পৌরসভার নির্দেশ অমান্য করে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে নির্মাণকাজ, নিরাপত্তা শঙ্কা

Printed Edition

ফরিদপুর প্রতিনিধি

ফরিদপুর শহরের কাঠপট্টি এলাকায় পৌর মার্কেটে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে তিনতলা বাণিজ্যিক স্থাপনা নির্মাণের কাজ পৌরসভার নির্দেশ অমান্য করেই চালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। গত রোববার সকালে পৌর কর্তৃপক্ষ মৌখিকভাবে কাজ বন্ধের নির্দেশ দিলেও কয়েক ঘণ্টা পরই পুনরায় নির্মাণকাজ শুরু হয়, যা নিয়ে জনমনে উদ্বেগ ও ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, সকালে কিছু সময় কাজ বন্ধ থাকলেও বেলা সাড়ে ১২টার দিকে শ্রমিকরা আবার তিনতলার দেয়ালের ওপর টিনশেড বসানোর কাজ শুরু করেন। শ্রমিকদের ভাষ্য, সকালে পৌরসভার লোকজন এসে কাজ বন্ধ করতে বললে তারা থেমে যান। পরে দোকান মালিকদের নির্দেশে আবার কাজ শুরু করেন।

জানা যায়, ঈদের ছুটির সময় গোপনে এই ভবনের দোতলার ওপর তিনতলা নির্মাণের কাজ শুরু হয়। পুরনো ও দুর্বল অবকাঠামোর ওপর অনুমোদনহীনভাবে একতলা ও দোতলা নির্মাণের পর এবার তৃতীয় তলা যোগ করা হচ্ছে, যা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়েছে।

এ দিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, এই মার্কেট নির্মাণের ইতিহাসও বিতর্কিত। আশির দশকে জাতীয় পার্টির আমলে রাতারাতি কিছু দোকান তৈরি ও পরে তা ভেঙে ফেলার ঘটনা ঘটে। পরে বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে দোকানের পজিশন বরাদ্দ ও বিক্রির মাধ্যমে একটি প্রভাবশালী চক্র বিপুল অর্থ হাতিয়ে নেয়। বিভিন্ন মেয়রের আমলে পর্যায়ক্রমে একতলা, দোতলা ও আংশিক তিনতলা নির্মাণের অভিযোগ রয়েছে।

ফরিদপুর পৌরসভার সচিব তানজিলুর রহমান বলেন, ‘রোববার সকালেই সংশ্লিষ্টদের কাজ বন্ধের জন্য মৌখিক নির্দেশ দেয়া হয়েছে।’ তবে নির্দেশ অমান্য করে কাজ চলমান থাকায় পৌরসভার কার্যকর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

স্থানীয় ব্যবসায়ী ও আইনজীবীরা এই নির্মাণকে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ বলে মন্তব্য করেছেন। মার্কেটের দোতলার চেম্বার মালিক অ্যাডভোকেট মাসুদ রানা বলেন, ‘এটি শুধু অবৈধ নির্মাণ নয় বরং জননিরাপত্তার জন্য মারাত্মক হুমকি। দুর্বল কাঠামোর কারণে যেকোনো সময় বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।’

আরেক ব্যবসায়ী মাহমুদুল হাসান ওয়ালিদ জানান, প্রতিদিন এই পথ ব্যবহার করেন তিনি। ‘কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে এর দায় সংশ্লিষ্টদেরই নিতে হবে,’ বলেন তিনি।

অ্যাডভোকেট মেহেরুন নেসা স্বপ্না বলেন, ‘এটি জনস্বার্থবিরোধী ও আইনবহির্ভূত কাজ। দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া জরুরি।’

স্থানীয়দের দাবি, বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে অবৈধ নির্মাণ বন্ধসহ দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হোক, যাতে সম্ভাব্য দুর্ঘটনা এড়ানো যায়।