হাম ও উপসর্গে মৃত্যু ৬০০ ছাড়াল

Printed Edition

নয়া দিগন্ত ডেস্ক

দেশে হাম ও উপসর্গে চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে গতকাল পর্যন্ত আড়াই মাসে মোট মৃত্যু ৬০০ ছাড়িয়েছে। মঙ্গলবার সকাল থেকে গতকাল সকাল পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গ নিয়ে আরো সাত শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ সময় নতুন করে আক্রান্ত হয়েছে এক হাজার ২৬৫ জন।

গতকাল স্বাস্থ্য অধিদফতরের সর্বশেষ প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

স্বাস্থ্য অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, দেশে হামে এবং এর উপসর্গ নিয়ে গতকাল সকাল পর্যন্ত মোট ৬০১ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে নিশ্চিত হামে মৃত্যু হয়েছে ৯০ শিশুর। আর উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে ৫১১ জন।

একই সময়ে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়েছে (পরীক্ষায় প্রমাণিত) ৯ হাজার ১৯১ জন। আর উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৭৪ হাজার ৫৭২ জন। আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা ঢাকা বিভাগে সবচেয়ে বেশি। এ বিভাগের হাম ও উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে ২৬৪ জন ও আক্রান্ত ৪১ হাজার ৪৪৯ জন। এই হিসাব গত ১৫ মার্চ সকাল ৮টা থেকে গতকাল সকাল ৮টা পর্যন্ত সময়ের।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে সবশেষ ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে মারা যাওয়া শিশুদের মধ্যে ছয়জন ঢাকা বিভাগের এবং একজন ময়মনসিংহ বিভাগের।

রমেকে শিশুর মৃত্যু

রংপুর ব্যুরো জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে হামের উপসর্গ নিয়ে আরো এক শিশু মারা গেছে। এ নিয়ে এই হাসাপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেল ছয় শিশু। এ ছাড়াও এই বিভাগে পরীক্ষায় হাম শনাক্ত হয়েছে ৬০ জনের।

গতকাল দুপুরে এই তথ্য জানান রমেক হাসপাতালের হাম চিকিৎসার বিশেষ কমিটির ফোকালপার্সন ডা: আ ন ম তানভীর চৌধুরী। তিনি জানান, বুধবার সকাল সাড়ে ৭টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আইসোলেশন বিভাগে চিকিৎসাধীন আবু হুজাইফা নামে পাঁচ মাসের এক শিশুর মারা গেছে। তার বাড়ি পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায়। গত ২৯ মে হামের উপসর্গ নিয়ে পঞ্চগড় হাসপাতাল থেকে এখানে ভর্তি করা হয়েছিল।

মতলবে ১ দিনে ভর্তি ৬ জন

মতলব দক্ষিণ (চাঁদপুর) সংবাদদাতা জানান, চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে হাম আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। এ হাসপাতালে এক দিনে ছয় শিশু ভর্তি হয়েছে।

গতকাল সরেজমিন দেখা যায়, ৫০ শয্যার এ হাসপাতালে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ছয়জন শিশু হাম উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হয়েছে।

হাসপাতালের মেডিক্যাল অফিসার ডা: নঈমুল ইসলাম রাজিব বলেন, সচরাচর হামে আক্রান্ত শিশু রোগীই ভর্তি ও চিকিৎসা নিয়েছে। তবে গতকাল একজন বয়স্ক ব্যক্তি ভর্তি হয়েছিলেন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) জেলা কো-অডিনেটর পরীক্ষা নিরীক্ষার স্যাম্পল সংগ্রহ করে রিপোর্ট পেতে ১৫-২০ দিন সময় লাগে। এতে রোগীর সঠিক চিকিৎসাসেবা প্রদান বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।