কূটনৈতিক প্রতিবেদক
চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়েন ইর সাথে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক আগামী ৬ মে বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত হবে। বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর এটা চীনে উচ্চপর্যায়ের প্রথম সফর। এই সফরে চীনের আর্থিক ও কারিগরি সহায়তায় তিস্তার মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন, অন্যান্য প্রকল্প হাতে নেয়ার সম্ভাবনা এবং দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ঘাটতি কমিয়ে আনার উপায় নিয়ে আলোচনা হবে। পররাষ্ট্রমন্ত্রীর চীন সফরটি হবে ৫ থেকে ৭ মে। এ সফরে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরীসহ সরকারের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হবেন। বিডা চীনে একটি কার্যালয় খোলার পরিকল্পনা নিয়ে অগ্রসর হচ্ছে।
বাংলাদেশের অনুরোধে চীন তিস্তা মহাপরিকল্পনায় বিনিয়োগের আগ্রহ দেখিয়েছিল। এ ব্যাপারে সম্ভাব্যতা যাচাই করা হয়েছে। তবে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের শেষ মেয়াদে ভারত তিস্তা প্রকল্পে অর্থায়নের আগ্রহ প্রকাশ করে। ভারতের মূল ভূখণ্ডের সাথে উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোর সংযোগ স্থাপনকারী ‘চিকেন নেক’ হিসেবে পরিচিত এলাকাটি সামরিক দিক থেকে স্পর্শকাতর বিবেচনা করা হয়। এ অঞ্চলের কাছাকাছি তিস্তা প্রকল্প নিয়ে চীনের কাজ করার ব্যাপারে দিল্লির আপত্তি রয়েছে। তবে ভারত একইসাথে পশ্চিমবঙ্গের আপত্তির কারণে তিস্তা নদীর পানি বণ্টন নিয়ে বাংলাদেশের সাথে চুক্তি করতেও সক্ষম হচ্ছে না।
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস গত বছর এপ্রিলে বেইজিং সফরের সময় চীনকে তিস্তা প্রকল্প বাস্তবায়নে আনুষ্ঠানিকভাবে আমন্ত্রণ জানান। এর ভিত্তিতে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) মাধ্যমে চীনের কাছে প্রকল্পের অর্থায়ন প্রস্তাব পাঠিয়েছে। প্রকল্পের প্রথম পর্যায় (ফেইজ-১) বাস্তবায়নে প্রায় ৭৫ কোটি ডলারের প্রয়োজন, যার মধ্যে ৫৫ কোটি ডলার চীন থেকে ঋণের মাধ্যমে নেয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাংলাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন প্রকল্পের পরিকল্পনা, যার মূল লক্ষ্য হলো তিস্তা নদী অববাহিকার টেকসই ব্যবস্থাপনা। এই মহাপরিকল্পনার আওতায় কৃষি, সেচ, পানি সংরক্ষণ, নদীশাসন, বন্যা নিয়ন্ত্রণ এবং পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষার মতো বিভিন্ন খাতে ব্যাপক উন্নয়ন কর্মকাণ্ড গ্রহণের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে উত্তরবঙ্গের দীর্ঘদিনের পানিসঙ্কট নিরসন হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান প্রথম দ্বিপক্ষীয় সফরে তুরষ্ক গিয়েছিলেন। এতে অন্যান্য দ্বিপক্ষীয় ইস্যুর পাশাপাশি জাতিসঙ্ঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি পদে বাংলাদেশের প্রার্থিতার পক্ষে সমর্থন নিয়ে আলোচনা হয়েছে। দ্বিতীয় সফরে তিনি ভারত গিয়েছেন। এই সফরে ভিসা সহজীকরণ, গণ-অভ্যুত্থানের পর ভারতে আশ্রয় নেয়া প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ইনকিলাব মঞ্চের নেতা ওসমান হাদির হত্যায় জড়িত ও ভারতে গ্রেফতারকৃত দুই আসামিকে বাংলাদেশে প্রত্যর্পণ এবং জ্বালানি সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে এটিকে ‘শুভেচ্ছা সফর’ বলা হলে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ‘সরকারি সফর’ হিসেবেই গণ্য করেছে। আর তৃতীয় সফরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী যাচ্ছেন চীন।



