এনবিসি নিউজ
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের ওপর নজিরবিহীন হুমকির কারণে বর্তমান নিরাপত্তাব্যবস্থাকে অত্যন্ত অস্থিতিশীল বলে বর্ণনা করেছে দেশটির সিক্রেট সার্ভিস। সংস্থাটির শীর্ষ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ড্রোন হামলাসহ নানা ধরনের অত্যাধুনিক নিরাপত্তা ঝুঁকি মোকাবেলায় তারা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছেন। বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরে মার্কিন সিক্রেট সার্ভিস। সংবাদ সম্মেলনে সিক্রেট সার্ভিসের পরিচালক শন কারেন বলেন, ‘আমার ২৪ বছরের ক্যারিয়ারে এই সংস্থায় এত বিপুলসংখ্যক হুমকির ঘটনা আগে কখনো দেখিনি।’ তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই বর্ধিত ঝুঁকির মাত্রা সারা দেশের উচ্চপদস্থ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় কর্মকর্তাদের প্রভাবিত করছে। অন্য দিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে লক্ষ্যবস্তু করার বিষয়ে ইরানের প্রকাশ্যে অভিপ্রায় ব্যক্ত করার বিষয়টি কারো অজানা নয় বলে উল্লেখ করেন উপপরিচালক ম্যাথিউ কুইন। আগের একটি সময়ে প্রেসিডেন্টকে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা সরঞ্জাম দেয়া হয়নি স্বীকার করে তিনি জানান, সংস্থাটি এখন সম্পদ বরাদ্দের সেই সমস্যাগুলোর সমাধান করেছে।
মনুষ্যবিহীন আকাশযান বা ড্রোনকে অত্যন্ত জরুরি ও সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারের হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করেছে সিক্রেট সার্ভিস। ম্যাথিউ কুইন জানান, গোয়েন্দা তথ্য এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের মতো সঙ্ঘাতের পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে যুক্তরাষ্ট্রে ড্রোন কৌশল ব্যবহার হওয়া এখন কেবল সময়ের ব্যাপার। শন কারেন জানান, মার্কিন প্রেসিডেন্টের সাথে এখন অত্যাধুনিক শনাক্তকরণ ও প্রতিরোধ সরঞ্জাম রাখা হচ্ছে। তিনি আরো উল্লেখ করেন, এর মধ্যে কিছু প্রযুক্তি যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে প্রথমবারের মতো ব্যবহৃত হচ্ছে। ফাইবার-অপ্টিক ও ডার্ক ড্রোনের কারণে হুমকি ক্রমাগত রূপ বদলাচ্ছে স্বীকার করলেও কুইন দাবি করেন, অত্যাধুনিক প্রতিরক্ষাব্যবস্থার কারণে হোয়াইট হাউজের মতো সুরক্ষিত স্থানগুলো অত্যন্ত নিরাপদ রয়েছে। প্রত্যেক সুরক্ষিত ব্যক্তির সফরকে একটি স্বাধীন ঘটনা হিসেবে বিবেচনা করার জন্য নিজেদের কার্যপদ্ধতি পরিবর্তন করেছে সিক্রেট সার্ভিস। শন কারেন বলেন, ‘মার্কিন প্রেসিডেন্ট যদি কোনো স্থানে ১০০ বারও যান, তবুও প্রতিবারই নতুন একটি অগ্রগামী দল পাঠানো হয়। কারণ পরিবেশ এবং বাস্তব পরিস্থিতি প্রতিনিয়ত বদলায়।’ ন্যাশনাল থ্রেট অ্যাসেসমেন্ট সেন্টারের প্রধান লিনা আলাথারি জানান, গত ২৫ বছরের গবেষণায় দেখা গেছে সম্ভাব্য হামলাকারীদের কোনো নির্দিষ্ট ধরন নেই। তিনি আরো জানান, বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই কোনো ব্যক্তি, ধারণা বা মতাদর্শের প্রতি ক্ষোভ থেকে এসব হামলার উদ্দেশ্য তৈরি হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট বা অনলাইনে সন্দেহজনক আচরণ দেখে সাধারণ নাগরিকদের দেয়া তথ্যের ওপর সংস্থাটি এখন ক্রমবর্ধমানভাবে নির্ভর করছে বলেও উল্লেখ করেন আলাথারি। সব অংশীদার এখন একটি সমন্বিত কমান্ড পোস্টের অধীনে কাজ করছে জানিয়ে শন কারেন বলেন, ‘যাতে একজন যা শুনতে পায়, সবাই তা শুনতে পারে।’



