হজ আমার ভেতরের মানুষকে বদলে দিয়েছে : দুরেফিশান

Printed Edition
হজ আমার ভেতরের মানুষকে বদলে দিয়েছে : দুরেফিশান
হজ আমার ভেতরের মানুষকে বদলে দিয়েছে : দুরেফিশান

সাকিবুল হাসান

গ্ল্যামার জগতের উপচে পড়া আলো, তুমুল করতালি আর সাফল্যের রাজমুকুট সবকিছুই যেন এক নিমেষে ম্লান হয়ে যায় পরম সৃষ্টি কর্তার দরবারে। ক্যারিয়ারের মধ্যগগনে দাঁড়িয়ে, রাজকীয় চাকচিক্যের মোহময় মায়া পেছনে ফেলে হৃদয়ে এক অদ্ভুত আকুলতা নিয়ে পবিত্র কাবা শরিফের আঙিনায় হাজির হয়েছিলেন পাকিস্তানি নাট্যজগতের অন্যতম শীর্ষ তারকা দুরেফিশান সেলিম।

‘খাই’, ‘ইশক মুর্শিদ’ কিংবা ‘কৈসি তেরি খুদগার্জি’-এর মতো ব্লকবাস্টার নাটকে অভিনয়ের মাধ্যমে যিনি জয় করেছেন বিশ্বজুড়ে কোটি ভক্তের মন, জীবনের সেই সুবর্ণ সময়েই তিনি নিজেকে সঁপে দিলেন এক আধ্যাত্মিক আত্মশুদ্ধির সফরে। মা-বাবার হাত ধরে সম্পন্ন করলেন পবিত্র হজ। মক্কা-মদিনার পুণ্যভূমি থেকে ফিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে তার দেওয়া একটি অত্যন্ত আবেগঘন পোস্ট এখন নেট দুনিয়ায় ভাসছে প্রশংসার জোয়ারে। সেই পোস্টে দুরেফিশান মার্জিত আবায়া পরা বিমানবন্দর ও যাতায়াতের কিছু স্নিগ্ধ ছবিও শেয়ার করেছেন, যা তার এই পবিত্র সফরের নীরব সাক্ষী। ইনস্টাগ্রামে হজের এই পরম অভিজ্ঞতাকে তিনি আখ্যা দিয়েছেন ‘সবর, শোকর আর তাওয়াক্কুলের এক অনন্য গল্প’ হিসেবে।

দুরেফিশান গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে জানান, তার মা ও বাবার মানসিক ও শারীরিক শক্তি ছিল মাশাআল্লাহ দেখার মতো, যা তাকে পুরো সফরে সাহস জুগিয়েছে। অথচ হজের প্রথম দিনেই শয়তানকে পাথর মারার সময় তিনি নিজে ভীষণ অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। কিন্তু মা-বাবার অসামান্য সহযোগিতা ও অনুপ্রেরণায় এই কঠিন ইবাদত সম্পন্ন করতে সক্ষম হন তিনি।

যাপনচিত্রের মধুর স্মৃতিচারণ করে এই অভিনেত্রী আরো বলেন, সেখানে এমন কিছু চমৎকার মেয়ের সাথে আমার পরিচয় হয়েছে যাদের সাথে আমরা তাঁবুতে একসাথে নামাজ পড়েছি, কেঁদেছি, হেসেছি আর ক্যাম্পের সাধারণ খাবার ভাগ করে খেয়েছি। তাদের মুখ থেকে তাকওয়ার কিছু অসাধারণ গল্প শুনেছি। কথার চেয়ে মানুষের যাপন ও আচরণের মাধ্যমেই ধর্মকে আমি আরো কাছ থেকে ও গভীরভাবে শিখেছি। হজ তার ভেতরের মানুষকে পুরোপুরি বদলে দিয়েছে উল্লেখ করে দুরেফিশান লেখেন, আমি সৌদি আরব থেকে নিজের সাথে করে কী নিয়ে ফিরছি তা হয়তো ভাষায় প্রকাশ করতে পারব না, তবে আমি মক্কা-মদিনায় কী ফেলে এসেছি তা ভালো করেই জানি।

এতদিন ধরে মনের ভেতর জাগতিক চিন্তা, লোভ আর আবেগের যে ভারী ও ক্লান্তিকর বোঝা আমি বয়ে বেড়াচ্ছিলাম তা আমি ওখানেই চিরতরে ফেলে এসেছি। সব ধরনের পার্থিব মোহ থেকে মুক্ত হয়ে আল্লাহর কাছে নিজেকে সঁপে দেয়াই হলো হজের আসল শিক্ষা। এই আত্মসমর্পণ ও মোহমুক্তিটাই আমি আগামী দিনে নিজেকে বারবার মনে করিয়ে দিতে চাই। এখন আমার শরীর ক্লান্তিতে ও ব্যথায় ভেঙে আসছে ঠিকই, কিন্তু আমার মনটা আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে এক স্বর্গীয় শান্তিতে ও পূর্ণতায় ভরে গেছে।

পোস্টের শেষে এই দক্ষিণ এশীয় তারকা তার অনুসারীদের হজের শুভেচ্ছা জানান এবং পৃথিবীর সমস্ত মুসলিমের জন্য দোয়া করেন, যেন আল্লাহ সবাইকে অন্তত একবারের জন্য হলেও এই ফরজ ইবাদত পালনের তাওফিক দান করেন। একই সাথে তিনি প্রার্থনা করেন, যখনই কেউ এই পবিত্র দায়িত্ব পালন করবেন, আল্লাহ যেন তাদের বাহ্যিক পরিবর্তনের চেয়েও ভেতরের আত্মিক রূপান্তরকে আরও বেশি সুন্দর, গভীর ও অর্থবহ করে তোলেন।