কিশোরগঞ্জ (নীলফামারী) সংবাদদাতা
নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলায় শিক্ষার্থী সঙ্কটে কার্যত অচল হয়ে পড়েছে একাধিক দাখিল মাদরাসা। কাগজে-কলমে শতাধিক শিক্ষার্থী ভর্তি দেখানো হলেও বাস্তবে শ্রেণীকক্ষ প্রায় ফাঁকা। অথচ শিক্ষক ও কর্মচারীরা নিয়মিত সরকারি বেতন-ভাতা উত্তোলন করছেন। এতে সরকারের লাখ লাখ টাকা অপচয়ের অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি উপজেলার গাড়াগ্রাম খায়রিয়া দাখিল মাদরাসা ও ভেড়ভেড়ী কামাল উদ্দিন দাখিল মাদরাসা ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।
গত ১২ মে সকালে গাড়াগ্রাম খায়রিয়া দাখিল মাদরাসায় গিয়ে দেখা যায়, ১৯৮৪ সালে প্রতিষ্ঠিত এ প্রতিষ্ঠানে ১৫ শিক্ষক ও পাঁচজন কর্মচারী কর্মরত থাকলেও ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণী পর্যন্ত উপস্থিত শিক্ষার্থীর সংখ্যা মাত্র ১৫ জন। দশম শ্রেণীতে দুই শিক্ষার্থীকে পাঠদান করতে দেখা যায় একজন শিক্ষককে।
শ্রেণিশিক্ষক জাহিদ হাসান প্রথমে শিক্ষার্থীর সংখ্যা জানাতে না পারলেও পরে হাজিরা খাতা দেখে জানান, দশম শ্রেণীতে ৩৫ জন শিক্ষার্থী ভর্তি রয়েছে। তবে উপস্থিতি কম হওয়ার কারণ হিসেবে তিনি বৈরী আবহাওয়ার কথা উল্লেখ করেন।
স্থানীয় বাসিন্দা হাফিজুল ইসলাম, আলতানুর মিয়া ও একাব্বর আলীর অভিযোগ, দীর্ঘ দিন ধরে মাদরাসাটির শিক্ষার পরিবেশ ভেঙে পড়েছে। কাগজে শিক্ষার্থী থাকলেও বাস্তবে উপস্থিতি খুবই কম। শিক্ষকরা নিয়মিত ক্লাস না নিয়েও বেতন তুলছেন। এ বিষয়ে গাড়াগ্রাম খায়রিয়া দাখিল মাদরাসার ভারপ্রাপ্ত সুপার আফজালুল হক বলেন, অনেক মাদরাসারই একই অবস্থা।
একই দিন দুপুরে ভেড়ভেড়ী কামাল উদ্দিন দাখিল মাদরাসায় গিয়ে দেখা যায়, শিক্ষকরা কক্ষে বসে আড্ডা দিচ্ছেন। অথচ কোনো শ্রেণিকক্ষেই শিক্ষার্থী নেই। মাদরাসাটির সুপার নুহ ইসলাম শিক্ষার্থী ও শিক্ষকের হাজিরা খাতা দেখাতে অপারগতা প্রকাশ করেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, গত দুই-তিন বছর ধরে এ মাদরাসায় কার্যত কোনো শিক্ষার্থীইি নেই। বিষয়টি নিয়ে লিখিত অভিযোগ করা হলেও দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। এদিকে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আশরাফুজ্জামান সরকারের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনিয়ম ও নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগও ছড়িয়ে পড়েছে। যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে তিনি সরাসরি মন্তব্য করতে রাজি হননি।
তবে শিক্ষার্থীশূন্য মাদরাসাগুলোর বিষয়ে আশরাফুজ্জামান সরকার বলেন, তদন্ত চলছে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
কিশোরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও একটি মাদরাসার পরিচালনা কমিটির সভাপতি আরিফুর রহমান আরিফ বলেন, অভিযোগগুলো যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।



