ক্রীড়া প্রতিবেদক
পাক্কা দুই ঘণ্টা বৃষ্টির কারণে খেলা বন্ধ থাকার পর পাকিস্তানের ইনিংস আর এক ঘণ্টাও টিকল না। নাহিদ রানার পেসে সালমান আলি আগার বিদায়ের পর প্রতিপক্ষের লেজ মুড়ে পাঁচ শিকার ধরলেন মেহেদী হাসান মিরাজ। হতাশা কাটিয়ে শেষ পর্যন্ত এগিয়ে থাকল স্বাগতিক দল। মিরপুরে প্রথম টেস্টের তৃতীয় দিনের শেষ সেশনে ৩৮৬ রানে অলআউট হয়েছে পাকিস্তান। বাংলাদেশ লিড পেয়েছে ২৭ রানের। ১০২ রানে ৫ উইকেট নেন মিরাজ। তাইজুল শুরুতে বিবর্ণ থাকলেও পরে ৪৬ রানে পেয়েছেন ২ উইকেট। তাসকিন ৭০ রানে নেন ২ উইকেট। গতি তারকা নাহিদ ছিলেন খরুচে। ২১ ওভারে ১০৪ রান দিয়ে সালমান আলি আগার উইকেট পেয়েছেন। প্রথম ইনিংসে ৪১৩ রান করেছিল বাংলাদেশ।
গতকাল শেষ বিকেলে ছড়ি ঘোরায় বাংলাদেশ। দুই উইকেটে ২০০ করার পর ৩৭ রানে শেষ ৪ উইকেট হারিয়ে চারশ’র আগেই গুটিয়ে যায় পাকিস্তান। দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নেমে ১.৫ ওভারে বিনা উইকেটে ৭ রান করার পর দেখা দেয় আলোক স্বল্পতা। ম্যাচ কর্মকর্তারা আর খেলা পরিচালনা করা সম্ভব নয় দেখে দিনের খেলা শেষ ঘোষণা করেন। পাকিস্তান একপর্যায়ে লিডের সম্ভাবনা তৈরি করলেও মিরাজের ঘূর্ণিজাদুতে নাকাল হয়েছে।
৩৪৯ রানে মোহাম্মদ রিজওয়ানের বিদায়ের পরপরই নেমেছিল বৃষ্টি। সেই বৃষ্টি বিরতির মধ্যে ছিল চা-বিরতির সময়টুকুও। মাঠ প্রস্তুত করে খেলা শুরু হলো ৪টা ১৫ মিনিটে। আর চার রান যোগ করেই নাহিদের শিকার হন সালমান। পাকিস্তানের মিডল অর্ডারের অন্যতম ভরসা অফ স্টাম্পের বাইরের বল তাড়া করে ক্যাচ দেন ৫৮ রানে। এরপর মিরাজ তুলতে থাকেন উইকেট। নোমান আলিকে সিøপে ক্যাচ বানানোর পর শাহীন আফ্রিদি ‘তার’ বলে ধরা দেন শর্ট কাভারে। ১৪তম বারের মতো টেস্টে পাঁচ উইকেট পেয়ে যান তিনি। তাইজুল ইসলাম হাসান আলিকে বোল্ড করে মুড়ে দেন সফরকারীদের ইনিংস।
তাসকিন আহমেদ, নাহিদ রানারা বলের পর বল করে গেলেও পাকিস্তানি ব্যাটারদের কাবু করতে পারছিলেন না। ক্যাচ মিসের পাশাপাশি নো বল এবং এলোমেলো লাইন লেংথের কারণে সুবিধা করতে পারেননি তারা। কিন্তু মিরাজ নিখুঁত লাইন-লেংথে বল করে পেয়েছেন সাফল্য। হুমকি হয়ে ওঠা পাকিস্তানের ১০৬ রানের উদ্বোধনী জুটি ভেঙে শুরু। ওপেনার ইমাম উল হককে (৪৫) এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলেছেন মিরাজ। পাকিস্তানের ওপেনার রিভিউও নষ্ট করেছেন। সহ-অধিনায়ক সৌদ শাকিলকে রানের খাতাই খুলতে দেননি মিরাজ। শাকিল সøগ সুইপ করতে গিয়ে এলবিডব্লিউর ফাঁদে পড়েছেন। গলার কাঁটা হয়ে ওঠা আব্দুল্লাহ ফজলকেও (৬০) ফিরিয়েছেন মিরাজ। ডাউন দ্য উইকেটে খেলতে গিয়ে মিড অনে তাইজুল ইসলামের হাতে ক্যাচ তুলে দিয়েছেন। মিরাজ এরপর নোমান আলী (২) ও শাহিন শাহ আফ্রিদিকে (১৩) ফিরিয়ে পূর্ণ করেছেন ফাইফার। যেখানে নোমানের উইকেটে সিøপে ক্যাচ ধরেছেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। আর আফ্রিদি তো মিরাজকে উইকেট উপহারই দিয়েছেন। আলতো ড্রাইভে শর্ট কাভারে দাঁড়ানো মুমিনুল হকের হাতে ক্যাচ তুলে দিয়েছেন আফ্রিদি।
পাকিস্তান গতকাল ১ উইকেটে ১৭৯ রানে তৃতীয় দিনের খেলা শুরু করে। প্রথম দুই সেশনে পাকিস্তান রান তোলার পাশাপাশি নিয়মিত বিরতিতে উইকেটও হারিয়েছে। যেখানে ৯০তম ওভারের চতুর্থ বলে মোহাম্মদ রিজওয়ানকে ফিরিয়েছেন তাইজুল। মিড অফে দুর্দান্ত ক্যাচ ধরেছেন মাহমুদ্লু হাসান জয়। রিজওয়ানের বিদায়ে ৬ উইকেটে ৩৪৯ রানে পরিণত হয় পাকিস্তান। তখনই মুষলধারে নামে বৃষ্টি।
পাকিস্তানের অভিষিক্ত ব্যাটার আজান আওয়াইস ১৬৫ বলে ১৪ চারে করেছেন ১০৩ রান। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৬০ রান করেছেন আরেক অভিষিক্ত আব্দুল্লাহ ফজল। ফিফটি করেছেন সালমান আলী আগা (৫৮) ও রিজওয়ান (৫৯)। সফরকারীদের ১০ উইকেটের সাতটিই বাংলাদেশ পেয়েছে ঘূর্ণিজাদুতে।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
বাংলাদেশ ইনিংস : ৪১৩ ও ১.৫ ওভারে ৭/০।
পাকিস্তান ১ম ইনিংস : ১০০.৩ ওভারে ৩৮৬ (আজান ১০৩, ফজল ৬০, মাসুদ ৯, শাকিল ০, সালমান ৫৮, রিজওয়ান ৫৯, নোমান ২, আফ্রিদি ১৩, হাসান ৬, আব্বাস ৬*, তাসকিন ২/৭০, ইবাদত ০/৫৪, নাহিদ ১/১০৪, মিরাজ ৫/১০২, তাইজুল ২/৪৬)।
তৃতীয় দিন শেষে : বাংলাদেশ ৩৪ রানে এগিয়ে।



