জেলা প্রশাসক (ডিসি) নিয়োগের জন্য ফিটলিস্ট তৈরি করছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। গতকাল রোববার ২১ কর্মকর্তার ফিটলিস্টের ভাইভা নেয়া হয়েছে। বিসিএস প্রশাসন ক্যাডার ২৯তম ব্যাচের এসব কর্মকর্তার মধ্যে চারজন রয়েছেন যারা ছাত্রলীগের সুপারিশ নিয়ে বাবার মুক্তিযুদ্ধের সার্টিফিকেট না থাকলেও এমনকি মুক্তিযোদ্ধা কোটাতে আবেদন না করেও অবৈধভাবে এই ব্যাচের সাথে যোগদান করেছেন। জালিয়াতি করে যোগদান করায় তাদের বিরুদ্ধে চলমান রয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশনের মামলা। আগে কোনো নোটিশ না দিয়ে নজিরবিহীনভাবে ফোন করে ডেকে নেয়া হয়েছে এই ভাইভা। ফলে এই ফিটলিস্ট তৈরি ও ভাইভা গ্রহণের প্রক্রিয়া নিয়ে চলছে নানা আলোচনা-সমালোচনা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের দীর্ঘ দিনের রেওয়াজ অনুযায়ী জেলা প্রশাসক ফিটলিস্টের ভাইভার জন্য আগে থেকে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নোটিশ দেয়া হয়। এই নোটিশ প্রকাশ করা হয় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটেও; কিন্তু গত মঙ্গলবার এবং গতকাল রোববার নজিরবিহীনভাবে প্রশাসন ক্যাডারের ২৮তম ও ২৯তম ব্যাচের ৬৯ কর্মকর্তাকে ফোন করে ডেকে নেয় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।
ভাইভার তালিকা বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, তালিকার ১১ নম্বরে রয়েছে ছাত্রলীগের সুপারিশ নিয়ে বাবার মুক্তিযুদ্ধের সার্টিফিকেট না থাকলেও এমনকি মুক্তিযোদ্ধা কোটাতে আবেদন না করেও অবৈধভাবে নিয়োগ পাওয়া বাংলাদেশ বনশিল্প উন্নয়ন করপোরেশনের সচিব নাহিদা বারিক-এর নাম। আওয়ামী শাসনামলে এই কর্মকর্তা সহকারী কমিশনার হিসেবে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে যোগদান করেন। এরপর সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে বন্দর উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়, ফতুল্লা রাজস্ব সার্কেল, নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার, কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিবের একান্ত সচিব, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের মতো গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় চাকরি করেছেন। অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় আসার পর তাকে বনশিল্প করপোরেশনে বদলি করা হয়।
তালিকার ১৪ নম্বরে রয়েছেন ২৯ বিসিএসএ এসআরও এর মাধ্যমে ছাত্রলীগ কোটায় নিয়োগ পাওয়া পরিকল্পনা বিভাগের উপপ্রধান নাসরীন পারভীন। এই কর্মকর্তা আওয়ামী আমলে গাজীপুরের জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার, মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার, টাঙ্গাইলের ভুয়াপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার, জামালপুর ও গাজীপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের মতো গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় ছিলেন। অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় এলে তাকে পরিকল্পনা বিভাগে বদলি করা হয়। তালিকার ১৩ নম্বরে রয়েছে একইভাবে নিয়োগ পাওয়া সাজিয়া আফরিনের নাম।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক কর্মকর্তা জানান, ডিসি ফিটলিস্টের ভাইভা সবসময় জনপ্রশাসনের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়; কিন্তু এবার এর ব্যতিক্রম ঘটেছে। এর পেছনে অসৎ কোনো উদ্দেশ্য না থাকলে এমনটি হওয়ার কথা নয়। সরকারের উচ্চপর্যায়ের কিছু কর্মকর্তা এমন বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছেন বলে মনে করেন এসব কর্মকর্তা।
ডিসি পদে পদায়ন নীতিমালায় বলা হয়েছে, ‘বিসিএস (প্রশাসন) ক্যাডারের কর্মচারীগণের মধ্য হইতে উপসচিব পদে পদোন্নতি প্রাপ্তির এক বছর পর জেলা প্রশাসক পদে পদায়নের জন্য ফিটলিস্ট প্রণয়ন করা হইবে। ফিটলিস্ট প্রণয়নের ক্ষেত্রে উপপরিচালক, স্থানীয় সরকার বা অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক বা সচিব, জেলা পরিষদ বা প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, পৌরসভা এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উভয় পদে মোট ন্যূনতম ২ (দুই) বছরের চাকরির অভিজ্ঞতা থাকিতে হইবে। পূর্ববর্তী ৫ (পাঁচ) বছরের বার্ষিক গোপনীয় অনুবেদনের রেকর্ড এবং সমগ্র চাকরিজীবনের শৃঙ্খলা প্রতিবেদন সন্তোষজনক হইতে হইবে। প্রকল্প ও ক্রয় ব্যবস্থাপনা সম্পর্কিত জ্ঞান, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি সম্পর্কে সম্যক ধারণা, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিষয় সম্পর্কে জানা এবং বাংলা ও ইংরেজি ভাষায় দক্ষতা থাকিতে হইবে। ম্যাজিস্ট্রেসি ও ভূমি ব্যবস্থাপনা বিষয়ে অভিজ্ঞতাসম্পন্ন হইতে হইবে।’


