ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতার প্রতি সমর্থন আইআরজিসির

Printed Edition
সাইয়্যেদ মুজতাবা হোসেইনি খামেনি
সাইয়্যেদ মুজতাবা হোসেইনি খামেনি

আলজাজিরা

ইরানের বিশেষজ্ঞ পরিষদের নির্বাচিত নতুন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ মুজতাবা হোসেইনি খামেনির প্রতি সমর্থন ঘোষণা করেছে দেশটির সশস্ত্রবাহিনীর প্রভাবশালী শাখা ইসলামিক রেভুল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) ।

দেশটির আধা-স্বায়ত্তশাসিত বার্তা সংস্থা তাসনিম জানিয়েছে, নতুন নেতা নির্বাচিত হওয়ার পরপরই দেয়া এক বিবৃতিতে আইআরজিসি মুজতাবা খামেনির সব নির্দেশ মেনে চলার ও ইসলামী বিপ্লবের মূল্যবোধ রার প্রত্যয় জানায়। আইআরজিসি বলেছে, নতুন নেতা নির্বাচন ইসলামী বিপ্লব ও ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের নতুন উত্থান এবং নতুন পর্বের শুরু। এই নির্বাচন সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলী খামেনির তিক্ত মৃত্যুকে সহনীয় করে তুলবে।

১৯৮৯ সালে ইরানের ইসলামী বিপ্লবের নেতা ও ইসলামী প্রজাতন্ত্রের প্রতিষ্ঠাতা আয়াতুল্লাহ খোমেনির মৃত্যুর পর ইরানের সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচিত হয়েছিলেন আলী খামেনি। এরপর থেকে ৩৭ বছর ধরে তিনি ইরানের নেতৃত্ব দেন। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলায় আলী খামেনি নিহত হন।

এরপর রোববার তেহরান সময় মধ্যরাতের ঠিক পরেই ৮৮ সদস্যের বিশেষজ্ঞ পরিষদ (অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস) আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ মুজতাবা খামেনিকে ইসলামী বিপ্লবের তৃতীয় নেতা হিসেবে নির্বাচিত করে। রোববার রাতে এক বিবৃতিতে বিশেষজ্ঞ পরিষদ ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলায় আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ অন্য যারা নিহত হয়েছেন তাদের জন্য ‘গভীর শোক’ প্রকাশ করেছে। তারা ইরানের ওপর মার্কিন-ইসরাইলের বর্বর আগ্রাসনের নিন্দা জানিয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, ‘ইমাম খামেনি শহীদ হওয়ার পর যুদ্ধ পরিস্থিতি ও শত্রুদের সরাসরি হুমকি সত্ত্বেও বিশেষজ্ঞ পরিষদ কোনো সময় নষ্ট না করে অবিলম্বে তাদের সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন করা শুরু করে নতুন নেতা নির্বাচন ও তাকে পরিচয় করিয়ে দেয়ার প্রক্রিয়া শুরু করে।’

পরিষদ জানিয়েছে, সুনির্দিষ্ট ও বিস্তৃত পর্যালোচনার পর এবং তার ধর্মীয় কর্তব্যের ওপর ভিত্তি করে রোববারের বৈঠকে সদস্যদের সংখ্যাগরিষ্ঠের ভোটে আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ মুজতাবা খামেনিকে ইসলামী বিপ্লবের তৃতীয় নেতা নির্বাচন করা হয়। ইরানের এই বিশেষজ্ঞ পরিষদ ইরানের সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচন ও তার কর্মকাণ্ড তত্ত্বাবধান করার দায়িত্ব পালন করে। এই পরিষদের সদস্যরা জনগণের সরাসরি ভোটে আট বছর মেয়াদের জন্য নির্বাচিত হন।