বিকল্প সড়ক ছাড়াই কালভার্ট নির্মাণ, জনদুর্ভোগ

Printed Edition
বিকল্প রাস্তা না রেখেই নির্মাণ হচ্ছে কালভার্ট : নয়া দিগন্ত
বিকল্প রাস্তা না রেখেই নির্মাণ হচ্ছে কালভার্ট : নয়া দিগন্ত

আতিকুর রহমান ঝালকাঠি

ঝালকাঠির নথুল্লাবাদ চাকলার বাজার থেকে নলছিটির ভৈরবপাশার প্রতাপ বাজার পর্যন্ত প্রায় পাঁচ কিলোমিটার সড়কে কালভার্ট নির্মাণকাজ চলছে। তবে বিকল্প সড়ক ব্যবস্থা না রেখে নির্মাণে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন দুই ইউনিয়নের হাজারো মানুষ।

জানা যায়, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগের এই প্রকল্পের আওতায় সাতটি কালভার্টের মধ্যে এরই মধ্যে ছয়টি ভেঙে পড়েছে। সেগুলোর পুনর্নির্মাণ কাজ শুরু হওয়ায়া কার্যত অচল হয়ে পড়েছে যাতায়াত। স্থানীয়দের অভিযোগ, নামমাত্র কিছু বিকল্প পথ তৈরি করা হলেও তা কোনোভাবেই ব্যবহারযোগ্য নয়। সামান্য বৃষ্টিতেই এসব পথ পানির নিচে তলিয়ে যায়, ফলে হেঁটে চলাচল করা দুঃসাধ্য হয়ে পড়েছে।

স্থানীয় দোকানি নুরে আলম জমাদ্দার বলেন, ভাঙা কালভার্টের কংক্রিট আর মাটি দিয়ে যেভাবে অস্থায়ী রাস্তা বানানো হয়েছে, তা ১০ মিনিটের বৃষ্টিতেই ডুবে যায়। তখন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে পড়ে। আরেক পথচারী আইয়ুব আলী মুন্সি জানান, যে বিকল্প রাস্তা করা হয়েছে তা একেবারেই অনুপযোগী। হেঁটে কোনোভাবে যাওয়া গেলেও কোনো যানবাহন নিয়ে পার হওয়া যায় না। কয়েকদিন আগের বৃষ্টির কাদা এখনো শুকায়নি।

এ সড়ক দিয়ে প্রতিদিন দুই ইউনিয়নের সহস্রাধিক মানুষ চলাচল করেন। পাশাপাশি দু’টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরাও এই পথে যাতায়াত করে। বর্তমান পরিস্থিতিতে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী ও ব্যবসায়ীদের দুর্ভোগ কয়েকগুণ বেড়ে গেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, কাজের অগ্রগতি অত্যন্ত ধীরগতির।

ঠিকাদার সালেহ হাসান জানায়, বিকল্প সড়ক নির্মাণের জন্য আলাদা কোনো বরাদ্দ না থাকায় টেকসই ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যেই কাজ শেষ করে সড়কটি চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হবে। ঝালকাঠি এলজিইডির প্রকৌশলী আবদুল্লাহ হেল বাকী বিল্লাহ বলেন, কালভার্ট নির্মাণের ক্ষেত্রে বিকল্প সড়কের জন্য বরাদ্দ খুবই সীমিত থাকে। জনদুর্ভোগ কমাতে দ্রুত কাজ শেষ করার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে।