পীরগঞ্জ (ঠাকুরগাঁও) সংবাদদাতা
ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসক সঙ্কট ও অতিরিক্ত দায়িত্বের কারণে চিকিৎসাসেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। নিয়মিত চিকিৎসক না থাকায় কাক্সিক্ষত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন সাধারণ রোগীরা। অনেককে বাধ্য হয়ে ঠাকুরগাঁও সদর হাসপাতাল ও দিনাজপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ছুটতে হচ্ছে।
সম্প্রতি সরেজমিন দেখা যায়, হাসপাতালের বহির্বিভাগে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও রোগীরা চিকিৎসকের দেখা পাচ্ছেন না। শয্যা সঙ্কট ও পর্যাপ্ত তদারকির অভাবে ভর্তি রোগীদের মধ্যেও অসন্তোষ বিরাজ করছে। সেবা না পেয়ে অনেকে হতাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছেন।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত ৪ মার্চ তৎকালীন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: কামাল আহমেদের বদলির পর থেকে পদটি শূন্য রয়েছে। বর্তমানে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার ইউএইচএফপিও ডা: আবুল বাশার মোহাম্মদ সাইদুর অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন। সদর থেকে পীরগঞ্জের দূরত্ব প্রায় ৩০ কিলোমিটার হওয়ায় তিনি নিয়মিত উপস্থিত থাকতে পারছেন না। সপ্তাহে মাত্র দু-এক দিন অল্প সময়ের জন্য হাসপাতালে আসায় প্রশাসনিক ও চিকিৎসাসেবা উভয় ক্ষেত্রেই স্থবিরতা তৈরি হয়েছে।
আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডা: ওয়ারিস ইয়াজদানি বলেন, চিকিৎসক সঙ্কটের কারণে রোগীর চাপ সামাল দেয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। প্রয়োজনীয় জনবল না থাকায় কাক্সিক্ষত সেবা দেয়া সম্ভব হচ্ছে না।
অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা ডা: আবুল বাশার মোহাম্মদ সাইদুর বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে দায়িত্ব পালন করলেও দূরত্ব ও শারীরিক অসুস্থতার কারণে প্রতিদিন উপস্থিত থাকা সম্ভব হয় না। ফোনে যতটুকু সম্ভব সমন্বয়ের চেষ্টা করা হচ্ছে।
ঠাকুরগাঁওয়ের সিভিল সার্জন ডা: আনিসুর রহমান জানান, চিকিৎসক সঙ্কটের বিষয়টি স্বাস্থ্য অধিদফতরকে জানানো হয়েছে। দ্রুত জনবল নিয়োগের পাশাপাশি হাসপাতালের বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধানেও উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে।
এ দিকে স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত পূর্ণকালীন ইউএইচএফপিও ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসক নিয়োগ না দিলে পীরগঞ্জের স্বাস্থ্যসেবা আরো ভেঙে পড়বে।



