বিশেষ সংবাদদাতা
দেশের বিভিন্ন কারাগারে আটক হত্যাসহ বিভিন্ন মামলার আসামি এবারো কারাগারে থেকেই। এবার এসএসসি, দাখিল ও কারিগরি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন মোট ১৪ জন।
ঢাকার বকশী বাজারের কারা অধিদফতরে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এবার যে ১৪ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিচ্ছেন তাদের মধ্যে কাশিমপুর কারাগার-২-এ একজন, ময়মনসিংহ কেন্দ্রীয় কারাগারে একজন, জামালপুর জেলা কারাগারে একজন, নেত্রকোনা জেলা কারাগারে একজন, নোয়াখালী জেলা কারাগারে একজন, বগুড়া জেলা কারাগারে একজন, সিরাজগঞ্জ জেলা কারাগারে দু’জন, ঝিনাইদহ জেলা কারাগারে একজন, বরগুনা জেলা কারাগারে একজন, দিনাজপুর জেলা কারাগারে একজন, খুলনা জেলা কারাগারে-১-এ একজন, ঝালকাঠি জেলা কারাগারে একজন এবং শেরপুর জেলা কারাগারে একজন বন্দী পরীক্ষা দিচ্ছেন।
কারাগার সংশ্লিষ্টরা জানান, কারাগারের অফিস রুমকে পরীক্ষার কেন্দ্র হিসাবে ব্যবহার করা হয়। দেশে পরীক্ষার কেন্দ্রগুলোতে যে নিয়মে এবং যে সময়ে অনুষ্ঠিত হয় ঠিক একই নিয়ম ও একই সময়ে কারাগারেও পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।
কারাবন্দীদের পরীক্ষা গ্রহণ করা প্রসংগে কারা মহাপরিদর্শক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ মোহাম্মদ মোতাহের হোসেন গতকাল নয়া দিগন্তকে বলেন, কারাগার থেকে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অনুকূলে বন্দীরা নিয়মিতভাবে পাবলিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে থাকে। উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের মাধ্যমে কোনো বন্দী পড়াশোনা চালিয়ে যেতে চাইলে সে ক্ষেত্রেও কারা কর্তৃপক্ষ সহযোগিতা করবে বলে জানান তিনি।
অতিরিক্ত আইজি প্রিজন্স (বন্দী ব্যবস্থাপনা) মো: জাহাংগীর কবীর এ প্রসঙ্গে নয়া দিগন্তকে বলেন, জ্ঞানার্জন মানুষের জন্মগত অধিকারও বটে। এ অধিকার রক্ষায় কারা কর্তৃপক্ষ সবসময় আন্তরিক।
প্রসঙ্গ, ২০২০ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত কারাগার থেকে বিভিন্ন পরীক্ষায় ঢাকা ডিভিশন- ময়মনসিংহ, রাজশাহী, রংপুর, চট্টগ্রাম, খুলনা, বরিশাল ও সিলেট ডিভিশন থেকে মোট ৪২৯ জন বন্দীকে পরীক্ষায় অংশগ্রহণের ব্যবস্থা করেছিলেন কারা কর্তৃপক্ষ। এ বছর যে ১৪ বন্দী কারাগারে আটক থেকে এসএসসি, দাখিল ও কারিগরি পরীক্ষা দিচ্ছেন তাদের বিভিন্ন অভিযোগে মামলা রয়েছে।
গতকাল শনিবার বিকেলে ঢাকা বিভাগের (২) ডিআইজি প্রিজন মো: টিপু সুলতান নয়া দিগন্তকে বলেন, কাশিমপুর-২-১এর পরীক্ষার্থীর বয়স ১৮ হবে। সে একটি হত্যা মামলার আসামি বলে জানান তিনি।



