গোমস্তাপুর (চাঁপাইনবাবগঞ্জ) সংবাদদাতা
চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুরে বাঙ্গাবাড়ি সীমান্তে ২৮ জনকে পুশইনের চেষ্টা করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। তবে বিজিবি তা প্রতিরোধ করেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার ভোর রাতে গোমস্তাপুর উপজেলার বাঙ্গাবাড়ি ইউনিয়নের ওই সীমান্তের ২০৩/৬-আর পিলারের কাছে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে তাদের প্রবেশ করার সময় এই ঘটনা ঘটে। বর্তমানে ২৮ জনই ভারতীয় শূন্য লাইনে অবস্থান করছে। এদের মধ্যে ১২ জন পুরুষ, ১০ জন নারী এবং ছয়জন শিশু রয়েছে। ১৬-বিজিবি নওগাঁ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম মাসুম এক বার্তায় এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
বিজিবি জানায়, বৃহস্পতিবার ভোর রাতে বাঙ্গাবাড়ি বিওপির সদস্যরা সংবাদ পেয়ে ওই সীমান্ত এলাকায় যায়। তারা জানতে পারেন ভারতীয় ১২ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের আশরাফপুর ক্যাম্পের সদস্যরা ২০৩/৬-আর পিলারে কাছ দিয়ে ২৮ জন ব্যক্তি বাংলাদেশী অভ্যন্তরে প্রবেশ করার চেষ্টা করছে। পরে বিওপির সদস্যরা ওই ব্যক্তিদের ভারতীয় সীমান্তের শূন্য লাইনের মধ্যে অবস্থান শনাক্ত করে। বর্তমানে তারা ওই সীমান্তে অবস্থান করছে।
বিজিবি জানিয়েছে, বিএসএফ সীমান্ত এলাকায় অতিরিক্ত জনবল মোতায়েন করেছে এবং বিভিন্ন পোস্টে অবস্থান নিয়েছে।
১৬-বিজিবি নওগাঁ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম মাসুম জানায়, প্রথমে কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে ও পরবর্তীতে সেক্টর কমান্ডার পর্যায়ে দু’টি ফ্লাগ মিটিং অনুষ্ঠিত হয় কিন্তু কোনো সিদ্ধান্ত ছাড়াই ফ্লাগ মিটিং শেষ হয়। বর্তমানে সীমান্তে পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। ২৮ জন ব্যক্তিকে আবার ভারতীয় ভূখণ্ডে ফেরত পাঠানোর জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। একই সাথে সীমান্ত এলাকায় টহল ও নজরদারি আরো জোরদার করা হয়েছে।
এদিকে বাঙ্গাবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সারিকুল ইসলাম সাদ্দাম হোসেন বলেন, বিজিবি বিষয়টি তাকে অবহিত করেছেন।
সীমান্তে বিজিবির টহল জোরদার
পঞ্চগড় প্রতিনিধি জানান, ভারত থেকে বাংলাদেশে অবৈধ অনুপ্রবেশ ও পুশইন ঠেকাতে সীমান্তে বিশেষ অভিযান শুরু করেছে বিজিবি। সীমান্তবর্তী গ্রামগুলোতে নিয়মিত মাইকিংয়ের মাধ্যমে স্থানীয় জনগণকে সচেতন করা হচ্ছে। কোনো সন্দেহজনক ব্যক্তি বা কার্যকলাপ চোখে পড়লে তাৎক্ষণিকভাবে বিজিবি ক্যাম্প বা বিওপিকে অবহিত করার আহ্বান জানানো হচ্ছে। সেই সাথে স্থানীয়দের নিয়ে রাতভর বিশেষ অভিযান শুরু করেছে নীলফামারী ৫৬ ব্যাটালিয়নের সদস্যরা। গত বুধবার রাতে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেন নীলফামারী ৫৬ বিজিবি ব্যাটালিয়ন। প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বুধবার রাত থেকে ব্যাটালিয়নের দায়িত্বপূর্ণ সব কোম্পানি ও বিওপির এলাকায় পুশইন এবং অবৈধ অনুপ্রবেশ প্রতিরোধে বিজিবির নেতৃত্বে স্থানীয় চেয়ারম্যান, মেম্বার, গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও সাধারণ জনগণকে সাথে নিয়ে সীমান্তবর্তী এলাকায় বিশেষ টহল পরিচালনা করা হচ্ছে।
এ দিকে দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকায় সার্বক্ষণিক নজরদারি ও টহল কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ সীমান্ত পয়েন্টগুলোতে অতিরিক্ত টহল পরিচালনার পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী বিশেষ টহলও পরিচালিত হচ্ছে। বিশেষ করে রাতে সীমান্ত এলাকায় নিবিড় নজরদারি নিশ্চিত করতে হ্যান্ডমাইক, বাঁশি, টর্চলাইট, সার্চলাইট ও নাইট ভিশন গগল্সসহ বিভিন্ন আধুনিক পর্যবেক্ষণ সরঞ্জাম ব্যবহার করা হচ্ছে। সন্দেহভাজন ব্যক্তি ও অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের গতিবিধির ওপর গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে।
এ বিষয়ে নীলফামারী ৫৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল মো: সিরাজুল ইসলাম জানান, এসব কর্মসূচিতে পুশইন ও অবৈধ অনুপ্রবেশের ঝুঁকি এবং প্রতিরোধে জনসম্পৃক্ততার গুরুত্ব তুলে ধরা হচ্ছে। একই সাথে সব সীমান্ত অপরাধ বন্ধে বিশেষভাবে কাজ শুরু করা হয়েছে। দেশের সীমান্ত সুরক্ষা ও অবৈধ অনুপ্রবেশ প্রতিরোধসহ সব অপরাধের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান ও নজরদারি আগামীতেও অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।



