পশ্চিমতীর নিয়ে ভুল পথে হাঁটছে ইসরাইল : ইইউ

Printed Edition

আনাদোলু

অধিকৃত পশ্চিমতীরে ইসরাইলের নেয়া নতুন প্রশাসনিক পদক্ষেপগুলোকে আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী বলে ঘোষণা করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) এবং ইউরোপের প্রভাবশালী দেশগুলো। তারা সতর্ক করে বলেছে যে, তেল আবিবের এই সিদ্ধান্ত চলমান শান্তি প্রচেষ্টাকে চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করবে। এই পদক্ষেপের ফলে অঞ্চলটিতে উত্তেজনা আরো বাড়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছে সংশ্লিষ্ট দেশগুলো।

ইউরোপীয় কমিশনের প্রেস ব্রিফিংয়ে ইইউর মুখপাত্র আনোয়ার এল আনুনি বলেছেন, ‘পশ্চিমতীরে ইসরাইলি নিয়ন্ত্রণ সম্প্রসারণের জন্য ইসরাইলের নিরাপত্তা মন্ত্রিসভার সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তের নিন্দা জানাচ্ছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন।’ তিনি আরো উল্লেখ করেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় যখন গাজা উপত্যকার জন্য বিস্তৃত পরিকল্পনার দ্বিতীয় ধাপ বাস্তবায়নের চেষ্টা করছে, তখন এ ধরনের পদক্ষেপ ভুল পথে যাওয়ার একটি নিদর্শন হয়ে থাকবে।

গত রোববার ইসরাইলি নিরাপত্তা মন্ত্রিসভা পশ্চিমতীরে ইসরাইলি নিয়ন্ত্রণ জোরদার করতে ওই এলাকার আইনি ও নাগরিক কাঠামো পরিবর্তনের অনুমোদন দেয়। এই পদক্ষেপের নিন্দা জানিয়েছে ইইউ ছাড়াও ফ্রান্স, জার্মানি, যুক্তরাজ্য, স্পেন এবং বেলজিয়াম। ইসরাইলি গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, দেশটির নিরাপত্তা মন্ত্রিসভা পশ্চিমতীর সংক্রান্ত বেশ কিছু আইন বাতিলের নির্দেশ দিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ফিলিস্তিনি জমি ইহুদিদের কাছে বিক্রির ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়া, জমির মালিকানার রেকর্ড উন্মুক্ত করা এবং হেবরনের একটি বসতি ব্লকে ভবন নির্মাণের অনুমতিপত্র ফিলিস্তিনি পৌরসভার হাত থেকে ইসরাইলের বেসামরিক প্রশাসনের কাছে হস্তান্তর করা।

জার্মান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আনাদোলুকে বলেছেন, ‘ইসরাইলের এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে দেশটির বাধ্যবাধকতার লঙ্ঘন করবে এবং দ্বি-রাষ্ট্র সমাধানের পথে আরো একটি প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি করবে।’ ব্রিটেনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘ফিলিস্তিনের ভৌগোলিক বা জনসংখ্যাগত গঠন পরিবর্তনের যেকোনো একতরফা প্রচেষ্টা সম্পূর্ণরূপে অগ্রহণযোগ্য এবং আন্তর্জাতিক আইনের সাথে অসঙ্গতিপূর্ণ হবে।’ বিবৃতিতে তারা ইসরাইলকে অবিলম্বে এই সিদ্ধান্তগুলো প্রত্যাহার করার আহ্বান জানিয়েছেন। স্পেনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাদের বিবৃতিতে উল্লেখ করেছে, ইসরাইলি সিদ্ধান্তগুলো পশ্চিমতীরের স্থিতাবস্থা পরিবর্তন করবে এবং ১৯৬৭ সালের সীমান্তের ভিত্তিতে একটি ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রের আঞ্চলিক ও রাজনৈতিক ঐক্যকে ক্ষুণœ করবে। দেশটি তেল আবিবকে তার বাধ্যবাধকতা মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে। অন্য দিকে ফ্রান্সের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, যখন আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টা গাজা শান্তি পরিকল্পনার দ্বিতীয় ধাপ বাস্তবায়নের ওপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করছে, তখন এই সিদ্ধান্তগুলো চলমান শান্তি প্রচেষ্টাকে দুর্বল করবে এবং উত্তেজনা বৃদ্ধির ঝুঁকি তৈরি করবে। এ ছাড়া এই পদক্ষেপগুলো দ্বি-রাষ্ট্রীয় সমাধানের জন্য একটি গুরুতর আঘাত বলেও মন্তব্য করেছে ফ্রান্স।