কিউবায় শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের ডাক রুবিওর

Printed Edition
বিদ্যুবিহীন কিউবার রাজধানী হাভানার অন্ধকার রাস্তাতেই চলাফেরা করছেন নাগরিকরা : ইন্টারনেট
বিদ্যুবিহীন কিউবার রাজধানী হাভানার অন্ধকার রাস্তাতেই চলাফেরা করছেন নাগরিকরা : ইন্টারনেট

টাইমস অব ইন্ডিয়া

কিউবার চরম অর্থনৈতিক সঙ্কটের মধ্যে দেশটির শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের ওপর জোর দিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। একই সাথে তিনি জানিয়েছেন, কিউবা সরকার সহযোগিতা করলে ওয়াশিংটন দেশটিতে ১০০ মিলিয়ন ডলার সহায়তা দিতে প্রস্তুত। বুধবার মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের প থেকে এই প্রস্তাব পুনরায় সামনে আনা হয়েছে।

বর্তমানে কিউবা এক ভয়াবহ জ্বালানি সঙ্কটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। মঙ্গলবার জ্বালানি ঘাটতির কারণে দেশটির প্রায় ৬৫ শতাংশ এলাকা বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। কিউবা সরকার এই পরিস্থিতির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদি নিষেধাজ্ঞাকে দায়ী করলেও মার্কো রুবিও একে ‘সামরিক বাহিনীর দুর্নীতি ও অকার্যকর শাসনব্যবস্থার ফল’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাথে চীন সফরের সময় রুবিও মন্তব্য করেন, কিউবার বর্তমান অর্থনীতি সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে এবং এই শাসনব্যবস্থা বহাল থাকা পর্যন্ত বড় কোনো পরিবর্তন সম্ভব নয়।

অন্য দিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, ফোরিডা থেকে মাত্র ১৪৫ কিলোমিটার দূরের এই দ্বীপ রাষ্ট্রটি যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী কৌশলগত ল্য হতে পারে। ইতঃপূর্বে ভেনিজুয়েলার বামপন্থী সরকারের পতনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি কিউবার ওপর মার্কিন নিয়ন্ত্রণ বৃদ্ধির সম্ভাবনার কথা জানান।

মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, কিউবার জনগণের দুর্দশা লাঘবে এই ১০০ মিলিয়ন ডলারের প্রস্তাব দেয়া হয়েছে, যার মধ্যে সরাসরি মানবিক সাহায্য এবং অবাধ ইন্টারনেট ব্যবহারের অর্থায়ন অন্তর্ভুক্ত। তবে কিউবা সরকার এই প্রস্তাব গ্রহণে বাধা দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে ওয়াশিংটন। যদিও কিউবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্রুনো রদ্রিগেজ এই প্রস্তাবের দাবিকে ‘মিথ্যা ও প্রতারণা’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, প্রকৃত সহায়তার বদলে জ্বালানি অবরোধ তুলে নেয়াই কি বেশি কার্যকর হতো না? এ দিকে বিদ্যুৎবিভ্রাটের প্রতিবাদে হাভানার উপকণ্ঠসহ বিভিন্ন এলাকায় সাধারণ মানুষের বিােভ ছড়িয়ে পড়েছে। হাঁড়ি-পাতিল বাজিয়ে এবং স্লোগান দিয়ে তারা এই সঙ্কটের প্রতিবাদ জানাচ্ছেন। কিউবার প্রেসিডেন্ট মিগেল দিয়াজ-কানেল পরিস্থিতিকে অত্যন্ত উত্তেজনাপূর্ণ স্বীকার করে এর জন্য সরাসরি মার্কিন শুল্ক নীতি ও অবরোধকে দায়ী করেছেন।

জানুয়ারি মাসে বড় একটি জ্বালানি উৎস হারানোর পর থেকে কিউবার সঙ্কট আরো গভীর হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে রুবিও কিউবার প্রভাবশালী কিছু গোষ্ঠীর সাথে যোগাযোগ রাখছেন বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমের খবরে দাবি করা হয়েছে। এর আগে ট্রাম্প প্রশাসন ক্যাথলিক চার্চের মাধ্যমে দেশটিতে ৬০ লাখ ডলারের মানবিক সহায়তা পাঠালেও বর্তমানের এই বড় অঙ্কের প্রস্তাব নিয়ে দুই দেশের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।

কিউবায় জ্বালানি তেল সম্পূর্ণ শেষ

টাইমস অব ইন্ডিয়ার মারফতে জানা যায়, মার্কিন অবরোধের জেরে কিউবার ডিজেল ও প্রয়োজনীয় জ্বালানি তেল পুরোপুরি ফুরিয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন দেশটির জ্বালানিমন্ত্রী ভিসেন্তে দে লা ও লেভি। একই সাথে দেশের জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিড এখন অত্যন্ত সঙ্কটজনক অবস্থায় রয়েছে বলেও তিনি সতর্ক করেছেন।

রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে দেয়া এক বিবৃতিতে জ্বালানিমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, ‘আমাদের কাছে বর্তমানে কোনো জ্বালানি তেল বা ডিজেল অবশিষ্ট নেই। এমনকি জরুরি ব্যবহারের জন্য কোনো মজুদও রাখা সম্ভব হয়নি।’ মন্ত্রী জানান, চলতি সপ্তাহে বিদ্যুৎবিভ্রাট পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। রাজধানী হাভানার অনেক এলাকায় দিনে ২০ থেকে ২২ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ থাকছে না। এতে করে খাদ্য, জ্বালানি এবং অতি জরুরি ওষুধের চরম ঘাটতিতে থাকা শহরটির জনজীবন স্থবির হয়ে পড়েছে। বর্তমানে দেশটির জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিড সম্পূর্ণভাবে অভ্যন্তরীণ অপরিশোধিত তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস এবং নবায়নযোগ্য শক্তির ওপর ভরসা করে চলছে। মন্ত্রী জানান, কিউবা গত দুই বছরে এক হাজার ৩০০ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন সমতা তৈরি করলেও তীব্র জ্বালানি সঙ্কট ও গ্রিডের অস্থিতিশীলতার কারণে এর বড় অংশই কাজে লাগানো যাচ্ছে না। ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও এর কার্যকারিতা মারাত্মকভাবে হ্রাস পেয়েছে।