শীর্ষেই থাকল মোহামেডান

Printed Edition

ক্রীড়া প্রতিবেদক

ঈদের ছুটি কাটিয়ে মাঠে ফিরেছে ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগ (ডিপিএল) অস্টম রাউন্ড। মিরপুর শেরেবাংলায় জয় পেয়েছে মোহামেডানও। লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জের বিপক্ষে ১০৭ রানে জিতে তারা এখন টেবিল টপার। মূলত তৌহিদ হৃদয়ের পঞ্চম লিস্ট এ সেঞ্চুরি, এনামুল হক বিজয় ও আফিফ হোসেনের অর্ধশতকে ৩৩৯ রানের বড় সংগ্রহ গড়ে মোহামেডান। জবাব দিতে নেমে রূপগঞ্জ সব ক’টি উইকেট হারিয়ে ২৩২ রান সংগ্রহ করে।

বাংলাদেশের লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে দ্রুততম ফিফটির রেকর্ডে ভাগ বসিয়েছেন লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জের ওপেনার হাবিবুর রহমান সোহান। মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের বিপক্ষে মাত্র ১৫ বলে হাফসেঞ্চুরি করে পারভেজ হোসেন ইমনের রেকর্ড স্পর্শ করেছেন তিনি। বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের মধ্যে দ্বিতীয় দ্রুততম ফিফটি ফরহাদ রেজার। প্রিমিয়ার লিগেই ২০১৯ সালে প্রাইম দোলেশ্বর স্পোর্টিং ক্লাবের হয়ে শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাবের বিপক্ষে ১৮ বলে ফিফটি করেছিলেন অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার। ১৯ বলে ফিফটি করে তিনে আছেন নাজমুল হোসেন। ২০০৭ সালে জাতীয় লিগের একদিনের ম্যাচের আসরে ঢাকা বিভাগের হয়ে খুলনা বিভাগের বিপক্ষে ইনিংসটি খেলেছিলেন তিনি। লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে দ্রুততম ফিফটির বিশ্বরেকর্ডটি ২০০৫ সালে নভেম্বরে শ্রীলঙ্কার প্রিমিয়ার লিমিটেড ওভার টুর্নামেন্টে ১২ বলে ফিফটি করেছিলেন কৌশল্য উইরারাতেœ। রাঙ্গামা ক্রিকেট ক্লাবের হয়ে সেদিন কুরুনেগালা ইয়ুথ ক্রিকেট ক্লাবের বিপক্ষে ৮ ছক্কায় ১৮ বলে ৬৬ করেছিলেন তিনি।

শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে সেই দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেন সোহান। বিশেষ করে জাতীয় দলের পেসার নাহিদ রানাকে লক্ষ্য বানিয়ে বিধ্বংসী ব্যাটিং শুরু করেন তিনি। সম্প্রতি নিউজিল্যান্ড ও পাকিস্তানের ব্যাটারদের ভুগিয়েছেন নাহিদ। কিন্তু এদিন তাকে রীতিমতো চাপে ফেলেন রূপগঞ্জ ওপেনার।

নাহিদের প্রথম ওভারে এক্সট্রা কাভারের ওপর দিয়ে চার মেরে শুরু করেন সোহান। পরের ওভারে আরো ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠেন। ওই ওভারে তিন ছক্কা ও দুই চারে ২৬ রান তুলে নেন তিনি।

ওভার শেষে মাত্র ১৩ বলেই ৪৬ রানে পৌঁছে যান সোহান। তখনই দ্রুততম ফিফটির রেকর্ড ভাঙার সম্ভাবনা জেগেছিল। যদিও নতুন রেকর্ড গড়া হয়নি, তবে অষ্টম ওভারে তাইজুল ইসলামের বলে বাইরের কানায় লেগে বল সীমানা পেরোতেই ১৫ বলে ফিফটি পূর্ণ করেন তিনি। শেষ পর্যন্ত ১১তম ওভারে তাইবুর রহমানের বলে এলবিডাব্লিউ হওয়ার আগে ২৭ বলে ৫৯ রান করেছেন। তার ইনিংসে ছিল ৬ চার ও ৫ ছক্কার মার।

দেশের ঘরোয়া ক্রিকেটে এর আগেও একটি রেকর্ড গড়েছিলেন সোহান। নর্থ জোনের হয়ে সেন্ট্রাল জোনের বিপক্ষে বাংলাদেশের লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে দ্রুততম সেঞ্চুরির রেকর্ড গড়েছিলেন তিনি। চলতি মৌসুমে আবাহনীর হয়ে সিটি ক্লাবের বিপক্ষে ৪৯ বলের সেঞ্চুরিতে সেই রেকর্ডে ভাগ বসান মোসাদ্দেক।

আবাহনীর বড় জয়

গুলশান ক্রিকেট ক্লাবের বিপক্ষে ১৭৩ রানের বড় জয় পেয়েছে আবাহনী লিমিটেড। তাদের হয়ে সেঞ্চুরি হাঁকিয়েছেন মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন। বিকেএসপির ৪ নম্বর মাঠে টসে জিতে আগে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয় আবাহনী। এরপর তারা নির্ধারিত ৫০ ওভারের খেলা শেষে ৫ উইকেট হারিয়ে ৩১৫ রানের সংগ্রহ দাঁড় করায়। অঙ্কন ৯৫ বলে ১০২ রান করে শেষ পর্যন্ত টিকে ছিলেন।

জবাব দিতে নেমে গুলশানের হয়ে ওপেনিং জুটিতে ৪৫ রান তোলেন রহমতউল্লাহ আলী এবং আলিফ ইমন। তবে দু’জনই ফিরেছেন ৪৫ রানের মাথায়। ১২ বলে ১৪ রান করেছেন ইমন। এ ছাড়া ২৫ বলে ৩০ রানের ইনিংস খেলেন রহমতউল্লাহ। এরপরই আসা-যাওয়ার মিছিলে যোগ দেন গুলশানের ব্যাটাররা। দ্রুতই একের পর এক উইকেট হারাতে থাকে গুলশান। শেষ পর্যন্ত ১৪২ রানে থেমেছে গুলশানের ইনিংস। ১৭৩ রানের বড় জয় তুলে নেয় আবাহনী।

অগ্রণী ব্যাংকের জয়

দিনের আরেক ম্যাচে সিটি ক্লাবের বিপক্ষে জয় পেয়েছে অগ্রণী ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাব। ৩২৭ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে দুই বল বাকি থাকতে ৫ উইকেটের জয় পেয়েছে অগ্রণী ব্যাংক। দলটির হয়ে ব্যাট হাতে ১৪৭ রান করেন মাহফিজুল ইসলাম রবিন।

তানজিদ-দীপুর সেঞ্চুরি

নিজেকে ঠিকঠাক ফুটিয়ে তুলতে পারছিলেন না তানজিদ হাসান তামিম। প্রাইম ব্যাংকের হয়ে দুই ম্যাচের কোনটিতেই ইনিংস বড় করতে পারেননি। জ্বলে উঠলেন ঈদের বিরতির পর লিগের প্রথম ম্যাচেই। পিকেএসপিতে ব্রাদার্স ইউনিয়নের বিপক্ষে ৯৩ বলে ১১৯ রান করেন তানজিদ। বাঁ হাতি ওপেনারের লিস্ট ‘এ’ ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ সেঞ্চুরি এটি। একই ইনিংসে আসরে নিজের দ্বিতীয় সেঞ্চুরি তুলে নেন শাহাদাত হোসেন দীপু। আর শেষদিকে শামীম হোসেনের ঝড়ো ফিফটিতে সাড়ে তিন শ’ ছাড়ানো সংগ্রহ পায় প্রাইম ব্যাংক। এরপর বৃষ্টি বাধায় বন্ধ হয়ে শুরু হওয়ায় খেলার শেষ পর্যন্ত পেরে ওঠেনি ব্রাদার্স ইউনিয়ন, বড় ব্যবধানে জিতেছে প্রাইম ব্যাংক।

রুবেলের ৬ উইকেট

বসুন্ধরা স্পোর্টস কমপ্লেক্সে ঢাকা লেপাডর্সের বিপক্ষে ২৩ রানে ৬ উইকেট নিয়ে গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্সকে এক উইকেটে জেতালেন মোহাম্মদ রুবেল। এবারের লিগেই লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে অভিষিক্ত এই রহস্য স্পিনার দ্বিতীয় ম্যাচে নিয়েছিলেন ৪ উইকেট, সপ্তম ম্যাচে পেয়ে গেলেন আরো বড় সাফল্য। লিস্ট ‘এ’ ক্যারিয়ারে প্রথমবারের মতো ৫ উইকেট নিয়ে দলকে জেতালেন গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্সের স্পিনার মো: রুবেল।