চট্টগ্রামে জলাবদ্ধতা : প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যে ক্ষুব্ধ নগরবাসী

Printed Edition

চট্টগ্রাম ব্যুরো

‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চট্টগ্রাম নগর ডুবে যাওয়ার যে খবর প্রচার হয়েছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও অতিরঞ্জিত’ চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা নিয়ে দেয়া বক্তব্যের পর স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রল হচ্ছে। এ নিয়ে সাধারণ নাগরিকরা ক্ষুব্ধ। অনেকে ট্রল করে বলেছেন, মাননীয় মন্ত্রীর চশমার সমস্যা আছে, চোখে কম দেখে। আবার কেউ বলছেন মন্ত্রীর চোখই সত্য, চট্টগ্রামের মানুষের নয়। কেউ বলছেন, মন্ত্রিতো এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে হয়ে সিটি করপোরেশনে পৌঁছেছেন, তিনি পানি কোথায় দেখবেন? গতকাল তিনি সাংবাদিকদের বললেন, ‘কিন্তু আপনারা তো আমার সাথে কাল থেকে ছিলেন। আজকেও আছেন। আপনাদের কাছে আমি প্রশ্ন রাখতে চাই, আজ কোথাও কি আপনারা জলাবদ্ধতা দেখেছেন? অথচ গতকাল চট্টগ্রামে বৃষ্টি হয়নি।’

গতকাল বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম নগরীর বিভিন্ন খাল, স্লুইস গেট ও কর্ণফুলী নদী পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমি বুধবার সন্ধ্যার পরে এসে ঘুরেছি। যেভাবে মিডিয়াতে নিউজটা এসেছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে, ওই রকম জলাবদ্ধতা আমি এসে দেখিনি। রাতে আমি বক্তব্যে বলেছি যে, চট্টগ্রাম পানির মধ্যে ভাসছে না। এ সময় চসিক মেয়র ডা: শাহাদাত হোসেনসহ প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন। প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমি আসিনি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাকে পাঠিয়েছেন। উনার কাছে যে খবর ছিল চট্টগ্রামে ব্যাপক জলাবদ্ধতা হয়েছে এবং সোশ্যাল মিডিয়াতে ‘২৪ সালের, ২৩ সালের বিভিন্ন ছবি প্রকাশ করে একটা অপপ্রচার চালানো হয়েছে যে, চট্টগ্রাম মহানগর পানির মধ্যে ভাসছে’। এ খবরে উনি সংসদে দাঁড়িয়ে এরই মধ্যে চট্টগ্রাম নগরবাসীর প্রতি দুঃখ প্রকাশ করেছেন। তারপর সংসদেই উনি আমাকে তাঁর কার্যালয়ে ডেকে নির্দেশনা দিয়েছেন- আপনি এক্ষুনি চট্টগ্রাম যান এবং সংশ্লিষ্ট বিভাগ ও কর্তৃপগুলোকে নিয়ে বসে কী সমস্যা আছে সমাধান করে তারপর আপনি ফিরবেন।

স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী বলেন, এখন প্রশ্ন এটা হতে পারে, প্রবর্তকের মোড়সহ কয়েকটি জায়গায় হঠাৎ বৃষ্টি হওয়ার কারণে, আপনাদের সবারই স্বাভাবিক জ্ঞান থাকার কথা যে- হঠাৎ করে এ রকম মহানগরীতে ৮০-৮৫ বা ৯০ মিলিমিটারের ভারী বৃষ্টি যদি হয় স্বাভাবিক কারণেই এই পানিটি সরতে একটু সময় লাগবে। এটাকে আমরা জলাবদ্ধতা বলব না, এটাকে আমরা জলজট বলব। জলাবদ্ধতা কোনটা হবে, তিনদিন-চারদিন ধরে পানি নামছে না। আর যে তিনটি পয়েন্টে সামান্য একটু পানি আটকে ছিল ওখানে আমাদের কাজ চলমান আছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাস্তবতা হচ্ছে ২৪ সালের যে চিত্র ছিল চট্টগ্রামের, ২৫ সালে সেটির ৭০-৮০ পার্সেন্ট সমস্যার সমাধান হয়েছে। এখন খালগুলোর যে অবস্থা আমি ঘুরে দেখছি এবং কাজ যেটি চলমান আছে, ডিসেম্বরে সমাপ্ত হবে। চট্টগ্রামবাসীকে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে এটুকু আশ্বস্ত করতে পারি, ৭০-৮০ ভাগ জলাবদ্ধতা থাকবে না। বাকি যে ১৫-২০ পার্সেন্ট থাকবে এটার জন্য আপনাদের ডিসেম্বর পর্যন্ত একটু অপেক্ষা করতে হবে এবং আমাদের সময় দিতে হবে, যেহেতু প্রকল্পের কাজটি চলমান আছে।

তিনি বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের স্লুইস গেটগুলো আমরা পরিষ্কার রেখেছি। বন্দর কর্তৃপক্ষ যে খালের মুখগুলো সবসময় ড্রেজিং করে, পরিষ্কার করে কর্ণফুলী নদীতে, তারাও সেটি অব্যাহত রেখেছে। সব মিলিয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে এবং সিটি করপোরেশন, ইঞ্জিনিয়ার ব্রিগেড, সিডিএ, পানি উন্নয়ন বোর্ড সবার পক্ষ থেকে অন্ততপক্ষে মহান আল্লাহর ইচ্ছায়, চট্টগ্রামবাসীকে এটুকু আশ্বাস দিতে পারি, আগামী বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা থাকবে না। তবে বেশি ভারী বৃষ্টি হলে জলজট হতে পারে। সেটার জন্য ২-৩ ঘণ্টা একটু সময় দিতে হবে সবাইকে।

এর আগে গত বুধবার বুধবার টাইগারপাসে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন কার্যালয়ে আয়োজিত সমন্বয় সভায় তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চট্টগ্রাম নগর ডুবে যাওয়ার যে খবর প্রচার হয়েছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও অতিরঞ্জিত। সরেজমিন পরিদর্শনে গিয়ে নগরের অধিকাংশ এলাকায় জলাবদ্ধতার অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি, কেবল প্রবর্তক মোড় এলাকায় সিডিএ’র চলমান উন্নয়নকাজের কারণে সাময়িক জলজট দেখা দেয়। তিনি আরো বলেন, হঠাৎ অতিবৃষ্টির কারণে কিছুটা পানি জমলেও সঠিক সময়ে পানি আবার নিষ্কাশিত হয়ে গেছে। আমি নিজে হেঁটে যে পানির মধ্য দিয়ে এসেছি, সেটি সর্বোচ্চ ৩০ ফুট জায়গা।

নাগরিকদের ভাষ্য, দুই দিন ধরে পানিতে ডুবে থাকা মোড়ে প্রতিমন্ত্রী এসেছেন দ্বিতীয় দিন সন্ধ্যায়। একই সময়ে নগরীর কাতালগঞ্জসহ আরো এলাকা পানির নীচে ছিল। কিন্তু তিনি এসেই জলাবদ্ধতা সম্পর্কে যা বলেছেন, তা সঠিক নয়। বরং তিনি চট্টগ্রামবাসীর দুর্ভোগ নিয়ে তাচ্ছিল্য করেছেন। তাছাড়া গত মঙ্গলবারের জলাবদ্ধতার ছবিগুলোকেও প্রতিমন্ত্রী ২০২৩ কিংবা ২০২৪ সালের বলে উল্লেখ করেছেন। অথচ ২০২৩-২৪ সালেও প্রবর্তক মোড় কিংবা কাতালগঞ্জে গত মঙ্গলবারের সমান পানি হয়নি।