আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ৯ লাখ সদস্য প্রস্তুত

উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা ঝুঁকি নিয়েই উৎসবমুখর ভোটের আশা

Printed Edition

জিলানী মিলটন ও এস এম মিন্টু

  • অধিক ঝুঁকিতে ৩ সহ¯্রাধিক কেন্দ্র
  • অস্ত্র-বিস্ফোরক ঠেকাতে বিমানবন্দরে সতর্কতা
  • ব্যালট বাক্স ছিনতাইসহ যেকোনো অনিয়ম পেলে কঠোর ব্যবস্থা : স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

উত্তরা আব্দুল্লাহপুর বেড়িবাঁধ এলাকার চা দোকানে আড্ডা দিচ্ছিলেন কয়েকজন যুবক। তাদের মধ্যে একজন সাব্বির পাটোয়ারী বলছিলেন, আগামীকাল (আজ) ভোট। নির্বাচনের আগে যে ধরনের উত্তাপ থাকার কথা তেমনটি নেই। কেমন যেন নিশ্চুপ-নীরবতায় এবারের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। তিনি বলেন, গম্ভীর থাকা ভালো লক্ষণ নয়। কাল নির্বাচনে দুই পক্ষের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তার পাশেই আরেক যুবক সাদ্দাম হোসেন বলেন, ১৬ বছরে কোনো নির্বাচনে উৎসব ছিল না। এবারের নির্বাচনে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা থাকলেও ভোট হবে উৎসবমুখর। সাব্বির পাটোয়ারী ও সাদ্দামের মতো গতকাল এমন অনেক ভোটারের সাথে কথা হলে তারা নয়া দিগন্তকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বিষয়ে এমন মত প্রকাশ করেন।

এদিকে নির্বাচন উপলক্ষে সশস্ত্রবাহিনীর সদস্যসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা এবার সর্বাধিক। কেন্দ্র দখল বা সহিংসতা রোধে সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। ড্রোন, হেলিকপ্টার, স্ট্রাইকিং ফোর্স আকাশভিত্তিক কার্যক্রম এরই মধ্যে শুরু করা হয়েছে।

অপরদিকে গোয়েন্দা সূত্র জানিয়েছে, নির্বাচনের উৎসবের ফাঁকে আকাশপথে বিমানবন্দরগুলো দিয়ে অস্ত্র-বিস্ফোরক আশার সম্ভাবনা রয়েছে। অস্ত্র-বিস্ফোরক ঠেকাতে বিমানবন্দরগুলোতে সর্বোচ্চ সতর্ক রয়েছে গোয়েন্দারা।

নির্বাচনে কোনো ভোটকেন্দ্রে ব্যালট বাক্স ছিনতাই, জাল ভোট প্রদানসহ কোনো ধরনের অনিয়ম ঘটলে তার জন্য সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও নির্বাচন কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব:) মো: জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা গতকাল বুধবার সকালে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের অপারেশন কন্ট্রোল রুম এবং ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) নিউমার্কেট ও মোহাম্মদপুর থানা পরিদর্শনকালে পুলিশের উদ্দেশে এ কথা বলেন। পরিদর্শনকালে আইজিপি বাহারুল আলম এবং অতিরিক্ত আইজিগণ উপস্থিত ছিলেন।

পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের অপারেশন কন্ট্রোল রুম পরিদর্শনকালে উপদেষ্টা সারা দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও জাতীয় নির্বাচন উপলক্ষে বাংলাদেশ পুলিশ গৃহীত নিরাপত্তা ব্যবস্থা পর্যবেক্ষণ করেন। এ সময় তিনি বডি ওর্ন ক্যামেরার কার্যক্রম পরিদর্শন করেন।

নিউমার্কেট ও মোহাম্মদপুর থানা পরিদর্শনকালে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা পুলিশ সদস্যদের সততা, দক্ষতা ও আন্তরিকতার সাথে নির্বাচনী দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেন। তিনি এ সময় নির্বাচনে কোনো ভোটকেন্দ্রে ব্যালট বাক্স ছিনতাই, জাল ভোট প্রদানসহ কোনো ধরনের অনিয়ম ঘটলে তার জন্য সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও নির্বাচনী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের হুঁশিয়ারি দেন।

উপদেষ্টা পরে রাজধানীর টিচার্স ট্রেনিং কলেজ কেন্দ্র পরিদর্শন করেন যেখান থেকে ঢাকার বিভিন্ন আসনের নির্বাচনী সামগ্রী বিতরণ করা হচ্ছে।

এ দিকে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রধান দুই রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে ঢাকা ও ঢাকার বাইরে সহিংসতা ও হামলার ঘটনা ঘটেছে। গতকাল রাজধানীর বনানীতে জামায়াতের এক নারী পোলিং অফিসারের ওপর আক্রমণের অভিযোগ করা হয়েছে। এ ছাড়াও জয়পুরহাটে বিএনপি-জামায়াতের সংঘর্ষের ঘটনায় উভয়পক্ষের ১১ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

নির্বাচনী মাঠে শান্তি-শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভোটকেন্দ্রগুলোতে গড়ে তোলা হয়েছে কয়েক স্তরের নিরাপত্তা বলয়। পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় টহল ও তল্লাশি চৌকি বসিয়েও দায়িত্ব পালন করছেন যৌথবাহিনীর সদস্যরা। সার্বিক এই নিরাপত্তা ব্যবস্থায় মোতায়েন রয়েছেন সশস্ত্রবাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রায় ৯ লাখ সদস্য। পাশাপাশি এ সময়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতসহ মাঠে বিশেষ দায়িত্ব পালন করছেন এক হাজার ৫১ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট।

সংশ্লিষ্টদের তথ্যমতে, ভোটের মাঠে নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় বিশেষ দায়িত্ব পালন করছেন বিভিন্ন বাহিনী ও সংস্থার সর্বমোট আট লাখ ৯৭ হাজার ১১৭ জন সদস্য। এর মধ্যে সশস্ত্রবাহিনীর এক লাখ আট হাজার সদস্য মোতায়েন রয়েছেন, যার মধ্যে সেনাবাহিনীর প্রায় এক লাখ, নৌবাহিনীর পাঁচ হাজার ও বিমানবাহিনীর তিন হাজার ৭৩০ সদস্য। এ ছাড়াও মোতায়েন রয়েছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর রক্ষার প্রধান সংস্থা বাংলাদেশ পুলিশের এক লাখ ৪৯ হাজার ৪৪৩ সদস্য, আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর পাঁচ লাখ ৭৬ হাজার ৩১৪, বিজিবির ৩৭ হাজার ৪৫৩, বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের তিন হাজার ৫৮৫, র‌্যাবের সাত হাজার ৭০০ এবং সাপোর্ট সার্ভিস হিসেবে ফায়ার সার্ভিসের ১৩ হাজার ৩৯০ জন সদস্য।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পরিপত্র অনুযায়ী, এবার নির্বাচনে সারা দেশে (মহানগর এলাকার বাইরে) প্রতিটি সাধারণ ভোটকেন্দ্রে ১৬ থেকে ১৭ জন এবং ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে ১৭ থেকে ১৮ জন নিরাপত্তা সদস্য মোতায়েন থাকবেন। এ ছাড়া মহানগর এলাকার সাধারণ ভোটকেন্দ্রে ১৬ জন ও ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে ১৭ জন মোতায়েন থাকবেন। দুর্গম হিসেবে চিহ্নিত ২৫ জেলার নির্দিষ্ট এলাকার ভোটকেন্দ্রে মোতায়েন থাকবেন ১৬ থেকে ১৮ জন করে সদস্য।

অন্য দিকে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদফতরের (আইএসপিআর) সংবাদ বিজ্ঞপ্তি থেকে জানা যায়, উপকূলীয় ২৫টি উপজেলায় বাংলাদেশ নৌবাহিনী দায়িত্ব পালন করছেন। এর বাইরে সারা দেশে মোতায়েন রয়েছে সেনাবাহিনীর প্রায় এক লাখ সদস্য। ভোটের দিন স্বার্থান্বেষী মহলের যেকোনো ধরনের অপতৎপরতা, সহিংসতা ও বিশৃঙ্খলা প্রতিরোধে সশস্ত্রবাহিনীর আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। এ লক্ষ্যে পর্যাপ্তসংখ্যক ড্রোন এবং বডি ওর্ন ক্যামেরা ব্যবহারের মাধ্যমে পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। এমনকি উপকূলীয় অঞ্চলে উদ্ভূত যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবেলায় নৌবাহিনীর জাহাজ, হেলিকপ্টার, কুইক রেসপন্স ফোর্স ও সোয়াডস টিম সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

পুলিশ সদর দফতরে গত মঙ্গলবার আয়োজিত আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে আইজিপি বাহারুল আলম বলেন, ‘এবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রযুক্তি ব্যবহারের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ৯০ শতাংশ কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা লাগানো হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে বডি ওর্ন ক্যামেরা ব্যবহার করা হবে। এ ছাড়া পুলিশ সুপাররা (এসপি) ড্রোন ব্যবহার করে বিভিন্ন ভোটকেন্দ্র ও এলাকা মনিটরিং করবেন।’

একই প্রসঙ্গে ডিএমপি কমিশনার শেখ মো: সাজ্জাত আলী বলেছেন, এবার ঢাকা মহানগর এলাকায় ভোটকেন্দ্র রয়েছে দুই হাজার ১৩১টি। এলাকার অবস্থান, ভোটার সংখ্যা ও নিরাপত্তা বিবেচনায় কেন্দ্রগুলোকে ‘গুরুত্বপূর্ণ’ (ঝুঁকিপূর্ণ) ও ‘সাধারণ’, দু’টি শ্রেণীতে ভাগ করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ এক হাজার ৬১৪টি ভোটকেন্দ্রে এবং সাধারণ ৫১৭টি ভোটকেন্দ্রে প্রয়োজনীয় সংখ্যক পুলিশ সদস্যসহ অন্যান্য বাহিনীর সদস্যরা মোতায়েন থাকবেন। ভোটকেন্দ্রের পরিস্থিতি জানতে ‘বডি ওর্ন ক্যামেরা’সহ একজন পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন।

গতকাল বুধবার জাতীয় সংসদের বিপরীতে রাজধানী উচ্চবিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে নির্বাচনি নিরাপত্তাসংক্রান্ত এক সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন, র‌্যাব মহাপরিচালক এ কে এম শহিদুর রহমান। এ সময় তিনি বলেন, নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কোনো ঝুঁকি নেই; বরং এবার নির্বাচনে তাদের ঝুঁকি আছে, যারা নির্বাচনকে ব্যাহত করতে চাইবে, জালভোট দিতে যাবে, ভোটের ব্যালট বাক্স ছিনতাই করতে যাবে এবং ভোটকেন্দ্রে আক্রমণ করবে। ভোটের ফলাফল মেনে না নিয়ে কেউ যদি নাশকতা, বিশৃঙ্খলা তৈরির চেষ্টা করে আমরা সর্বোচ্চ কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রের তালিকা : গোয়েন্দা সূত্র জানায়, গতকাল পর্যন্ত আট বিভাগের ৪৫টি জেলায় তিন হাজার ১১৫টি কেন্দ্র অধিক ঝুঁকিপূর্ণ। রংপুর বিভাগে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র ২৪৫টি। এর মধ্যে পঞ্চগড়-১ আসনে ১৪টি, ঠাকুরগাঁও-১ ও ৩ আসনে ৯৫টি, লালমনিরহাট-১ আসনে ৪০টি, রংপুর-৩ ও ৪ আসনে ৬৪টি এবং গাইবান্ধা-৫ আসনে ৩২টি। রাজশাহী বিভাগে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রের সংখ্যা ৩২৬টি। এর মধ্যে বগুড়া-২, ৪ ও ৫ আসনে ৯৮টি, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনে ২৫টি, রাজশাহী-১ ও ২ আসনে ৭১টি, নাটোর-১ আসনে ১৩টি, সিরাজগঞ্জ-১, ২ ও ৪ আসনে ৯৯টি এবং পাবনা-১ ও ৩ আসনে ২০টি।

খুলনা বিভাগে ৪০১টি অধিক ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রের মধ্যে কুষ্টিয়া-১ ও ৩ আসনে ৯৪টি, চুয়াডাঙ্গা-১ আসনে ১৬টি, ঝিনাইদহ-৩ ও ৪ আসনে ২৮টি, যশোর-২ ও ৫ আসনে ৩১টি, খুলনা ২, ৩ ও ৪ আসনে ১২৮টি, সাতক্ষীরা-১ ও ৫ আসনে ৪৫টি এবং বাগেরহাট-১ আসনে ৫৯টি।

বরিশাল বিভাগে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র ৪৯০টি। এর মধ্যে বরগুনা-২ আসনে ১৪টি, ঝালকাঠি-১ আসনে ১৮টি, পটুয়াখালী-২ ও ৩ আসনে ১০১টি, ভোলা-১, ২, ৩ ও ৪ আসনে ১৪৯টি, বরিশাল-১, ৩ ও ৫ আসনে ১৩৩টি এবং পিরোজপুর-২ ও ৩ আসনে ৭৫টি।

ঢাকা বিভাগে ৮১৮টি অধিক ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রের মধ্যে টাঙ্গাইল-১, ৪ ও ৮ আসনে ৪৭টি, কিশোরগঞ্জ-৪ ও ৫ আসনে ৭৮টি, মানিকগঞ্জ-১ আসনে ৩৪টি, মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনে ১৭টি, ঢাকা-২, ৩, ৪, ৭, ৮, ১০, ১২ ও ১৫ আসনে ৩৭০টি, নারায়ণগঞ্জ-২, ৩ ও ৪ আসনে ১১০টি, ফরিদপুর-৪ আসনে ১৮টি, শরীয়তপুর ১ ও ২ আসনে ৯২টি এবং মাদারীপুর-৩ আসনে ৫২টি।

ময়মনসিংহ বিভাগে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র ১৭৪টি। এর মধ্যে শেরপুর-৩ আসনে ২৬টি, ময়মনসিংহ-১, ২, ৯, ১০ ও ১১ আসনে ১০৭টি, নেত্রকোনা-৩ আসনে ৩২টি এবং জামালপুর-৪ আসনে ৯টি। সিলেট বিভাগের সুনামগঞ্জ-২ আসনে ১৩টি ও মৌলভীবাজার-৩ আসনে ৫০টি অধিক ঝুঁঁকিপূর্ণ কেন্দ্র।

চট্টগ্রাম বিভাগে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র ৫৯৮টির মধ্যে কুমিল্লা-৪, ৯ ও ১১ আসনে ৭৮টি, চাঁদপুর-৪ আসনে ৩৮টি, নোয়াখালী-২ ও ৬ আসনে ৮টি, চট্টগ্রাম-২, ১০, ১১, ১৪, ১৫ ও ১৬ আসনে ২৯৪টি, ফেনী-১ ও ৩ আসনে ৫৫টি এবং লক্ষ্মীপুর-২ ও ৩ আসনে ১২৫টি।