শফিকুল আলম ভূইয়া রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ)
ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের তারাবো বিশ্বরোড, রূপসী, বরপা, ভুলতা ও গোলাকান্দাইলসহ বিভিন্ন আঞ্চলিক সড়কের পাশে যত্রতত্র ফেলা হচ্ছে ময়লা-আবর্জনা। এর পাশাপাশি নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার মুড়াপাড়া, কাঞ্চন ও তারাবোসহ শীতলক্ষ্যা নদীর বিভিন্ন ঘাটে ঘাটে জমে উঠেছে পাহাড়সম আবর্জনার স্তূপ। ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের পাশে এবং শীতলক্ষ্যা নদীর তীরে গড়ে ওঠা বিভিন্ন শিল্পকারখানা ও হাট-বাজারের বর্জ্যরে কারণে এই চরম পরিবেশ বিপর্যয় ঘটছে।
পরিকল্পিত ডাম্পিং স্টেশন না থাকায় পচা দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও পথচারীরা। মহাসড়কে চলাচল এবং খেয়াঘাটে শীতলক্ষ্যা নদী পারাপারের সময় নাকে-মুখে রুমাল চেপে পার হচ্ছে মানুষ। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা।
সরেজমিন দেখা গেছে, রূপগঞ্জের মুড়াপাড়া বাজার, তারাবো বাজার, হাটাবো বাজার, বেলদী বাজার, শিমুলিয়া বাজার এবং তারাবো ও কাঞ্চন পৌরসভাসহ অসংখ্য শিল্পকারখানা শীতলক্ষ্যা নদীর তীরে বর্জ্য ফেলছে। বিশেষ করে মুড়াপাড়া বাজার খেয়াঘাট এবং কাঞ্চন বাজারের পৌর পার্কের পাশে নদীর ঘাটে ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, পৌরসভার পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা প্রতিদিন বিভিন্ন বাসাবাড়ি ও বাজার থেকে ময়লা শীতলক্ষ্যা নদীর খেয়াঘাটেই ফেলছেন। এসব আবর্জনা বৃষ্টির পানিতে ধুয়ে চারপাশে ছড়িয়ে পড়ছে, যা এখন জনস্বাস্থ্যের জন্য চরম হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্ষায় আবর্জনার সাথে কাদাপানি মিশে এই দুর্ভোগ আরো তীব্র আকার ধারণ করে। ময়লার স্তূপে কুকুরের টানাটানি ও মশা-মাছির উপদ্রবে আশপাশের বাসিন্দাদের জীবন ওষ্ঠাগত। এতকিছুর পরও আবর্জনা অপসারণে কর্তৃপক্ষের দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ নেই।
শীতলক্ষ্যা নদীর খেয়াঘাট ও মহাসড়কের গোলাকান্দাইল এলাকার চারপাশে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা পচা ও উচ্ছিষ্টে নদীর স্বাভাবিক গতিপথও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। কাঁচাবাজারের বর্জ্য থেকে ছড়ানো মশা-মাছির জীবাণু মিশছে খোলা বাজারে বিক্রি হওয়া শাকসবজি ও মাছ-মাংসের ওপর। এমনকি কাঞ্চন পার্কে ঘুরতে আসা দর্শনার্থীরাও এই তীব্র দুর্গন্ধে টিকতে পারছেন না। নদীর পানি দূষিত হওয়ার কারণে তীরবর্তী এলাকার মানুষ চর্মরোগ, ডায়রিয়া, আমাশয় ও পানিবাহিত নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। অসুস্থ হয়ে পড়ছেন নিয়মিত যাতায়াত করা নৌকা ও ইঞ্জিনচালিত নৌকার মাঝিরাও।
ব্যবসায়ী আরিফুল ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ময়লা ফেলার জন্য নির্দিষ্ট কোনো জায়গা না থাকায় বাধ্য হয়ে বাসাবাড়ি ও বাজারের বর্জ্য নদীর তীরে ফেলা হচ্ছে। কাঞ্চন পৌরসভার কেন্দুয়া এলাকার শিক্ষক এনামুল হক সিকদার বলেন, শীতলক্ষ্যা নদীকে রক্ষা করতে হলে অবিলম্বে প্রয়োজনীয় এলাকায় আধুনিক বর্জ্য শোধনাগার বা ডাম্পিং স্টেশন নির্মাণ করা জরুরি।
রূপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: আইভি ফেরদৌস বলেন, উন্মুক্ত ময়লা-আবর্জনা থেকে ভাইরাসজনিত নানা ধরনের রোগ ছড়ায়। এ ছাড়া এই আবর্জনা পচে যে গ্যাসের সৃষ্টি হয়, তা থেকে মানুষের শ্বাসনালির সমস্যা, চোখে জ্বালা, হাঁপানি, নিউমোনিয়া ও শ্বাসযন্ত্রের মারাত্মক রোগের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। এ বিষয়ে কাঞ্চন পৌর প্রশাসক মোহাম্মদ মারজানুর রহমান বলেন, অবিলম্বে ময়লা ডাম্পিংয়ের স্থায়ী ব্যবস্থা করা হবে। রূপগঞ্জ ইউএনও সাইফুল ইসলাম বলেন, তবে নদীর ঘাটে বা মহাসড়কের পাশে ময়লার স্তূপ দেয়া কোনোভাবেই কাম্য নয়।



