আল-আকসায় ৩,২০০ ইসরাইলির অনুপ্রবেশ

Printed Edition
কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণে জাতীয় নিরাপত্তাবিষয়ক মন্ত্রী ইতামার বেন-গভির  : ইন্টারনেট
কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণে জাতীয় নিরাপত্তাবিষয়ক মন্ত্রী ইতামার বেন-গভির : ইন্টারনেট

মিডল ইস্ট মনিটর

মুসলমানদের তৃতীয় পবিত্রতম মসজিদ আল-আকসা প্রাঙ্গণে দীর্ঘদিনের নিয়ম ভেঙে ইহুদিদের ‘তিশা বাব’ উৎসব উপলে তিন হাজার ২০০ জনেরও বেশি ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারী ও উগ্র গোষ্ঠীর সদস্য প্রবেশ করেছে। চলতি বছরে এটিকে অন্যতম বৃহৎ অনুপ্রবেশ বলে অভিহিত করেছেন ফিলিস্তিনি কর্মকর্তারা।

জেরুসালেমের ইসলামিক ওয়াকফ বিভাগ জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার সকালের শিফটে তিন হাজার ২২৮ জন ইসরাইলি নাগরিক সেখানে প্রবেশ করে। জেরুসালেম গভর্নরেটের ফিলিস্তিনি প্রশাসন আশঙ্কা ব্যক্ত করেছে, সূর্যাস্ত পর্যন্ত এই সংখ্যা পাঁচ হাজার ছুঁতে পারে, যা বিগত বছরগুলোর রেকর্ড ভেঙে দেবে। অনুপ্রবেশের সময় ইসরাইলের চরম ডানপন্থী জাতীয় নিরাপত্তাবিষয়ক মন্ত্রী ইতামার বেন-গভির কড়া পুলিশি নিরাপত্তায় উপস্থিত ছিলেন। বেন-গভিরকে উদ্ধৃত করে ইসরাইলি সংবাদপত্র হ্যারেটজ জানায়, তিনি সেখানে গিয়ে মন্তব্য করেন যে তিশা বাবে এই স্থানে এসে ইহুদিরা নিজেদের প্রকৃত মালিক বলে মনে করে।

ফিলিস্তিনি কর্তৃপ জানায়, ইসরাইলি পুলিশ সাধারণ ফিলিস্তিনিদের প্রবেশের ওপর কড়াকড়ি আরোপ করেছে, শিার্থী ও নামাজিদের বাধা দিয়েছে এবং কয়েকজনের ওপর শারীরিক নির্যাতন চালিয়েছে। পাশাপাশি, প্রবেশকারীরা সেখানে তালমুদীয় আচার-অনুষ্ঠান ও প্রার্থনা সম্পন্ন করে। ১৯৬৭ সালের চুক্তি অনুযায়ী অমুসলিমদের প্রবেশের অনুমতি থাকলেও সেখানে তাদের প্রার্থনা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এই ঘটনার তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে ফিলিস্তিনি সংগঠন হামাস একে নগ্ন আগ্রাসন বলে অভিহিত করেছে। জর্দানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একে ‘বর্বর ও চরম উসকানিমূলক আচরণ’ আখ্যা দিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে ইসরাইলের ওপর চাপ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে।

গাজা নিয়ে নতুন হামাস প্রধানের ৬ অগ্রাধিকার

গাজায় ধ্বংসাত্মক সংঘাত ও পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবেলায় নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট করেছেন হামাসের নবনির্বাচিত প্রধান খলিল আল-হায়া। দায়িত্ব নেয়ার পর প্রথম ভাষণে তিনি সংগঠনের ছয়টি প্রধান অগ্রাধিকার ঘোষণা করেছেন।

তার তালিকার শীর্ষে রয়েছে গাজায় ইসরাইলি সামরিক অভিযান সম্পূর্ণ বন্ধ করা এবং সব সেনার পূর্ণাঙ্গ প্রত্যাহার। দ্বিতীয়ত, গাজাবাসীর মানসম্মত জীবনযাত্রা ফিরিয়ে আনা, বাস্তুচ্যুত করার চক্রান্ত নস্যাৎ, পুনর্বাসন ত্বরান্বিত করা এবং ইসরাইলে বন্দী ফিলিস্তিনিদের মুক্তি। অন্যান্য অগ্রাধিকারের মধ্যে রয়েছে ফিলিস্তিন মুক্তি সংস্থাকে (পিএলও) গণতান্ত্রিক ভিত্তিতে পুনর্গঠন করতে জাতীয় সংলাপ, আরব ও মুসলিম দেশগুলোর সাথে সম্পর্ক জোরদার, গণহত্যা বন্ধে আন্তর্জাতিক চাপ বৃদ্ধি এবং জাতিসঙ্ঘ ও বিশ্ব সম্প্রদায়ের মাধ্যমে ইসরাইলি যুদ্ধাপরাধীদের বিচার নিশ্চিত করা। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের অক্টোবরে ইয়াহিয়া সিনওয়ার নিহত হওয়ার পর খলিল আল-হায়াকে হামাসের প্রধান হিসেবে মনোনীত করা হয়। ২০২৩ সালের অক্টোবরে শুরু হওয়া ভয়াবহ সংঘাতের পর ২০২৫ সালের অক্টোবরে একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়, যেখানে ৭৩ হাজারের বেশি মানুষ প্রাণ হারান।

ইসরাইলের যুদ্ধাপরাধ প্রসঙ্গে অনড় ব্রিটিশ প্রতিরামন্ত্রী

এ দিকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইসরাইলের ভূমিকা নিয়ে নিজেদের অবস্থানে অনড় থাকার বার্তা দিয়েছেন যুক্তরাজ্যের নতুন প্রতিরামন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিং। অতীতে ইসরাইলের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ তুলে করা নিজের মন্তব্য তিনি প্রত্যাহার করবেন না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন।

ফার্নবরো ইন্টারন্যাশনাল এয়ারশোতে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমার বক্তব্য রেকর্ড করা আছে। আমি যা বলেছি তা অস্বীকার করার কোনো সুযোগ নেই।’ স্ট্রিটিং যোগ করেন, কোনো দেশের বন্ধু হওয়ার অর্থ এই নয় যে তার ভুলের সমালোচনা করা যাবে না। যুক্তরাজ্য নিজের জন্য যে নীতি প্রয়োগ করে, মিত্র দেশ হিসেবে ইসরাইলকেও সেই একই মানদণ্ডে বিচার করা উচিত এবং তারা সেই মানদণ্ডে ব্যর্থ হয়েছে। ২০২৫ সালের অক্টোবরে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতির পরও পাল্টাপাল্টি হামলায় গাজায় অন্তত এক হাজার ১৫৮ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। দুই বছরের সংঘাত ও হামলায় অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকার প্রায় ৯০ শতাংশ নাগরিক অবকাঠামো ইতোমধ্যে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।