নিজস্ব প্রতিবেদক
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি, পটুয়াখালী-২ আসনের সংসদ সদস্য ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেছেন, জনস্বার্থে নয় বরং নির্বাচনে বিশেষ ভূমিকা রাখার পুরস্কার হিসেবে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোতে দলীয় প্রশাসক নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, তড়িঘড়ি করে এসব নিয়োগ দিয়ে দ্রুত নির্বাচন দেয়ার যে আশ্বাস দেয়া হচ্ছে, তা বিশ্বাসযোগ্য নয়।
গত বৃহস্পতিবার বিকেলে বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের উদ্যোগে আয়োজিত থানা সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকদের কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ড. মাসুদ বলেন, সরকারের যদি নির্বাচন দেয়ার প্রকৃত মানসিকতা থাকত, তবে আগের প্রশাসকদের সরিয়ে পুনরায় নতুন করে দলীয় নেতাদের নিয়োগ দেয়া হতো না। নির্বাচনের আগে বিএনপির স্লোগান ছিল ‘সবার আগে বাংলাদেশ’, কিন্তু ক্ষমতায় আসার পর তাদের কর্মকাণ্ডে প্রতীয়মান হচ্ছে যে তারা এখন ‘সবার আগে দলীয় স্বার্থ’ নীতিতে হাঁটছে।
তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘সবার আগে বাংলাদেশ, সবাই মিলে বাংলাদেশ’- এই স্লোগান বাস্তবায়ন না হলে এবং জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়লে আবারো জনরোষের মুখে সরকারকে দেশ ছাড়তে হতে পারে। পরিবহন মন্ত্রীর একটি বক্তব্যের প্রতিক্রিয়া জানিয়ে ড. মাসুদ বলেন, কোনটি চাঁদা আর কোনটি চাঁদাবাজি তা সরকারের বুঝতে সমস্যা হলেও জনগণ ঠিকই বোঝে।
চাঁদাবাজদের সুরক্ষা না দিয়ে তাদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দেশকে চাঁদাবাজমুক্ত করতে হবে। তিনি বলেন, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজমুক্ত দেশ গড়তে পারলে সরকারের প্রতি জনগণের আস্থা ফিরবে, অন্যথায় অস্তিত্ব সঙ্কটের ঝুঁকি তৈরি হবে।
কর্মশালায় তিনি জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় সংগঠনের সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের আরো জোরালো ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।
ফেডারেশনের ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সভাপতি আব্দুস সালামের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক সোহেল রানা মিঠুর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন সহসভাপতি নজরুল ইসলাম, সহসাধারণ সম্পাদক মাওলানা হাফিজুর রহমান, মাহবুবুর রহমান, ওমর ফারুক এবং সাংগঠনিক সম্পাদক মোশাররফ হোসেন চঞ্চল প্রমুখ। বিজ্ঞপ্তি।


