নিজস্ব প্রতিবেদক
খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা আবদুল বাছিত আজাদ বলেছেন, ‘দেশের শ্রমজীবী মানুষ আজও তাদের পূর্ণাঙ্গ অধিকার থেকে বঞ্চিত। অথচ মালিকপক্ষ ও শ্রমিকদের পারস্পরিক সম্পর্ক এবং বুঝাপড়া যেকোনো প্রতিষ্ঠানকে অর্থনৈতিকভাবে সফল করতে পারে। প্রত্যেক শ্রমিকের তার শ্রম অনুযায়ী ন্যায্য ও যৌক্তিক মজুরি পাওয়ার অধিকার রয়েছে। শ্রমিকদের জন্য কাজের একটি নিরাপদ ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিশ্চিত করা মালিকপক্ষ বা নিয়োগ কর্তার অন্যতম দায়িত্ব। শ্রমিকের নিয়মিত বিশ্রাম, সাপ্তাহিক ছুটি ও কর্মঘণ্টার অতিরিক্ত কাজের পারিশ্রমিক ওভারটাইম হিসেবে পরিশোধ করা মালিকপক্ষের দায়িত্ব। অন্য দিকে চুক্তি অনুযায়ী নিষ্ঠার সাথে তার কর্মসম্পাদন করা শ্রমিকের নৈতিক দায়িত্ব। কর্মক্ষেত্রে দুর্ঘটনার শিকার হলে শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণ ও চিকিৎসাপ্রাপ্তি, স্বাস্থ্য ও মাতৃত্বকালীন ছুটিপ্রাপ্তির অধিকার রয়েছে।
গতকাল শুক্রবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে অনুষ্ঠিত ‘ন্যাশনাল লেবার রিপ্রেজেন্টেটিভ কনভেনশন ২০২৬’ অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
মাওলানা আবদুল বাছিত আজাদ বলেন, শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার ও মর্যাদা যত দিন প্রতিষ্ঠিত না হবে তত দিন সংগ্রাম চলবে। সরকারের কাছে দাবি জানাতে চাই, শিশুদের দিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ বা বাধ্যতামূলক শ্রমের কাজ বন্ধ করতে হবে। আসন্ন কোরবানি ঈদের আগেই শ্রমিকদের সব বেতনভাতা আদায় করতে হবে। ঈদে সাধারণ মানুষের যাতায়াত নির্বিঘœ ও সম্পূর্ণ নিরাপদ করতে হবে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উত্তরণ ঘটাতে হবে।
কনভেনশনে সাত দফা প্রস্তাব পেশ করা হয় এবং প্রোগ্রাম শেষে এক বর্ণাঢ্য র্যালি জাতীয় প্রেস ক্লাব থেকে শুরু করে পল্টন মোড় হয়ে বায়তুল মোকাররামের উত্তর গেটে এসে সমাপ্ত হয়।
এতে সম্মানিত অতিথি ছিলেন খেলাফত মজলিস মহাসচিব ড. আহমদ আবদুল কাদের, কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য মাওলানা নোমান মাজহারী, যুগ্ম মহাসচিব ড. মোস্তাফিজুর রহমান ফয়সল, অধ্যাপক আবদুল জলিল, কেন্দ্রীয় সমাজকল্যাণ সম্পাদক আমিনুর রহমান ফিরোজ প্রমুখ।
অন্যান্য শ্রমিক সংগঠনের কেন্দ্রীয় দায়িত্বশীলদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ও বক্তব্য রাখেন- বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল সহসভাপতি মেহেদী হাসান খান ও আবুল কালাম আজাদ, বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন সহসভাপতি অধ্যাপক হারুন অর রশিদ, বাংলাদেশ শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার এ এ এম ফয়েজ হোসেন, বাংলাদেশ শ্রমিক আন্দোলনের সহসভাপতি আলহাজ হারুন-অর রশিদ, বাংলাদেশ শ্রমিক অধিকার পরিষদ সভাপতি আবদুর রহমান, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক জোটের সাধারণ সম্পাদক ও সম্মিলিত শ্রমিক পরিষদ (এসএসপি) প্রধান সমন্বয়ক মোশাররফ হোসেন মন্টু, বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক নৃপেন পাল, বাংলাদেশ বহুমুখী পেশাজীবী ও হকার সমিতির সভাপতি বাচ্চু ভূঁইয়া, জাতীয় শ্রমিক শক্তি আহ্বায়ক মাজহারুল ইসলাম ফকির, শ্রম সংস্কার আন্দোলনের সভাপতি সোহেল সিকদার, শ্রমিক মুক্তি কাউন্সিল আহ্বায়ক সোহেল রানা সম্পদ, ঢাকা জেলা সিএনজি অটোরিকশা ও মিশুক চালক ইউনিয়ন সাধারণ সম্পাদক শাখাওয়াত হোসেন দুলাল, শ্রমিক নেত্রী জান্নাতুল ফেরদাউসসহ আরো অনেক নেতারা।



