ক্রীড়া প্রতিবেদক
ফিফা র্যাংকিংয়ে থাইল্যান্ডের অবস্থান ৫২। তাদের সিনিয়র নারী দল খেলে বিশ^কাপে। সেই দলের বিপক্ষে ২ গোলে লিড নিয়েছিল বাংলাদেশ। অথচ সেই দলটিই কাল ধরে রাখতে পারেনি এই অবস্থান। নারী জাতীয় দলের উঠতি বড় তারকা মোসাম্মৎ সাগরিকা। তার জোড়া গোলেই পিটার জেমস বাটলার বাহিনী দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ২-০ তে এগিয়ে গিয়েছিল। এরপর ম্যাচে থাইল্যান্ড খেলায় ফিরে এগিয়েও যায়। আর তা দুই ডিফেন্ডার সুরভী আক্তার আফরিন ও নবীরন খাতুনের দুই পেনাল্টিই শেষ করে দেয়। বাকি সময়ে স্বাগতিকরা আরো একটি গোল করে ম্যাচটি ৩-২ এ নিজেদের করে নেয়। ফলে প্রথম ম্যাচে ইতিহাস গড়া জয়ের বদলে হারে এএফসি অনূর্ধ্ব-২০ নারী ফুটবলের চূড়ান্ত পর্ব শুরু করল বাংলাদেশ। এখন তাদের পরের ম্যাচে ৪ এপ্রিল চীনের বিপক্ষে। গতকাল চীন ৩-০ গোলে হারিয়েছে ভিয়েতনামকে।
এই প্রথম এএফসি অনূর্ধ্ব-২০ নারী ফুটবলের চূড়ান্ত পর্বে খেলার যোগ্যতা অর্জন করে। র্যাংকিংয়ে থাই মেয়েরা এগিয়ে থাকলেও তারা যে ধরাছোঁয়ার বাইরে নন তা ব্যাংককের পাশের পাথুম থানির থামাসাত স্টেডিয়ামেই প্রমাণ হতে যাচ্ছিল। ‘এ’ গ্রুপের এই ম্যাচে থাইল্যান্ড শুরু থেকেই চড়াও হয়ে খেলতে থাকে। কখনো দূরপাল্লার শটে কখনো ক্রসে বাংলাদেশকে বিপদে ফেলার চেষ্টা করে। গোলরক্ষক মিলি আক্তারের প্রতিরোধে বল জালে যাচ্ছিল না। এরই মধ্যে ১৭ মিনিটে স্বপ্না রানীর শট বার ঘেঁষে যায়। ২৭ মিনিটে থাইল্য্যান্ডের গোল প্রচেষ্টা মিলি রুখে দেয়ার পর ফিরতি শট পোস্টে প্রতিহত হয়।
বাছাই পর্বে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২০ দলের অধিনায়ক ছিলেন আফঈদা খন্দকার প্রান্তি। তিনি সিনিয়র জাতীয় দলেরও অধিনায়ক। কাল অবশ্য কোচ বাটলার অর্পিতা বিশ^াসকে ক্যাপ্টেন্সি দেন। শুরুতে বাংলাদেশ হাই লাইন ডিফেন্সে খেলার চেষ্টা করলেও পরে কাউন্ডার অ্যাটাকে যায়। এই কৌশলেই ৩৬ মিনিটে এগিয়ে যাওয়া। মৌমিতা খাতুনের থ্রু পাস থেকে বল পেয়ে অনেকটা দৌড়ে থাই কিপারকে পরাস্ত করে দলকে উল্লাসে মাতান স্ট্রাইকার সাগরিকা (১-০)। বিরতির পর উমেহেলা মারমার থ্রু পাস থেকে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন সাগরিকা (২-০)। মনে হচ্ছিল নারী ফুটবলের চূড়ান্ত পর্বে প্রথম জয়ের দেখা পাওয়ার ইতিহাস গড়তে যাচ্ছে বাংলাদেশ। কিন্তু ৬৮ মিনিটে আফরিন বক্সে বিপক্ষ খেলোয়াড়কে এবং ৭৪ মিনিটে নবীরণ একই কাজ করলে পেনাল্টি পায় থাইল্যান্ড। এ থেকে জোড়া গোল আদায় কুরিসারার (২-২)। এরপর ৭৫ মিনিটে ভুল পাস থেকে বল পেয়ে পিছায়াতিদা মানোওয়ায় গোল করলে হার নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয় অনূর্ধ্ব-২০ সাফ চ্যাম্পিয়নদের (২-৩)।
কোয়ার্টার ফাইনালে যেতে হলে বাংলাদেশ দলকে এখন চীন ও ৭ তারিখে ভিয়েতনামের বিপক্ষে ৪ পয়েন্ট পেতে হবে।



