রাজধানীতে বাংলাদেশ ব্যাংক কর্মকর্তার অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার

Printed Edition

নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর মুগদার একটি বাসা থেকে তানভীর হোসাইন শুভ (৪৫) নামে বাংলাদেশ ব্যাংকের এক অতিরিক্ত পরিচালকের অর্ধগলিত ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার রাতে উত্তর মুগদার আহমদবাগ এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে লাশ উদ্ধার করা হয়। পরে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের মর্গে পাঠায় পুলিশ। জানা যায়, ১৩ বছর আগে স্ত্রী সাথে ডিভোর্স হয়। এরপর থেকে ডিপ্রেশনে ছিলেন তিনি।

নিহত তানভীর হোসাইন শুভর বন্ধু আজাদ জানান, ঘটনাস্থলে গিয়ে জানতে পারি সে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। সবার সাথে তার তেমন যোগাযোগ ছিল না কথাও কম বলত। বিয়ের পর তার স্ত্রীর সাথে ডিভোর্স হওয়ায় সবার সাথে যোগাযোগ কম করত। কী কারণে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে, সে বিষয়টি বলতে পারছি না।

নিহতের ছোট ভাই শৈবাল জানায়, আমার ভাই বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালক ছিলেন। আমরা ছিলাম তিন ভাই, সে ছিল মেজো। ২০১২ সালে সে বিয়ে করে। বিয়ের তিন মাসের মাথায় তাদের ডিভোর্স হয়। এরপর ভাই আর বিয়ে করেনি। ঈদের আগের দিন সে আমাকে ফোন করে খোঁজখবর নেয়। তখন মনে হয়নি সে কোনো চিন্তা বা ডিপ্রেশনে আছে। মুগদার ওই বাসায় সে একাই থাকত। সে ঈদে বাড়িতে যেত না। ঢাকায় এসে একা একাই ঈদ করত। কী কারণে কেন সে কাজটি করেছে, সে বিষয়ে আমরা কিছুই বলতে পারছি না।

নিহতের বাবা তবারক হোসেন জানান, আমার সাথে তার কথা কম হতো- ঈদের আগের দিন তার সঙ্গে কথা হয়েছে, ঈদের দিনও তার সাথে নরমালি কথা হয়েছে। আমরা থাকতাম সেগুনবাগিচা এলাকায়। সে মুগদা এলাকায় একাই বাসা নিয়ে থাকত। কিভাবে কি হলো কিছুই বুঝলাম না।

বাড়ির মালিকের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, ঈদের দিন শেষবারের মতো তানভীর হোসাইনকে দেখেছিলেন বাড়ির মালিক। এরপর থেকে তার আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। মঙ্গলবার তার ঘর থেকে তীব্র দুর্গন্ধ বের হতে থাকলে বাড়ির লোকজন পুলিশে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করলে একটি কক্ষে গলায় ফাঁস লাগানো অর্ধগলিত অবস্থায় তার লাশ দেখতে পায়।

ডিএমপি মতিঝিল বিভাগের সবুজবাগ জোনের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার (এডিসি) জাহিদ হাসান বলেন, প্রতিবেশীদের মোবাইল ফোন পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পরে একটি কক্ষ থেকে তানভীর হোসাইন শুভর লাশ ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।

সুরতহাল প্রতিবেদনে মুগদা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) বোরহান উদ্দিন ভূঁইয়া উল্লেখ করেন, তার মুখ কান নাক পচে পোকা ধরে গেছে। গলায় লাল হলুদ গামছা পেঁচানো অবস্থায় তাকে পাওয়া যায়। তার সব শরীরে পচন ধরে গেছে।

মৃত্যুর কারণ হিসেবে তিনি লেখেন, মানসিক অবসাদ ও ডিপ্রেশনে সে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে থাকতে পারে। তার লাশ ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। কেন এবং কী কারণে তিনি গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন এ বিষয়টি জানার চেষ্টা চলছে বলে জানান তিনি।