যুবদল নেতাসহ নিহত ২ চুয়াডাঙ্গায় আহত ২৩

Printed Edition

নয়া দিগন্ত ডেস্ক

চট্টগ্রামে যুবদল নেতা ও সিরাজগঞ্জে মাছ ব্যবসায়ী নিহত হন। এ ছাড়া চুয়াডাঙ্গায় বাস দুর্ঘটনায় ২৩ জন আহত হয়েছেন।

মিরসরাই (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি জানান, চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে সড়ক দুর্ঘটনায় মো: সালাহ উদ্দিন (৩৬) নামে যুবদলের এক নেতা নিহত হয়েছে। গতকাল দুপুরে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল সড়কের মুসলিম চত্বরে (সাবেক ইসমাইল খান চত্বর) এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত সালাহ উদ্দিন উপজেলার সাহেরখালী ইউনিয়নের মোল্লাপাড়া এলাকার মৃত মহিউদ্দিনের ছেলে। তিনি সাহেরখালী ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহবায়কের দায়িত্বে ছিলেন।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, বড়তাকিয়া বাজার থেকে মোটরসাইকেলযোগে বাড়ি ফিরছিলেন সালাহ উদ্দিন। মুসলিম চত্বরে যাওয়ার পর সেভেন রিং সিমেন্টের তেলবাহী গাড়ি এবং চিটাগং অনলাইন লিমিটেডের ইন্টারনেট সংযোগের ডাবল কেবিন পিকআপের সাথে সংঘর্ষে ঘটনাস্থলে তিনি মারা যান। খবর পেয়ে লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। দুর্ঘটনায় কবলিত মোটরসাইকেল, তেলবাহী গাড়ি ও পিকআপ পুলিশ হেফাজতে রয়েছে।

মিরসরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, ইকনোমিক জোন সড়কে দুর্ঘটনায় সালাহ উদ্দিন নামে একজন নিহত হয়েছে। গাড়িগুলো পুলিশ হেফাজতে রয়েছে।

তাড়াশ (সিরাজগঞ্জ) সংবাদদাতা জানান, সিরাজগঞ্জের তাড়াশে ট্রাকের ধাক্কায় আবু বক্কর ( ৫৮ ) নামের এক মাছ ব্যবসায়ীর মৃত্যু হয়েছে।

গতকাল সকাল ৮টার দিকে নিমগাছী বাজারে এই দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত আবু বক্কর উপজেলার দেশীগ্রাম ইউনিয়নের আরঙ্গাইল গ্রামের মৃত মইর আলী আকন্দের বড় ছেলে।

নিহতের বড় ছেলে আব্দুল জলিল বলেন, ‘আমার বাবা মাছের ব্যবসা করত।

মাছ কেনার জন্য পার্শ্ববর্তী নিমগাছি বাজারে গেলে দ্রুতগতির সিমেন্ট বোঝাই ট্রাক ধাক্কা দিলে ঘটনাস্থলেই তিনি মারা যান।

চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি জানান, চুয়াডাঙ্গায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ঢাকাগামী একটি যাত্রীবাহী বাস সড়কের পাশের গাছে সজোরে ধাক্কা খেয়ে উল্টে গেলে অন্তত ২৩ জন যাত্রী আহত হয়েছেন। মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনায় এক যাত্রীর হাত শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে এবং অপর এক যাত্রী দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন বলে জানা গেছে। আহতদের মধ্যে একই পরিবারের নারী ও শিশুসহ অন্তত সাতজন সদস্য রয়েছেন। গতকাল সকাল পৌনে ১০টার দিকে চুয়াডাঙ্গা-ঝিনাইদহ সড়কের সদর উপজেলার সরোজগঞ্জ বাজার এলাকায় দুর্ঘটনাটি ঘটে।

স্থানীয় প্রত্যদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আলমডাঙ্গা ও চুয়াডাঙ্গা থেকে যাত্রী নিয়ে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়া ‘রয়েল এক্সপ্রেস’-এর একটি বাস দ্রুত গতিতে চলছিল। সরোজগঞ্জ বাজার এলাকায় একটি ব্যাটারিচালিত ভ্যানকে পাশ কাটাতে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারান বাসটির চালক। এ সময় বাসটি সড়কের পাশে থাকা একটি গাছে সজোরে ধাক্কা খেয়ে উল্টে যায়।

চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের সিনিয়র কনসালটেন্ট (অর্থোপেডিক) ডা: আব্দুর রহমান ও সার্জারি বিশেষজ্ঞ ডা: এহসানুল হক তন্ময় জানান, হাসপাতালের ওয়ার্ডগুলোতে ২৩ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে চার থেকে ছয়জনের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। প্রাথমিক চিকিৎসা ও অস্ত্রোপচার শেষে বেশ কয়েকজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ও রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়েছে।

এ দিকে দুর্ঘটনার খবর পেয়ে আহতদের সার্বিক চিকিৎসাসেবাসহ শারীরিক অবস্থার খোঁজ নিতে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে যান চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মাসুদ পারভেজ রাসেল এবং জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শরীফুজ্জামান শরীফ।

চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান জানান, দুর্ঘটনায় কবলিত বাসটি উদ্ধার করা হয়েছে।