রয়টার্স
বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রতি সাধারণ মানুষের দৃষ্টিভঙ্গিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের আভাস পাওয়া গেছে। আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘নিরা ডেটা’ প্রকাশিত ‘গ্লোবাল কান্ট্রি পারসেপশনস-২০২৬’ শীর্ষক জরিপে দেখা গেছে, বর্তমানে বিশ্বজুড়ে সবচেয়ে বেশি নেতিবাচক ধারণার মুখে রয়েছে ইসরাইল। তালিকার পরবর্তী অবস্থানে রয়েছে উত্তর কোরিয়া, আফগানিস্তান ও ইরান। অবাক করার মতো বিষয় হলো, নেতিবাচক ধারণার দিক থেকে পঞ্চম স্থানে জায়গা করে নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। গাজায় চলমান দীর্ঘমেয়াদি সঙ্ঘাত, ব্যাপক প্রাণহানি এবং ভয়াবহ মানবিক সঙ্কটের কারণে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইসরাইলের ভাবমূর্তি চরমভাবে তিগ্রস্ত হয়েছে। মানবাধিকার সংগঠন ও আন্তর্জাতিক পর্যবেকদের মতে, গাজার পরিস্থিতি বিশ্বজুড়ে দেশটির প্রতি জনমতকে আরো বেশি নেতিবাচক করে তুলেছে। অন্যদিকে, বৈশ্বিক আস্থার দিক থেকে সবচেয়ে ইতিবাচক অবস্থানে রয়েছে সুইজারল্যান্ড। এই তালিকার পরবর্তী দেশগুলো হলো কানাডা, জাপান, সুইডেন এবং ইতালি। সাধারণ মানুষ এই দেশগুলোকে তুলনামূলকভাবে বেশি আস্থার চোখে দেখে।
জরিপ অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের বৈশ্বিক গ্রহণযোগ্যতাও আশঙ্কাজনকভাবে কমেছে। বর্তমানে দেশটি জনপ্রিয়তার সূচকে রাশিয়া ও চীনের চেয়েও পিছিয়ে পড়েছে। মাত্র দুই বছরের ব্যবধানে যুক্তরাষ্ট্রের নেট রেটিং ইতিবাচক অবস্থান থেকে বড় ধরনের নেতিবাচক অবস্থানে পৌঁছেছে। বিশ্লেষকদের মতে, মিত্রদের সাথে টানাপড়েন, বিতর্কিত বাণিজ্য নীতি এবং মধ্যপ্রাচ্যসহ আন্তর্জাতিক সঙ্ঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান এই পরিবর্তনের পেছনে প্রধান ভূমিকা রেখেছে। বর্তমানে বিশ্বজনমতে রাশিয়া ও ইসরাইলের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রকেও বড় বৈশ্বিক ঝুঁকি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। একইসাথে প্রতিষ্ঠানটি ‘ডেমোক্র্যাসি পারসেপশন ইনডেক্স-২০২৬’ প্রকাশ করেছে। এতে ৯৮টি দেশের ৯৪ হাজারের বেশি নাগরিক নির্বাচন, বাকথস্বাধীনতা, আইনের শাসন এবং সরকারের স্বচ্ছতা নিয়ে তাদের সরাসরি অভিজ্ঞতা জানিয়েছেন। ১২৯টি দেশ ও তিনটি আন্তর্জাতিক সংস্থার ওপর পরিচালিত এই জরিপে ৪৬ হাজারের বেশি মানুষের মতামত নেয়া হয়েছে। প্রথাগত সূচকগুলোর মতো কেবল বিশেষজ্ঞ মতের ওপর নির্ভর না করে সাধারণ নাগরিকদের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে এই প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে।
সামগ্রিকভাবে এই বৈশ্বিক জরিপ ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে আস্থা ও গ্রহণযোগ্যতার মানচিত্র দ্রুত বদলে যাচ্ছে। বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন শক্তিশালী দেশের শাসনব্যবস্থা ও নীতি নিয়ে সাধারণ মানুষ আগের তুলনায় অনেক বেশি সমালোচনামুখী হয়ে উঠছে।



