কাউখালী (পিরোজপুর) সংবাদদাতা
পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলার গাণ্ডতা গ্রামের নেহারুল বেগমের (৬০) জীবন কাটে মানুষের দ্বারে দ্বারে হাত পেতে। দীর্ঘ ৪০ বছর ধরে ভিক্ষা করেই জীবিকা নির্বাহ করছেন এই নারী। স্বামী ও সন্তান থাকলেও চরম অভাব আর ভাগ্যের পরিহাসে আজ তিনি আশ্রয়হীন। বর্তমানে একই গ্রামের সোমেদ মিস্ত্রির বাড়িতে কোনোমতে মাথা গুঁজে আছেন তিনি।
জানা গেছে, নেহারুল বেগমের স্বামী শাহাদত হোসেন বেঁচে থাকলেও দীর্ঘদিন ধরে পরিবারের কোনো খোঁজ নেন না। ফলে বৃদ্ধ শাশুড়ি ও দুই সন্তানের দায়িত্ব একাই কাঁধে তুলে নিতে হয়েছে নেহারুলকে। বয়সের সাথেসাথে শরীরে বাসা বেঁধেছে নানা রোগ। এখন আর আগের মতো চলাফেরা করতে পারেন না। তবুও পেটের তাগিদে প্রতিদিন লাঠিতে ভর করে বের হতে হয় ভিক্ষায়।
নেহারুল বেগম বলেন, ‘প্রতিদিন তিন-চার কেজি চাল ভিক্ষা পাই। তা দিয়ে কোনোমতে দিন কাটে। এখন আর শরীর চলে না, চোখেও দেখি না। টাকার অভাবে চিকিৎসা করাতে পারছি না। নিজের কোনো ঘর নেই, অন্যের বাড়িতে পড়ে আছি। সরকার যদি একটা থাকার জায়গা করে দিত, তবে মরার আগে শান্তি পেতাম।
স্থানীয় ইউপি সদস্য জাকির হোসেন জানান, নেহারুল বেগমের জীবন অত্যন্ত কষ্টের। কাউখালী উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মতিউর রহমান জানান, যাচাই-বাছাই সাপেক্ষে তাকে দ্রুত সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির বা ভাতার আওতায় আনার চেষ্টা করা হবে। কাউখালী ইউএনও আসাদুজ্জামান বলেন, খোঁজখবর নিয়ে তাকে সরকারি সহায়তার আওতায় আনা হবে। আশ্রয়ণ প্রকল্পের মাধ্যমে ঘর দেয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।



