মাদকের হটস্পট কেরানীগঞ্জের ২ থানা

Printed Edition

শামীম হাওলাদার

ঢাকার কেরানীগঞ্জ উপজেলার দুই থানা এলাকা এখন মাদকের হটস্পট। এমনকি মডেল থানার পেছনেই মাদকের বড় স্পট। অভিযোগ রয়েছে, এসব স্পট থেকে নিয়মিত মাসোহারা নেয় পুলিশ ও রাজনৈতিক নামধারী কতিপয় ব্যক্তি।

সূত্র জানায়, ঢাকার কেরানীগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ ও মডেল থানা এলাকার বিভিন্ন স্পটে ইয়াবা ট্যাবলেট, গাঁজা, ফেনসিডিল,থসিসা, হেরোইনসহ নানা ধরনের মাদকের ছড়াছড়ি। চিহ্নি মাদক স্পটগুলো হলো আমবাগিচা খেলার মাঠের পাশে, ভাইভাই রোড, চরকুতুব, নামাপাড়া, চরকালিগঞ্জ, হাতিপাড়া, চৌধুরীপাড়া, আগানগর বেড়ীবাঁধ ও কালিগঞ্জ তেলঘাট, চুনকু, খেজুরবাগ, অমিতাবপুর, হাসনাবাদ,আগানগর, জাইল্যা পট্টি, কালিগঞ্জ বাজার, আব্দুল্লাহপুর, খোলামোড়া খেয়াঘাট, রসুলপুর মাষ্টার কমিউনিটির সামনের গলি, মধ্যের চর, খালপার, নবাবের চর, জুয়েল মন্দির, জিয়ানগর, বিরুলিয়া ব্রিজ, শিকারী টোলা, জিনজিরা, শহিদনগর তরিক মিয়ার বাড়ির গলি, সিরাজনগর ওয়াদুদের গলি ও মনু বেপারীর ঢাল।

মডেল থানা এলাকায় মাদক স্পটের ছড়াছড়ি। হিরোইন, ইয়াবা, ফেনসিডিল, গাঁজা ও সিসা হাত বাড়ালেই মিলে। হটস্পটগুলো হলো- খোলামোড়া খেয়াঘাট, রসুলপুর মাস্টার কমিউনিটির সামনের গলি, মধ্যের চর, খালপার, নবাবের চর, জুয়েল মন্দির, জিয়ানগর, বিরুলিয়া ব্রিজ, শিকারী টোলা, জিনজিরা, শহিদনগর তরিক মিয়ার বাড়ির গলি, সিরাজনগর ওয়াদুদের গলি ও মনু বেপারীর ঢালে।

আর মডেল থানা এলাকায় মাদকের স্পটগুলো হচ্ছে : খোলামোড়া খেয়াঘাট : এখান থেকে রাজধানীর বিভিন্ন স্পটে পাইকারিভাবে মাদক চালান যায়। বিশেষ করে কামরাঙিরচর, লালবাগসহ পুরান ঢাকার বিভিন্ন স্পটে। দিনেদুপুরে প্রকাশ্যে বিক্রি হয় গাঁজা, হিরোইন ও নকল ফেনসিডিল।

মধ্যের চর : এখানে বিভিন্ন বাড়িতে নকল ফেনসিডিল ও চোলাই মদ তৈরি হয়। পুলিশ কিংবা প্রশাসনের অন্য কোনো সংস্থা উঁকিও দেয় না। রমিজ আদেল, ফারুক, জসিম, আলামিন ও মুরাদ এসব মাদক রাজধানীসহ দেশজুড়ে সাপ্লাই দেয়। রসুলপুর মাস্টার কমিউনিটি সেন্টারেরর সামনে নারী-পুরুষ মিলে একটি পরিবারের সবাই মাদককারবারি। পাশের বাড়ির মালিক প্রথম আলোর প্রতিনিধি। অথচ এ পরিবারটি গত ২৫ থেকে ৩০ বছর যাবত মাদক বিক্রি করছে। কেউ তাদের টিকিটও স্পর্শ করতে পারেনি। পুলিশ আগেও মাসোহারা নিত, এখনো নেয় বলে জানান স্থানীয়রা।

মডেল থানার পিছনে : এ এলাকা দক্ষিণ থানার অন্তর্গত। এ জন্য মডেল থানার পুলিশ দেখেও না দেখার ভান করছেন। মাঝে ডিবি ও র‌্যাব অভিযান চালিয়ে ইয়াবা ও গাঁজা উদ্ধার করে। তবে থানা পুলিশ নিষ্ক্রিয়। নাদিম, পারুল, মালেক ও শাকিল ছাড়াও সরকারদলীয় অনেকে এতে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে।

জিয়ানগর : এখানে অদুদের গলিতে প্রকাশ্যে দিনেদুপুরে ইয়াবা, হিরোইন ও গাঁজা বিক্রি করছে। সেলিম, তারেক ও আমানসহ ৭ থেকে ৮ জনের একটি দল। এখান থেকে পুরান ঢাকার বিভিন্ন এলায় হিরোইনের চালান যায়। এ ছাড়াও আরো প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ স্পটে মাদক পাইকারি ও খুচরা বিক্রি হচ্ছে। অপর দিকে দক্ষিণ থানা এলাকার মাদক স্পটগুলো হলো আমবাগিচা খেলার মাঠের পাশে, ভাইভাই রোড, চরকুতুব, নামাপাড়া, চরকালিগঞ্জ, হাতিপাড়া, চৌধুরিপাড়া, আগানগর বেড়ীবাঁধ ও কালিগঞ্জ তেলঘাট, চুনকু, খেজুরবাগ, অমিতাবপুর, হাসনাবাদ,থআগানগর, জাইল্যা পট্টি, কালিগঞ্জ বাজার ও আব্দুল্লাহপুর। এসব স্পট থেকে নিয়মিত মাসোহারা নেয় থানা পুলিশ ও কতিপয় রাজনৈতিক অসাধু নেতা বলে জানা গেছে। এ ছাড়া মাদক ডিলার অনিক ও কাইল্যা জরিফ। এ ছাড়া আমবাগিচা ভাইভাই রোড, আগানগর, কদমতলী ডিবি অফিসের পেছনে ও প্রকাশ্যে মাদক কেনাবেচা হয়। এ বিষয়ে ঢাকা জেলা এডিশনাল এসপি (ক্রাইম সাউথ)তরিকুল ইসলাম নয়া দিগন্তকে বলেন, মাদকের ব্যাপারে কোনো ছাড়া নেই। এ যাবৎ বহু মাদককারবারির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। খোলামোড়া খেয়াঘাটে মাদককারবারিদের হামলায় দোকানি মৃত্যু শয্যায় এ বিষয়ে তিনি বলেন, আসলে ওই ঘটনা মাদক নিয়ে না।