পাকিস্তানকে রুখে দিলো মারুফ বাহিনী

Printed Edition

ক্রীড়া প্রতিবেদক

বাংলাদেশ ০-০ পাকিস্তান

বাংলাদেশে মানসম্পন্ন ফুটবলারের অভাব নেই। যে ফুটবলারই দেশের পক্ষে খেলার সুযোগ পেয়েছেন শতভাগেরও বেশি দিয়েছেন। ফলে যখনই এই ফুটবলাররা আন্তর্জাতিক ম্যাচে খেলার সুযোগ পেয়েছেন তখনই নিজেদের প্রমাণের চেষ্টা করেছেন। তা ক্লাব লেভেলে হোক বা লাল-সবুজ জার্সিতে। সেটারই আরেকটি উদহারন গতকাল মালদ্বীপের মালে স্টেডিয়ামে। দেশটির ডায়মন্ড জুবলি ফুটবল টুর্নামেন্টে গতকাল পাকিস্তানের মুখোমুখি হয়েছিল বাংলাদেশ অলিম্পিক দল। ছয়-সাত প্রবাসী ফুটবলার নিয়ে গড়া পাকিস্তান জাতীয় দল। কিন্তু ১০ জনের লাল-সবুজ দল এরপরও রুখে দিয়েছে পাকিস্তানকে। গোলশূন্যতে ড্র হওয়া এই ম্যাচে মারুফুল হক বাহিনী যদি সহজ সুযোগগুলো হাতছাড়া না করত তাহলে হয়তো ৩ পয়েন্ট নিয়ে মাঠ ছাড়তে পারত। তা না হওয়ায় কয়েক সিনিয়র ফুটবলার নিয়ে গড়া বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২৩ দল এখন ৪ জুন খেলবে আফগানিস্তানের বিপক্ষে। এরপর ৭ জুন খেলবে স্বাগতিক মালদ্বীপের বিপক্ষে। চার দলের লিগ পর্ব শেষে পয়েন্ট তালিকার সেরা দুই দল ১০ জুন ফাইনালে খেলবে। সে সাথে বাংলাদেশ দলের ড্র করার পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন গোলরক্ষক মেহেদী হাসান শ্রাবণ। বেশ কয়েকটি দুর্দান্ত সেভ করে তিনি হয়েছেন ম্যাচ সেরা। গতরাতেই ম্যাচ ছিল মালদ্বীপ ও আফগানিস্তানের।

পাকিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশ দল সবশেষ ম্যাচ জিতেছিল ২০১৮ ঢাকা সাফ ফুটবলে। সেবার থ্রো থেকে আসা বলে গোলটি করেছিলেন তপু বর্মণ। কাল মারুফ বাহিনী একাধিক গোলেই জিততে পারত। তবে প্রথমার্ধে সৌরভ দেওয়ান এবং মোর্শেদ আলীর মিস যেমন তাদের গোল পেতে দেয়নি তেমনি বিরতির পর মজিবুর রহমান জনিদের গোল করতে ব্যর্থতাও ৩ পয়েন্ট পেতে দেয়নি। এর পরও এই ড্র বাংলাদেশের ফুটবলের জন্য দারুণ ইতিবাচক ফল। কারণ তারা অলিম্পিক দল বা দ্বিতীয় সারির জাতীয় দল হয়েও অপরাজিত থেকেছে পাকিস্তানের মূল জাতীয় দলের বিপক্ষে।

এই মুহূর্তে বাংলাদেশের তিনটি জাতীয় দল দেশের বাইরে। নারী ফুটবল দল সাফ ফুটবল খেলতে অবস্থান করছে ভারতে। সিনিয়র মূল জাতীয় দল আছে সানমেরিনোতে। আর অলিম্পিক দল খেলছে মালদ্বীপে। এই মালের মাঠেই সর্বশেষ অনূর্ধ্ব-২০ পুরুষ সাফে বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল ভারতকে টাইব্রেকারে হারিয়ে। সেই ধারা বজায় রেখেই কাল মনজুরুর রহমান মানিকের নেতৃত্বাধীন দল পয়েন্ট এনে ছেড়েছে পাকিস্তানের বিপক্ষে।

এবারের লিগ ও ফেডারেশন কাপ মিলে দুই হ্যাটট্রিকসহ ১২ গোল করেছিলেন সৌরভ দেওয়ান। কাল তিনি জীবনে প্রথম লাল-সবুজ জার্সিতে অভিষেক ঘটান। মোহামেডানের এই স্ট্রাইকার শুরুতেই এনে দিতে পারতেন বাংলাদেশ দলকে লিড। ডান দিক থেকে আসা ক্রসে ছোট বক্সের উপর বল পেয়ে যান তিনি। কিন্তু তার ফাঁকা অবস্থানে থেকেও নেয়া ডান পায়ের শট চলে যায় বার উঁচিয়ে। ঠিক যেভাবে এবারের ফেডারেশন কাপে গোল মিস করেছিলেন বসুন্ধরা কিংসের বিপক্ষে। এর পরপরই পাকিস্তানি গোলরক্ষককে একা পেয়ে যান মোর্শেদ আলী। তিনিও পারেননি বল জালে পাঠাতে। কোনাকুনি অ্যাংগেল থেকে তার নেয়া শট সোজা চলে যায় বিপক্ষ গোলরক্ষকের কাছে।

বিরতির পর পাকিস্তান গোলের জন্য চড়াও হয়ে খেলতে থাকে। তবে গোল পায়নি কপাল দোষে আর বাংলাদেশের শেষ প্রহরী শ্রাবণের প্রতিরোধে। ৫৪ মিনিটে আলমগীর আলী খান গাজীর শটে শ্রাবণ পরাস্ত হলেও তা পোস্টে প্রতিহত হয়। এরপর ৬১ মিনিটে জনির হেড বারের উপর দিয়ে যায়। সেই সময়ই পাকিস্তানি গোলরক্ষকের সাথে হাতাহাতি হয় বাংলাদেশী ফুটবলারদের। এতে মালদ্বীপের রেফারি লালকার্ড দেখান মিডফিল্ডার মানিক হোসেন মোল্লাকে। এতে ১০ জনে পরিণত হয় বাংলাদেশ দল। তবে গোল হজম করতে হয়নি কারণ পোস্টের নিচে ছিলেন শ্রাবণ। ৬৭ মিনিটে দুই দফা সেভ করেন তিনি। ৬৭ মিনিটে লাল-সবুজরা গোল পায়নি অল্পের জন্য। আবদুল্লাহ ওমরের ক্রস ফাঁকায় থাকা আল আমিনের কাছে যাওয়ার আগেই তা পাকিস্তানি ডিফেন্ডার কর্নার করেন। ৯২ মিনিটে বাংলাদেশ দলকে হতাশ করেন বিপক্ষ হারুনুর রশীদ। এরপর ৯৫ মিনিটে শ্রাবণ প্রতিপক্ষ হারুনের শট কর্নার করে দলকে ১ পয়েন্ট এনে দেন।

২০০৯ সালে নেপালের প্রধানমন্ত্রী ফুটবল টুর্নামেন্টে আরামবাগ ক্রীড়া সংঘ ১-১ গোলে ড্র করেছিল পাকিস্তানের সাথে। তখন আরামবাগের খেলোয়াড়র ছিলেন বাফুফের সভাপতি তাবিথ আওয়াল।