আজ নারী দিবস

নীলফামারীতে নারীশ্রমিকরা মজুরিবৈষম্যের শিকার

Printed Edition
নীলফামারীতে ধান ক্ষেত নিড়ানি দিচ্ছেন নারীশ্রমিকরা : নয়া দিগন্ত
নীলফামারীতে ধান ক্ষেত নিড়ানি দিচ্ছেন নারীশ্রমিকরা : নয়া দিগন্ত

নীলফামারী প্রতিনিধি

নারীদের অধিকার আদায়ে প্রতি বছর ৮ মার্চ নারী দিবস পালিত হলেও সমাজে এখনো নারীরা অনেক ক্ষেত্রে প্রাপ্য অধিকার থেকে বঞ্চিত। প্রতিনিয়ত তাদের অবহেলিত ও বৈষম্যের শিকার হতে হচ্ছে কর্মক্ষেত্রে। নীলফামারীতে পুরুষ শ্রমিকের মতো কাজ করলেও নারী শ্রমিকদের মজুরি তূলনামূলকভাবে কম। এ জন্য নীলফামারীতে নারী শ্রমিকদের কদরও বেড়েছে।

নীলফামারীর বেশ কিছু এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, বোরো ক্ষেত নিরানী, ক্ষেত থেকে বিভিন্ন সবজি উত্তোলন, ভুট্টা, মরিচ, তামাক, বেগুন, আলু ক্ষেত পরিচর্যাসহ বিভিন্ন মিল কারখানায় জীবিকার তাগিদে বাধ্য হয়ে শ্রমিকের পেশা বেছে নিয়ে কাজ করছেন নারীরা। কৃষি কাজ ছাড়াও অন্য কাজগুলো বেশ দক্ষতার সাথে করে থাকেন তারা। এরপরেও তাদের মজুরি পুরুষ শ্রমিকদের চেয়ে অনেক কম।

নীলফামারী সদর উপজেলার রামনগর ইউনিয়নের বাহালীপাড়া গ্রামের বোরো ধান ক্ষেত নিরানীর কাজ করছেন একদল মহিলা। এই দলের রহিমা বেগম জানান স্বামীর একার রোজগারে ছয়জনের সংসার চলে না। তাই পাড়ার অন্য মহিলাদের সাথে ধান ক্ষেত নিরানীর কাজে এসেছি। ডিমলা উপজেলার নাউতারা ইউনিয়নের উত্তর নাউতারা গ্রামে মরিচ ক্ষেতে কাজ করছেন জমিলা। সে জানায় তার স্বামী তিন বছর আগে মারা গেছে। নাবালক দু’টি সন্তানের মুখে ভাত দিতে তাকে শ্রমিকের কাজ করতে হয়। তিনি জানান পুরুষ শ্রমিকরা যা কাজ করে আমরাও তা করি; কিন্তু আমাদের মজুরি তাদের চেয়ে কম।

নীলফামারী সদর উপজেলার টুপামারী ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য মজিবর রহমান বলেন, আমাদের এলাকায় একজন পুরুষ শ্রমিকের মজুরি ৫০০ টাকা আর নারী শ্রমিকের মজুরি ২০০ থেকে ৩০০ টাকা। পুরুষের মতোই নারীরাও কাজ করে থাকেন। এ ছাড়া পুরুষদের মতো নারীরা কাজে ফাঁকি দেন না। এ জন্য আমাদের এলাকায় নারী শ্রমিকদের চাহিদা বেশি। জমি ও মিল মালিকরা কাজের জন্য আগে নারী শ্রমিকদের খোঁজে থাকেন। নীলফামারী মহিলাবিষয়ক অধিদফতরের উপপরিচালক আনিসুর রহমান জানান নীলফামারীতে ধীরে ধীরে নারীদের মজুরিবৈষম্যের হার কমে আসছে।