ধানের ন্যায্যমূল্য নিয়ে দুশ্চিন্তায় কৃষক

Printed Edition

মেহেদী হাসান ভূঁইয়া তাহিরপুর (সুনামগঞ্জ)

টানা বৃষ্টি ও বৈরী আবহাওয়ার পর অবশেষে প্রখর রোদে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার হাওরাঞ্চলে। কয়েকদিন ধরে আকাশ মেঘমুক্ত থাকায় কৃষকেরা ধান শুকানো, মাড়াই ও ঘরে তোলার কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন। তবে ফসলের ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় দুশ্চিন্তা কাটছে না কৃষকদের।

হাওরের খলায় জায়গা সঙ্কট থাকায় অনেক কৃষক ব্যস্ত সড়কেই ধান শুকাচ্ছেন। কৃষকদের পাশাপাশি কৃষাণীরাও ঘরের উঠান ও খলায় ধান শুকানোর কাজে অংশ নিচ্ছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জেলার ছোট-বড় ২৩টি হাওরের নি¤œাঞ্চলে টানা বৃষ্টির কারণে ব্যাপক জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। অনেক জমির ধান পানিতে ডুবে নষ্ট হয়েছে। বাড়ির উঠানে স্তূপ করে রাখা পচা ধান ও খড়ের দুর্গন্ধে ভারী হয়ে ওঠে চারপাশ। এমন পরিস্থিতিতে কয়েকদিনের রোদ কৃষকদের মনে নতুন করে আশার সঞ্চার করেছে।

টাঙ্গুয়ার হাওরপাড়ের কৃষক ফরিদ মিয়া বলেন, ‘কয়েকদিন ধরে রোদ ওঠায় পানির নিচে থাকা ধান কেটে শুকাতে পারছি। কৃষাণীরাও ঘরে ও উঠানে ধান শুকাতে ব্যস্ত। তবে ধানের সঠিক দাম পাচ্ছি না। টানা বৃষ্টিতে গো-খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত খড়ও পচে গেছে, এতে বড় বিপদে পড়েছি।’

শনির হাওরের কৃষক রফিক মিয়া বলেন, ‘প্রতি বছরই কোনো না কোনো দুর্ভোগে পড়তে হয়। এবারো টানা বৃষ্টিতে অনেক ধান নষ্ট হয়েছে। এখন রোদে ধান শুকাতে পারলেও সরকার নির্ধারিত দামে বিক্রি করতে পারছি না। দালাল ও ফড়িয়ারা নানা অজুহাতে কম দামে ধান কিনছে।’

সরকার প্রতি মণ ধানের মূল্য এক হাজার ৪৪০ টাকা নির্ধারণ করলেও হাওরাঞ্চলের কৃষকেরা সেই সুবিধা পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ উঠেছে। কৃষকদের দাবি, সরকারি গুদামে যে মানের ধান চাওয়া হচ্ছে, বৈরী আবহাওয়ার কারণে সেই মানের ধান উৎপাদন সম্ভব হয়নি। এ সুযোগে দালাল, ফড়িয়া ও পাইকাররা ৬৫০ থেকে সর্বোচ্চ ৮০০ টাকা মণ দরে ধান কিনে নিচ্ছেন।

তাহিরপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শরীফুল ইসলাম জানান, উপজেলায় এবার ১৭ হাজার ৫০৯ হেক্টরের বেশি জমিতে ধান চাষ হয়েছে। প্রায় এক লাখ মেট্রিক টন ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে, যার বাজারমূল্য প্রায় ৩০০ কোটি টাকা। তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত হাওরের প্রায় ৮৩ শতাংশ ধান কাটা হয়েছে। জলাবদ্ধতা ও টানা বৃষ্টিতে ১ হাজার ৬৭৬ হেক্টর জমির ধান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।