বাউফলে বিএনপি-জামায়াত দফায় দফায় সংঘর্ষ, আহত ৪০

Printed Edition

পটুয়াখালী প্রতিনিধি

পটুয়াখালী-২ (বাউফল) আসনে দাঁড়িপাল্লা ও ধানের শীষ প্রতীকের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়েছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ৪০ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ২৪ জনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে এবং প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে চারজনকে বরিশাল শেরেবাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

গতকাল দুপুরে নদীবেষ্টিত চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। এরপর বিকেল পৌনে চারটার দিকে পৌর শহরে ফের উভয় দলের কর্মী-সমর্থকরা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন।

পরে পৌর শহরে বিক্ষোভ মিছিল করে জামায়াতে ইসলামীর কর্মীরা। তারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সংলগ্ন এলাকায় বিএনপির এক কর্মীকে ধাওয়া দেয়ার পর বিএনপির নেতাকর্মীরা সংঘবদ্ধ হয়ে পাল্টা ধাওয়া দেয়। এতে ঘটনাস্থলে ফের সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন তারা।

কিছু সময় পরে বিএনপির সংসদ সদস্য প্রার্থী একটি সমাবেশে যাওয়ার পথে বাউফল থানার ফটকে তার গাড়ি আটকে দেয় জামায়াত সমর্থকরা। খবর পেয়ে বিএনপির নেতাকর্মীরা ঘটনাস্থলে গেলে সেখানেও বিশৃঙ্খল পরিবেশ সৃষ্টি হয়। এরপর উপজেলা বিএনপি কার্যালয়ের সামনেসহ কয়েকটি স্থানে জামায়াত সমর্থকদের সাথে বিএনপি সমর্থকদের সংঘর্ষ হয়।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ভান্ডারিয়া বাজার এলাকায় দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের সমর্থনে জামায়াতের নারীকর্মীরা প্রচারণা চালালে ধানের শীষ সমর্থিত বিএনপি কর্মীরা তাদের বাধা দেয়। এ সময় নারীকর্মীদের টেনে-হিঁচড়ে শ্লীলতাহানির চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ করেছেন তারা।

পরবর্তীতে পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী ৯ নম্বর ওয়ার্ডের চরঅডেল খানকা বাজার থেকে দাঁড়িপাল্লার সমর্থনে ১১ দলীয় ঐক্যের একটি মিছিল শুরু হলে বিএনপি কর্মী সোহেল রাড়ি (৩৫), আনোয়ার (৪০), মোহাম্মদ (৪৫), আবু কালাম (৪৫), নাইম (৩০) ও ফিরোজ (৩৫)-এর নেতৃত্বে প্রায় দেড় শতাধিক লোক রামদা, চাইনিজ কুড়াল, রডসহ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে মিছিলে পেছন দিক থেকে হামলা চালায়। এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ও পিটিয়ে জামায়াত কর্মীদের আহত করা হয়। একপর্যায়ে তাদের অবরুদ্ধ করে রাখা হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে।

হামলায় আহতদের মধ্যে দাঁড়িপাল্লার সমর্থিত জামাল মৃধা (২২), মিয়া জান, আবুল হাশেম (৪৪), জুয়েল (৩৪), নয়ন (১৭), সজীব মাঝি (১৭), শাহজালাল (২০), আলামিন (২৫), সাইফুল (৩৫), সুজন (৩২), রোজিনা (৩২), তানজিলা (২৬), আশরাফুল (৪০), নূর মাদবার (৩৮), আমিনুল (৩২), ইব্রাহিম (৩০), সালাম (৩০), সোহেল (১৮), আব্দুস সুবহান (৪০), আনিসুর রহমান (৫৫), শহিদুল (২৮) ও সোহরাব (২৭) রয়েছেন। তাদের বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় দেলোয়ার হোসেন মৃধা নামে একজন বিএনপি কর্মীও আহত হন।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: আ: জানান, আহত ২২ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে জামাল মৃধা নামে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে বরিশাল শেরেবাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আরো পাঁচজনের অবস্থা গুরুতর। বাকিদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেয়া হয়েছে।

ঘটনার প্রতিবাদে জামায়াত ও ছাত্রশিবিরের হাজারো নেতাকর্মী বিভিন্ন দিক থেকে বাউফল শহরে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেন। তারা হামলার সাথে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। পাশাপাশি প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বাউফল থানার ওসিকে প্রত্যাহারের দাবিও তোলা হয়।

জামায়াতে ইসলামীর অভিযোগ রয়েছে চন্দ্রদ্বীপের জামায়াতের নেতাকর্মীদের উপর হামলাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেয়ায় বাউফল থানার ওসি সিদ্দিকুর রহমানের অপসারণের দাবিতে থানা ঘেরাও করেছে জামায়াতে ইসলামের নেতাকর্মীরা, বর্তমানে সেনাবাহিনী ও পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করছে।

এদিকে হামলার ঘটনায় আহতদের দেখতে হাসপাতালে যান ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী ডক্টর শফিকুল ইসলাম মাসুদ। তিনি বলেন, প্রশাসন নিরপেক্ষতা হারালে একের পর এক সহিংস ঘটনা ঘটতেই থাকে। এ ধরনের হামলা কোনোভাবেই মেনে নেয়া হবে না। তিনি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের স্বার্থে অবিলম্বে ওসিকে প্রত্যাহার এবং জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জানান। তিনি বাউফলবাসীকে ১২ তারিখ ব্যালটের মাধ্যমে এর উপযুক্ত জবাব দেয়ার আহ্বান জানান।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে থানা পুলিশের কোনো কর্মকর্তা কথা বলতে রাজি হননি। তবে জানিয়েছেন, আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।