আলি জামশেদ বাজিতপুর (কিশোরগঞ্জ)
কিশোরগঞ্জে সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (ইপিআই) এর বিভিন্ন টিকার ঘাটতি দেখা দেয়ায় মা ও শিশুদের স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। জেলার বিভিন্ন উপজেলা ও ইউনিয়নের কমিউনিটি ক্লিনিকে প্রয়োজনীয় টিকা না পেয়ে হতাশ হয়ে ফিরছেন অনেকেই। নিয়মিত টিকাদান কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় জনস্বাস্থ্য নিরাপত্তা নিয়ে এখন শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
নিকলী, বাজিতপুরসহ বিভিন্ন এলাকার কমিউনিটি ক্লিনিক সরেজমিন দেখা গেছে, সকাল থেকে শিশুকে নিয়ে টিকাকেন্দ্রে অপেক্ষা করছেন অভিভাবকরা। কিন্তু টিকা না থাকায় অনেককেই খালি হাতে ফিরছেন। এতে নির্ধারিত সময়ে টিকা না পাওয়ায় শিশুদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে বলে জানান তারা।
বাজিতপুর উপজেলার জাহাঙ্গীর আলম বলেন, চার মাস বয়সী সন্তানকে এখনো নির্ধারিত টিকা দিতে পারিনি। একাধিকবার কমিউনিটি ক্লিনিকে গিয়েও টিকা না পেয়ে ফিরে আসতে হয়েছে।
একই ধরনের অভিযোগ করেন আরো কয়েকজন অভিভাবক। তাদের দাবি, স্বাস্থ্যকর্মীরা টিকা সঙ্কটের কথা জানিয়ে পরে আসতে বলছেন।
জেলার কয়েকটি কমিউনিটি ক্লিনিকের স্বাস্থ্যকর্মীরা জানান, দীর্ঘদিন ধরেই কিছু গুরুত্বপূর্ণ ইপিআই টিকার সরবরাহ কম রয়েছে। ফলে নির্ধারিত সময় অনুযায়ী শিশুদের টিকা দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। স্বাস্থ্য সচেতন অনেকেই বলছেন, নিয়মিত টিকাদান ব্যাহত হলে হাম, পোলিও, ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও নিউমোনিয়ার মতো ঝুঁকিপূর্ণ রোগের প্রাদুর্ভাব বাড়তে পারে। তাই দ্রুত টিকার সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা। নিকলী উপজেলা ইপিআই টেকনোলজিস্ট মোহাম্মদ আবদুল্লাহ বলেন, ইপিআই টিকা শিশুদের বিভিন্ন প্রাণঘাতী রোগ প্রতিরোধে অত্যন্ত কার্যকর। তবে সারা দেশের মতো নিকলীতেও ওপিভি টিকার ঘাটতি রয়েছে। কিশোরগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা: অভিজিত শর্মা টিকার ঘাটতির বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, অতীতের ঘাটতি বর্তমান সরবরাহ দিয়ে সমন্বয়ের চেষ্টা চলছে। তিনি জানান, আগামী এক মাসের মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে পারে।



