয়ে জিতেছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের প্রার্থী কৃষ্ণ নন্দী পেয়েছেন ৭০ হাজার ৩৪৬ ভোট।

খুলনা-২ (সদর-সোনাডাঙ্গা) আসনে জামায়াতের শেখ জাহাঙ্গীর হুসাইন হেলাল ৯৩ হাজার ৭৮৯ ভোট পেয়ে জয়লাভ করেছেন। বিএনপির নজরুল ইসলাম মঞ্জু পেয়েছেন ৮৮ হাজার ১৯৭ ভোট।

খুলনা-৩ আসনে বিএনপির প্রার্থী রকিবুল ইসলাম বকুল ৭৮ হাজার ৮৪৫ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম হয়েছেন জামায়াতের মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান পেয়েছেন ৬৬ হাজার ১০ ভোট।

খুলনা-৪ (রূপসা-তেরখাদা-দিঘলিয়া) আসনে বিএনপির প্রার্থী আজিজুল বারী হেলাল এক লাখ ২৩ হাজার ১৬২ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট মনোনীত খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মাওলানা সাখাওয়াত হোসাইন পেয়েছেন এক লাখ ৯ হাজার ৫৩০ ভোট।

খুলনা-৫ (ডুমুরিয়া-ফুলতলা) আসনে বিএনপির মোহাম্মদ আলি আসগর লবি এক লাখ ৪৮ হাজার ৮৫৪ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার পেয়েছেন এক লাখ ৪৬ হাজার ২৪৬ ভোট।

খুলনা-৬ (কয়রা-পাইকগাছা) আসনে জামায়াতে ইসলামীর আবুল কালাম আজাদ এক লাখ ৫০ হাজার ৭২৪ ভোট পেয়ে জয়লাভ করেছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী মনিরুল হাসান বাপ্পি পেয়েছেন এক লাখ ২৪ হাজার ৭১০ ভোট।

রাজশাহীর ৬টি আসনের ৪টিতে

বিএনপি ও ২টিতে জামায়াত জয়ী

রাজশাহী ব্যুরো জানায়, রাজশাহীর ছয়টি সংসদীয় আসনের মধ্যে চারটিতে জয় পেয়েছেন বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থীরা। আর বাকি দু’টিতে জয়ী হয়েছেন জামায়াতে ইসলামী মনোনীত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থীরা। বৃহস্পতিবার রাতে রাজশাহী জেলা রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক আফিয়া আখতার স্বাক্ষরিত প্রাথমিক বেসরকারি ফলাফলে এ তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।

ঘোষিত ফলাফল অনুযায়ী রাজশাহী-১ (গোদাগাড়ী-তানোর) আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান জয়ী হয়েছেন। তিনি পেয়েছেন এক লাখ ৭১ হাজার ৭৮৬ টি ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী মেজর জেনারেল (অবসরপ্রাপ্ত) শরিফ উদ্দিন পান এক লাখ ৬৯ হাজার ৯০২ ভোট। এ আসনে প্রার্থী ছিলেন চারজন। অধ্যাপক মুজিবুর রহমান ১৯৮৬ সালে এই আসনের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।

রাজশাহী-২ (সদর) আসনে বিএনপির মিজানুর রহমান মিনু জয়ী হয়েছেন। তিনি পেয়েছেন এক লাখ ২৮ হাজার ৫৪৬টি ভোট। আর তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী অধ্যাপক ডা: মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর পেয়েছেন এক লাখ ৩৭০ ভোট। এ আসনে প্রার্থী ছিলেন ছয়জন। মিজানুর রহমান মিনু রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়র ছিলেন।

রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর) আসনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির ত্রাণ ও পুনর্বাসনবিষয়ক সহসম্পাদক শফিকুল হক মিলন এক লাখ ৭৬ হাজার ৩১৮টি ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। আর তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ পেয়েছেন এক লাখ ৩৭ হাজার ৯২৭ ভোট। এ আসনে প্রার্থী ছিলেন ছয়জন।

রাজশাহী-৪ (বাগমারা) আসনে জামায়াতে ইসলামীর ডা: আব্দুল বারি সরদার জয়ী হয়েছেন। তিনি পেয়েছেন এক লাখ ১৫ হাজার ২২৬ ভোট। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির ডিএমডি জিয়াউর রহমান পান এক লাখ ৯ হাজার ৪৬১ ভোট। এ আসনে প্রার্থী ছিলেন চারজন।

রাজশাহী-৫ (পুঠিয়া-দুর্গাপুর) আসনে বিএনপির অধ্যাপক নজরুল ইসলাম মণ্ডল জয় পেয়েছেন। তিনি পেয়েছেন এক লাখ ৫৩ হাজার ৪২৫ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর মাওলানা মনজুর রহমান পেয়েছেন ৭৩ হাজার ৪৪৫ ভোট। এ আসনে প্রার্থী ছিলেন সাতজন।

রাজশাহী-৬ (বাঘা-চারঘাট) আসনে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবু সাঈদ চাঁদ জয়লাভ করেছেন। তার প্রাপ্ত ভোট এক লাখ ৪৮ হাজার ৬৭২ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর অধ্যক্ষ নাজমুল হক পেয়েছেন ৯২ হাজার ৯৬৫টি ভোট। এ আসনে প্রার্থী ছিলেন চারজন।

ঢাকার ১৩টি আসন বিএনপির

৭টি জামায়াত জোটের

ঢাকার বিশটি সংসদীয় আসনের মধ্যে ১৩টিতেই জয় পেয়েছে বিএনপি; ৭টি আসনে জয়ী হয়েছে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন এগারো দলীয় জোট।

ঢাকা-১ আসনে নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপির প্রার্থী খোন্দকার আবু আশফাক। তিনি পেয়েছেন এক লাখ ৭৩ হাজার ৭৮১ ভোট; তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম পেয়েছেন এক লাখ ১২ হাজার ৬২২ ভোট।

ঢাকা-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী আমানউল্লাহ আমান এক লাখ ৬৩ হাজার ৭৯৩ ভোট পেয়ে জয় পেয়েছেন; তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী আব্দুল হক পেয়েছেন ৮০ হাজার ৫৩ ভোট।

ঢাকা-৩ আসনে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকে গয়েশ্বর চন্দ্র রায় পেয়েছেন ৯৮ হাজার ৭৮৫ ভোট। জামায়াত ইসলামীর দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে শাহীনুল ইসলাম পেয়েছেন ৮২ হাজার ২৩২ ভোট।

ঢাকা-৪ আসনে জামায়াতে ইসলামীর সৈয়দ জয়নুল আবেদীন ৭৭ হাজার ৩৬৭ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন; নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির তানভীর আহমেদ পেয়েছেন ৭৪ হাজার ৪৪৭ ভোট।

ঢাকা-৫ আসনে জামায়াতে ইসলামীর মো: কামাল হোসেন ৯৬ হাজার ৬৪১ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির মো: নবী উল্লা পেয়েছেন ৮৭ হাজার ৪৯১ ভোট।

ঢাকা-৬ আসনে বিএনপির ইশরাক হোসেন ৭৮ হাজার ৮৫০ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন; নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর আব্দুল মান্নান পেয়েছেন ৫৫ হাজার ৬৯৭ ভোট।

ঢাকা-৭ আসনে বিএনপির হামিদুর রহমান এক লাখ চার হাজার ৬৬৬ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন; নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর এনায়েত উল্লা পেয়েছেন ৯৮ হাজার ৪৮৩ ভোট।

ঢাকা-৮ আসনে বিএনপির মির্জা আব্বাস ৫৯ হাজার ৩৬৬ ভোট পেয়ে জয়ের স্বাদ পেয়েছেন; তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী এনসিপির নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী পেয়েছেন ৫৪ হাজার ১২৭ ভোট।

ঢাকা-৯ আসনে বিএনপির হাবিবুর রশিদ হাবিব পেয়েছেন এক লাখ ১১ হাজার ২১২ ভোট। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী এনসিপির মোহাম্মদ জাবেদ মিয়া পেয়েছেন ৫৩ হাজার ৪৬০ ভোট। এ আসনের আলোচিত স্বতন্ত্র প্রার্থী তাসনিম জারা পেয়েছেন ৪৪ হাজার ৬৮৪ ভোট।

ঢাকা-১০ আসনে বিএনপি প্রার্থী শেখ রবিউল আলম ৮০ হাজার ৪৩৬ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন; নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর জসিম উদ্দীন পেয়েছেন ৭৭ হাজার ১৩৬ ভোট।

ঢাকা-১১ আসনে এনসিপির নাহিদ ইসলাম ৯৩ হাজার ৮৭২ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন; নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির এম এ কাইয়ুম পেয়ছেন ৯১ হাজার ৮৩৩ ভোট।

ঢাকা-১২ আসনে জামায়াতে ইসলামীর সাইফুল আলম ৫৩ হাজার ৭৭৭ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাইফুল হক পেয়েছেন ৩০ হাজার ৯৬৩ ভোট। বিএনপির বিদ্রোহী সাইফুল আলম নীরব পেয়েছেন ২৯ হাজার ৮৬৯ ভোট।

ঢাকা-১৩ আসনে জয় পেয়েছেন ধানের শীষের প্রার্থী ববি হাজ্জাজ। তিনি পেয়েছেন ৮৮ হাজার ৩৮৭টি। অন্য দিকে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মামুনুল হক পেয়েছেন ৮৬ হাজার ৬৭টি ভোট।

ঢাকা-১৪ আসনে জামায়াতে ইসলামীর মীর আহমাদ বিন কাসেম এক লাখ এক হাজার ১১৩ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন; নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির সানজিদা ইসলাম তুলি পেয়েছেন ৮৩ হাজার ৩২৩ ভোট।

ঢাকা-১৫ আসনে জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান ৮৫ হাজার ১৩১ ভোট পেয়ে জয়লাভ করেছেন; নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির শফিকুল ইসলাম খান পেয়েছেন ৬৩ হাজার ৫১৭ ভোট।

ঢাকা-১৬ আসনে জামায়াতে ইসলামীর আব্দুল বাতেন ৮৮ হাজার ৮২৮ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন; নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির আমিনুল হক পেয়েছেন ৮৫ হাজার ৪৬৭ ভোট।

ঢাকা-১৭ আসনে বিএনপির তারেক রহমান ৭২ হাজার ৬৯৯ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন; নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর স ম খালিদুজ্জামান পেয়েছেন ৬৮ হাজার ৩০০ ভোট।

ঢাকা-১৮ আসনে বিএনপির এস এম জাহাঙ্গীর এক লাখ ৪৪ হাজার ৭১৫ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী এনসিপির আরিফুল ইসলাম পেয়েছেন এক লাখ ১১ হাজার ২৯৭ ভোট।

ঢাকা-১৯ বিএনপির প্রার্থী দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন এক লাখ ৯০ হাজার ৯৭৬ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী এনসিপির প্রার্থী দিলশানা পারুল পেয়েছেন এক লাখ ২৫ হাজার ২৮৩ ভোট।

ঢাকা-২০ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী তমিজ উদ্দিন এক লাখ ৬২ হাজার ৫০৪ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন; তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) শাপলা কলি প্রতীকের প্রার্থী নাবিলা তাসনিম পেয়েছেন ৫৭ হাজার ৭৮৭ ভোট।

চট্টগ্রামের ১৪ আসনে বিএনপি ও ২টিতে জামায়াত জয়ী

বিশেষ সংবাদদাতা চট্টগ্রাম থেকে জানান, চট্টগ্রামের ১৬টি আসনের মধ্যে ১৪টি আসনেই ধানের শীষের প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছেন। আর বাকি দু’টি আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের দুই প্রার্থী জয়লাভ করেছেন।

চট্টগ্রামে জয়ী বিএনপির ১৪ প্রার্থীর মধ্যে ১০ জনই প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। আর জামায়াতের দুই জনের মধ্যেও একজন প্রথমবারের মতো সংসদে যাচ্ছেন।

চট্টগ্রাম-১ মিরসরাই আসনে বিএনপি প্রার্থী নুরুল আমিন এক লাখ ২৮ হাজার ৭৯৯ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর ছাইফুর রহমান (দাঁড়িপাল্লা) পেয়েছেন ৮৪ হাজার ৫৩৮ ভোট।

চট্টগ্রাম-২ ফটিকছড়ি আসনে বিএনপির সরোয়ার আলমগীর এক লাখ ৩৮ হাজার ৫৪৫ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর মোহাম্মদ নুরুল আমিন পেয়েছেন ৬২ হাজার ১৬০ ভোট।

চট্টগ্রাম-৩ সন্দ্বীপ আসনে বিএনপির মোস্তফা কামাল পাশা পোস্টাল ভোটসহ ৭৩ হাজার ৩৭ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর আলাউদ্দীন সিকদার পেয়েছেন ৩৯ হাজার ৬৬২ ভোট।

চট্টগ্রাম-৪ সীতাকুন্ড ও চসিক আংশিক আসনে বিএনপির মোহাম্মদ আসলাম চৌধুরী এক লাখ ৪২ হাজার ৬৭৪ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর মো: আনোয়ার ছিদ্দিক পেয়েছেন ৮৯ হাজার ২৬৮ ভোট।

চট্টগ্রাম-৫ হাটহাজারী আসনে বিএনপির মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন এক লাখ ৪৭ হাজার ৫৪ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী খেলাফত মজলিসের মাওলানা মো: নাসির উদ্দীন মুনির পেয়েছেন ৪৬ হাজার ৫৯৪ ভোট।

চট্টগ্রাম-৬ রাউজান আসনে বিএনপির গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী এক লাখ ১২ হাজার ২৩৭ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ইসলামী ফ্রন্টের মোহাম্মদ ইলিয়াছ নূরী পেয়েছেন ২৭ হাজার ১৪৬ ভোট। আসনটিতে জামায়াতের শাহজাহান মঞ্জু পেয়েছেন ২২ হাজার ১১৮ ভোট।

চট্টগ্রাম-৭ রাঙ্গুনিয়া আসন থেকে বেসরকারি ফলাফলে নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপির হুম্মাম কাদের চৌধুরী। তিনি পেয়েছেন এক লাখ ১ হাজার ৪৪৫ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর ডা: এ টি এম রেজাউল করিম পেয়েছেন ৪১ হাজার ৭১৯ ভোট।

চট্টগ্রাম-৮ চান্দগাঁও-বোয়ালখালী আসনে বিএনপির এরশাদ উল্লাহ এক লাখ ৫২ হাজার ৯৬৯ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের ডা: আবু নাসের পেয়েছেন ৫৩ হাজার ৫৬৪ ভোট।

চট্টগ্রাম-৯ কোতোয়ালি-বাকলিয়া আসনে বিএনপির মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান এক লাখ ৯ হাজার ৩৮৮ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর ডা: এ কে এম ফজলুল হক পেয়েছেন ৫৩ হাজার ৪০৭ ভোট।

চট্টগ্রাম-১০ ডবলমুরিং-পাহাড়তলী-খুলশী আসনে বিএনপির সাঈদ আল নোমান এক লাখ ২১ হাজার ৩৬৪ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর মুহাম্মদ শামসুজ্জমান হেলালী পেয়েছেন ৭৪ হাজার ৪০৭ ভোট।

চট্টগ্রাম-১১ বন্দর-পতেঙ্গা আসনে বিএনপি প্রার্থী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী এক লাখ ১৫ হাজার ৯৯৯ পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের মোহাম্মদ শফিউল আলম পেয়েছেন ৭৬ হাজার ৬৮১ ভোট।

চট্টগ্রাম-১২ পটিয়া আসনে বিএনপির প্রার্থী এনামুল হক এনাম এক লাখ ৩৫ হাজার ৪৪ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ইসলামী ফ্রন্টের ছৈয়দ এয়ার মোহাম্মদ পেয়ারু পেয়েছেন ২৮ হাজার ৯৯৯ ভোট। আসনটিতে জামায়াতের ডা: ফরিদুল আলম পেয়েছেন ২১ হাজার ৭০৬ ভোট।

চট্টগ্রাম-১৩ আনোয়ারা-কর্ণফুলী আসনে বিএনপির প্রার্থী সরোয়ার জামাল নিজাম এক লাখ ২৬ হাজার ১৯২ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ইসলামী ফ্রন্টের এস এম শাহজাহান পেয়েছেন ৫১ হাজার ৪৫০ ভোট। আসনটিতে জামায়াতের মাহমুদুল হাসান পেয়েছেন ৩৫ হাজার ৩০ ভোট।

চট্টগ্রাম-১৪ চন্দনাইশ-সাতকানিয়া (আংশিক) বিএনপির প্রার্থী জসিম উদ্দিন আহমদ ৭৬ হাজার ৪৯৩ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের এলডিপির ছাতা প্রতীকের প্রার্থী অধ্যাপক ওমর ফারুক পেয়েছেন ৭৫ হাজার ৪৬৭ ভোট।

চট্টগ্রাম-১৫ লোহাগাড়া-সাতকানিয়া আসনে জামায়াতে ইসলামীর শাহজাহান চৌধুরী এক লাখ ৮১ হাজার ২৩৮ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির নাজমুল মোস্তফা আমীন পেয়েছেন এক লাখ ৩০ হাজার ৬৬১ ভোট।

চট্টগ্রাম-১৬ বাঁশখালী আসনে জামায়াতে ইসলামীর মাওলানা জহিরুল ইসলাম ৯৩ হাজার ১৬৭ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরী পাপ্পা পেয়েছেন ৮৩ হাজার ১০৫ ভোট। আসনটিতে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী লেয়াকত আলী পেয়েছেন ৫৫ হাজার ৪৯২ ভোট।