সুন্দরবনে পর্যটনের অপার সম্ভাবনা

সুন্দরবনসংলগ্ন ঢাংমারী খালের তীর ঘেঁষে ১৩টি বন থিমযুক্ত ইকো রিসোর্ট গড়ে উঠেছে। এগুলো দেশী-বিদেশী পর্যটকদের এখন প্রধান আকর্ষণ। গোলপাতা, কাঠ এবং বাঁশ দিয়ে তৈরি অনন্য নকশা করা রিসোর্টগুলো দর্শনার্থীদের প্রাকৃতিক প্রশান্তির পাশাপাশি আধুনিক সুযোগ-সুবিধা দিচ্ছে। একসময় ভ্রমণের কষ্ট এবং সুযোগ-সুবিধার অভাবে পর্যটকরা এখানে আসতে চাইতো না; কিন্তু এখন বেসরকারি উদ্যোগে এসব ইকো রিসোর্ট তৈরি হওয়ায় বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বনে পর্যটকরা এখন আরামদায়ক থাকার ব্যবস্থা উপভোগ করতে পারেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক
Printed Edition

সুন্দরবনে পর্যটনের অপার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। বন-সংলগ্ন ঢাংমারী খালের তীরবর্তী লোকালয়ের পাশেই গড়ে ওঠা ইকো রিসোর্ট ঘিরে এমন প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। পাশাপাশি স্থানীয় জীবন মান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে এসব রিসোর্ট।

স্থানীয় বিভিন্ন সূত্র জানায়, সুন্দরবনসংলগ্ন ঢাংমারী খালের তীর ঘেঁষে ১৩টি বন থিমযুক্ত ইকো রিসোর্ট গড়ে উঠেছে। এগুলো দেশী-বিদেশী পর্যটকদের এখন প্রধান আকর্ষণ। গোলপাতা, কাঠ এবং বাঁশ দিয়ে তৈরি অনন্য নকশা করা রিসোর্টগুলো দর্শনার্থীদের প্রাকৃতিক প্রশান্তির পাশাপাশি আধুনিক সুযোগ-সুবিধা দিচ্ছে। একসময় ভ্রমণের কষ্ট এবং সুযোগ-সুবিধার অভাবে পর্যটকরা এখানে আসতে চাইতো না; কিন্তু এখন বেসরকারি উদ্যোগে এসব ইকো রিসোর্ট তৈরি হওয়ায় বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বনে পর্যটকরা এখন আরামদায়ক থাকার ব্যবস্থা উপভোগ করতে পারেন।

স্থানীয়দের ভাষ্য, তাদের জীবন-জীবিকা সুন্দরবনের ওপরই নির্ভরশীল ছিল। ফলে বৈধ-অবৈধভাবে বনের সম্পদ থেকেই জীবিকা আহরণ করতে হতো; কিন্তু এখন গ্রামে ইকো রিসোর্ট গড়ে ওঠায় কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়েছে। এখন আর সুন্দরবনের সম্পদ ধ্বংস করতে হয় না। এসব রিসোর্ট ঘিরে গ্রামের পরিবেশও পরিবর্তিত হচ্ছে। মানুষ তাদের জীবন-জীবিকা ও সার্বিক কর্মকাণ্ডে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে সক্ষম হয়েছে।

সুন্দরবন-সংলগ্ন খুলনার দাকোপ উপজেলার ঢাংমারী গ্রামের ইরাবতী ইকো রিসোর্ট অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টার ও পিয়ালী ইকো রিসোর্ট অ্যান্ড কালচারাল সেন্টারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো: কামাল খান জানান, তিনি এবং স্ত্রী কবি আঁখি সিদ্দিকা সর্বপ্রথম ২০২১ সালে ইরাবতী ইকো রিসোর্ট অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টারের কাজ শুরু করে ২০২২ সালে যাত্রা শুরু করেন। পরে একই এলাকায় ২০২৩ সালে পিয়ালী ইকো রিসোর্ট অ্যান্ড কালচারাল সেন্টার গড়ে তোলেন।

স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, তাদের দেখাদেখি পরবর্তীতে অনেক উদ্যোক্তা এগিয়ে আসেন। বর্তমানে ঢাংমারী গ্রামেই ১৩ রিসোর্ট চালু রয়েছে। আগামী এক বছরের মধ্যে আরো সাতটি ইকো রিসোর্ট চালু হওয়ার প্রক্রিয়ায় রয়েছে। এসব ইকো রিসোর্ট সুন্দরবনের বাইরে সম্পূর্ণ ব্যক্তি মালিকানা জমিতে গড়ে উঠেছে। এখানে এক দিকে যেমন দেশী-বিদেশী পর্যটকরা অবস্থান করে খুব কাছ থেকেই সুন্দরবনের প্রাকৃতিক পরিবেশ উপভোগ করতে পারেন, অন্য দিকে স্থানীয় বাসিন্দারা বিভিন্ন কর্মসংস্থানের সুযোগ পাচ্ছেন।

সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের আওতাধীন ঘাগরামারী ফরেস্ট ক্যাম্পের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহ মোহাম্মদ আবদুল্লাহ বলেন, অনুন্নত বন-সংলগ্ন এলাকায় এই রিসোর্টগুলো গড়ে ওঠায় স্থানীয়দের বিকল্প কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। অবৈধ বন উজাড়ও কমেছে। পর্যটন উন্নয়নের জন্য সরকারি প্রকল্পের পাশাপাশি এ ধরনের বেসরকারি উদ্যোগ সুন্দরবন অঞ্চলে দেশী-বিদেশী পর্যটকদের আকৃষ্ট করবে। এটি জাতীয় পর্যটন অর্থনীতিকে আরো চাঙা করবে।

বন বিভাগের রেকর্ড অনুসারে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সুন্দরবনে দর্শনার্থীর সংখ্যা বহুগুণে বেড়েছে। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে যেখানে এক লাখ ২৮ হাজার ১৭৫ জন পর্যটক সুন্দরবন ভ্রমণ করেছিলেন। সেখানে ২০২২-২৩ অর্থবছরে প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। ২২-২৩ অর্থবছরে মোট দুই লাখ ১৬ হাজার ১৪৩ জন পর্যটক সুন্দরবন ভ্রমণ করেছেন। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ভ্রমণ করেছেন দুই লাখ ১১ হাজার ৫৭ জন পর্যটক।

বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, পর্যটন সম্ভাবনার কথা বিবেচনা করে বন বিভাগ আরো চারটি নতুন পর্যটন অঞ্চল যুক্ত করেছে। এগুলো হলো শরণখোলার আলীবান্ধা, চাঁদপাই রেঞ্জের আন্ধারমানিক, খুলনা রেঞ্জের শেখেরটেক ও কৈলাশগঞ্জ। এ ছাড়া কটকা, কচিখালী, দুবলার চর, হিরণ পয়েন্ট, হারবাড়িয়া, কলাগাছিয়া, করমজলসহ নতুন স্পটগুলোতেও পর্যটকদের ভিড় বাড়ছে।