ফার্নেস অয়েলের দাম লিটারে কমল ১৬ টাকা, বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয় কমার আশা

আশরাফুল ইসলাম
Printed Edition

ভোক্তা পর্যায়ে ফার্নেস অয়েলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। নতুন নির্ধারিত মূল্য অনুযায়ী প্রতি লিটার ফার্নেস অয়েল এখন ৭০ টাকা ১০ পয়সা, যা গতকাল রোববার রাত ১২টা থেকে কার্যকর হয়েছে। এর আগে এই জ্বালানির দাম ছিল প্রতি লিটার ৮৬ টাকা। ফলে এক লিটারেই দাম কমেছে ১৫ টাকা ৯০ পয়সা। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, ফার্নেস ওয়েলের দাম কমায় বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয় কমে যাবে, এতে কমবে শিল্পের উৎপাদন ব্যয়।

বিইআরসি জানিয়েছে, বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন আইন, ২০০৩-এর ধারা ৩৪ (৪) ও ৩৪ (৬) অনুযায়ী এই মূল্য পুননির্ধারণ করা হয়েছে। কমিশনের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ফার্নেস অয়েলের নতুন মূল্য সারা দেশে একযোগে কার্যকর হবে।

প্রস্তাব, গণশুনানি ও মূল্য নির্ধারণের প্রক্রিয়া : ফার্নেস অয়েলের দাম সমন্বয়ের জন্য প্রথমে প্রস্তাব দেয় রাষ্ট্রায়ত্ত বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)। ২০২৫ সালের ২০ জানুয়ারি কমিশনের কাছে জমা দেয়া ওই প্রস্তাবের পর পর্যায়ক্রমে তেল বিপণন কোম্পানিগুলোও তাদের বিক্রয় চার্জ ও সমন্বিত পরিবহন ব্যয় বাড়ানোর প্রস্তাব দেয়। প্রস্তাব জমা দেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলো হলো- মেঘনা পেট্রোলিয়াম লিমিটেড, যমুনা অয়েল কোম্পানি লিমিটেড, পদ্মা অয়েল কোম্পানি লিমিটেড ও স্ট্যান্ডার্ড এশিয়াটিক অয়েল কোম্পানি লিমিটেড। চলতি বছরের ২৯ জানুয়ারি এ বিষয়ে গণশুনানি অনুষ্ঠিত হয়। এরপর ৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত লিখিত মতামত গ্রহণ করা হয়। কমিশন জানায়, প্রস্তাবকারী প্রতিষ্ঠান, আগ্রহী পক্ষ ও প্রাপ্ত মতামত বিশ্লেষণের পর আইন অনুযায়ী ক্ষমতা প্রয়োগ করে নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

বিপণন ও পরিবহন চার্জ নির্ধারণ : নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ফার্নেস অয়েল বিপণনে চারটি রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানির জন্য প্রতি লিটার বিক্রয় চার্জ নির্ধারণ করা হয়েছে ৭২ পয়সা। সমন্বিত পরিবহন চার্জ ধরা হয়েছে প্রতি লিটার ১ টাকা ২০ পয়সা। জ্বালানি খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই চার্জ নির্ধারণের মাধ্যমে সরবরাহ ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা বাড়বে এবং বিতরণ পর্যায়ে ব্যয়ের কাঠামো স্পষ্ট হবে।

বিদ্যুৎ খাতে প্রভাব : ফার্নেস অয়েল মূলত তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে ব্যবহৃত হয়। ফলে এই জ্বালানির দাম কমার সরাসরি প্রভাব পড়বে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয়ে। বাংলাদেশে এখনো উল্লেখযোগ্য সংখ্যক তেলচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্র চালু রয়েছে, যেগুলোর উৎপাদন ব্যয় গ্যাসভিত্তিক কেন্দ্রের তুলনায় অনেক বেশি।