যুদ্ধবিরতির প্রভাব পড়েনি পেট্রল পাম্পে

দীর্ঘ লাইনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা

আমিনুল ইসলাম
Printed Edition

চলছে আমেরিকা ইসরাইল ইরানের যুদ্ধবিরতি। খুলে দেয়া হয়েছে হরমুজ প্রণালী। চলাচল শুরু করেছে জ্বালানিবাহী জাহাজ। তবুও হুড়োহুড়ি কমছে না পেট্রল পাম্পগুলোতে। দীর্ঘ লাইনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করছেন জ্বালানিপ্রত্যাশীরা। তারা বলছেন, যদি সবই ঠিক হয়ে যায় তাহলে সরকার কেন চাহিদা অনুযায়ী জ্বালানি সরবরাহ করছে না। তাদের ধারণা দেশে জ্বালানি তেলের যথেষ্ট অভাব রয়েছে।

এ দিকে পাম্প কর্তৃপক্ষ বলছে, অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে কয়েকগুণ বেশি তেল বিক্রি করছেন তারা। তারপরও গ্রাহকের চাহিদা মেটাতে পারছেন না। অথচ আগে এই গ্রহকদের অনেকেই মাত্র ৫০ টাকার টাকা তেল নিয়েছেন। তারাই এখন ট্যাংক ফুল করে তেল নিয়ে মজুদ করেছেন। জ্বালানি মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, স্বাভাবিক সময়ে দিনে সাড়ে ১২ হাজার টন জ্বালানি সরবরাহ করা হতো। সেখানে বর্তমানে ১৪ হাজার টনের বেশি দিয়েও সামাল দেয়া যাচ্ছে না।

গতকাল বুধবার দুপুরে রাজধানীর কয়েকটি তেলের পাম্প ঘুরে দেখা গেছে আগের মতোই লাইন ধরে তেলের জন্য আপেক্ষা করছেন গ্রাহকরা। যুদ্ধ বিরতির বিন্দুমাত্র প্রভাব পড়েনি তাদের মধ্যে। যানবাহনের ট্যাংকে তেল থাকা সত্ত্বেও পুনরায় তেল নিতে ঠায় দাঁড়িয়ে রয়েছেন।

রাজধানীর অন্যতম পেট্রল পাম্প ট্রাস্টের সামনে গিয়ে দেখা যায় দীর্ঘ লাইন, যা জাহাঙ্গীর গেট পার হয়ে শাহীন কলেজ অতিক্রম করে মহাখালী রেলগেট ছুই ছুই করছে। এক লাইনে রয়েছে প্রাইভেট কার। তার পাশে মোটরসাইকেল। লাইন ধরে সামনে আগোতে ফ্যালকন ভবনের সামনে দেখা গেলো একজন বাইকার তার মোটরসাইকেলের ট্যাংক খুলে প্লাস্টিকের চিকন পাইপের মাধ্যমে তেল টেনে বোতলে ভরছেন। সাংবাদিক দেখে তড়িঘড়ি করে বোতল লুকানোর চেষ্টা করেন। কী করছেন জানতে চাইলে এক গাল হেসে দিয়ে বলেন, ট্যাংক ফুল থাকলে পাম্প থেকে তেল দিবে না। তাই বোতলে ঢেলে ট্যাংক খালি করছি। যুদ্ধ বিরতি চলছে, তেলের সঙ্কট হবে না তারপরও কেন এই কাজ করছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এক সপ্তাহ দেখি তারপর বুঝা যাবে। অপর এক গ্রাহক বলেন, দেশে যদি তেলের সঙ্কট না থাকবে তাহলে চাহিদা অনুযায়ী তেল দিচ্ছে না কেন? তেল শেষ হয়ে গেলে আর পাওয়া যাবে না এমন শঙ্কা থেকেই কষ্ট করে লাইন দাঁড়িয়ে রয়েছেন।

রোকেয়া সরণির বাসস্ট্যান্ডসংলগ্ন হাসান ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার মোহাম্মদ সুজন মিয়া বলেন, যদ্ধ বিরতির পর সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়ে এখনো স্পষ্ট কোনো নির্দেশনা পাইনি। তবে প্রতিদিনের মতো বুধবারও এক গাড়ি তেল এসেছে। যুদ্ধবিরতি স্থায়ী হলে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হতে পারে, তবে এতে সময় লাগবে।

সনি সিনেমা হলসংলগ্ন স্যাম অ্যাসোসিয়েটস লিমিটেড পেট্রল পাম্পের হেড অব অ্যাডমিন আবদুল মমিন রিপন বলেন, যুদ্ধবিরতির প্রভাব এখনো আমাদের বাংলাদেশের ওপর সরাসরি পড়েনি। আগের মতোই প্রতিদিন প্রায় ৯ হাজার লিটার পেট্রল ও ৯ হাজার অকটেন পাচ্ছি। তবে গ্রাহকের চাপ এখনো অনেক বেশি। তিনি আরো জানান, মোটরসাইকেলে ৫০০ টাকার তেল দেয়া হচ্ছে, তবে চাপ বেশি থাকলে তা কমিয়ে ৩০০ টাকায় নামিয়ে আনা হয়। প্রাইভেটকারে সাধারণত ১০ লিটার, বিশেষ ক্ষেত্রে ১৫ থেকে ২০ লিটার পর্যন্ত তেল দেয়া হচ্ছে।

পাম্প কর্তৃপক্ষের ধারণা, যুদ্ধবিরতি স্থায়ী হলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের সরবরাহ বাড়বে এবং ধীরে ধীরে দেশের জ্বালানি পরিস্থিতিও স্বাভাবিক হতে পারে। তবে পুরোপুরি স্বস্তি পেতে আরো কিছুদিন সময় লাগবে।