রাশেদ ঘানুচির যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

Printed Edition

আলজাজির ও মিডল ইস্ট মনিটর

তিউনিসিয়ার সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক সংগঠন আন নাহদা আন্দোলনের নেতা রাশেদ ঘানুচিকে কথিত ‘গোপন সংগঠন’ মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে দেশটির একটি আদালত। এই মামলায় ৩৫ জন আসামির বিরুদ্ধে রায় ঘোষণা করা হয়েছে। রায়ে সন্ত্রাসবাদবিষয়ক ফৌজদারি বেঞ্চ বিভিন্ন আসামিকে ১০ বছরের কারাদণ্ড থেকে শুরু করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড পর্যন্ত সাজা দিয়েছে।

মামলার রায়ে আদালত আননাহদা নেতা রাশেদ ঘানুচিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের পাশাপাশি আরো ৩০ বছরের কারাদন্ড দিয়েছে। পাশাপাশি তার উপপ্রধান আলী লারায়েধকে ৪২ বছর এবং মুস্তাফা খেদেরকে ৯৬ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।

এ ছাড়া রিধা বারুনি, আল তাহার বুবেহরি, কামাল আইফিসহ আরো সাতজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের পাশাপাশি অতিরিক্ত ৭৬ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।

তিউনিসিয়ার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা জানায়, আদালত শুধু ঘানুচিকে নন, বরং আন-নাহদা দলের সাথে সংশ্লিষ্ট আরো বহু আসামির বিরুদ্ধে রায় দিয়েছে। এর মধ্যে ১১ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। এ ছাড়া আরো ১৩ জনকে ১০ থেকে ৪৮ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।

আদালত ঘানুচি ও অন্যান্য আসামিকে ‘সন্ত্রাসী জোট গঠন’ এবং ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সাথে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও সংগঠনকে দক্ষতা ও বিশেষজ্ঞ সহায়তা প্রদান’-এর মতো অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করেছে। কারাদণ্ডের পাশাপাশি সব আসামিকে মুক্তির পর পাঁচ বছর প্রশাসনিক নজরদারিতে রাখার নির্দেশও দেয়া হয়েছে।

মামলাটির সূত্রপাত ২০২২ সালের শুরুতে। তিউনিসিয়ার রাষ্ট্রপক্ষ এবং ২০১৩ সালে নিহত বামপন্থী রাজনীতিক শোকরি বেলাইদ ও মোহাম্মদ ইবরহিমীর পরিবারের আইনজীবীরা অভিযোগ দায়ের করেন। তাদের দাবি ছিল, আন-নাহদার কথিত ‘গাপন সংগঠন’ ওই দুই নেতার হত্যাকাণ্ডে জড়িত ছিল এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে গুপ্তচরবৃত্তি ও অনুপ্রবেশ চালিয়েছে। তবে আন-নাহদা দল শুরু থেকেই এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। দলটির মতে, মামলাটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং বিরোধী কণ্ঠস্বর দমনের অংশ।

এ বছরের এপ্রিল মাসে আন-নাহদা জানিয়েছিল, কারাগারে থাকা ঘানুচির শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে জরুরি ভিত্তিতে হাসপাতালে নেয়া হয়। এরপর তার মুক্তির দাবি জানায় দলটি। একই দাবি তোলে বিরোধী জোট ন্যাশনাল স্যালভেশন ফ্রন্ট।