বোরহান উদ্দিন রব্বানী, শরীয়তপুর
পদ্মা-মেঘনা অববাহিকার কৃষিপ্রধান জেলা শরীয়তপুরে পলিযুক্ত উর্বর জমি, কৃষি বিভাগের সহায়তা ও কৃষকদের পরিশ্রম মিলিয়ে নতুন সম্ভাবনার সৃষ্টি হয়েছে পেঁপে চাষে। তুলনামূলক কম খরচ ও বেশি লাভজনক হওয়ায় কৃষকরা এখন বাণিজ্যিকভাবে পেঁপে আবাদে ঝুঁকছেন।
পেঁপে শুধু ফল হিসেবেই নয়, এর রয়েছে বহুমুখী ব্যবহার। কাঁচা পেঁপে সবজি হিসেবে বেশ সুস্বাদু। পেঁপের লেটেক্স (দুধ) ব্যবহৃত হয় ওষুধ শিল্পে। ফলে স্থানীয় বাজার ছাড়াও এ জেলার উৎপাদিত পেঁপে রফতানির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। বর্তমানে শরীয়তপুরের পেঁপে স্থানীয় পাইকারদের মাধ্যমে ঢাকায় সরবরাহ হচ্ছে, কৃষকরাও অর্থনৈতিকভাবে আগের চেয়ে বেশি লাভবান হচ্ছেন।
শরীয়তপুরের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর জানায়, চলতি মৌসুমে জেলায় ২০১ হেক্টর জমিতে পেঁপের আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে ভেদরগঞ্জ উপজেলায় ৬৫ হেক্টর, জাজিরায় ৬০, নড়িয়ায় ৩০, গোসাইরহাটে ১৬, ডামুড্যায় ১৫ এবং সদর উপজেলায় ১৫ হেক্টর জমিতে উন্নত জাতের পেঁপে চাষ হয়েছে। জাতগুলোর মধ্যে রয়েছে উফশী জাতের শাহী, রেড মাস্টার, বাবু-১, রেড লেডি এবং স্থানীয় জাত। উফশী জাতের পেঁপের হেক্টরপ্রতি সর্বোচ্চ ফলন ২০ থেকে ২৫ মেট্রিকটন। পেঁপের গড় ফলন ১৫ মেট্রিকটন।
ভেদরগঞ্জের চরকুমারিয়া ইউনিয়নের কৃষক মোহাম্মদ আলী মোল্লা বলেন, গত তিন বছর ধরে কৃষি বিভাগের পরামর্শে উফশী শাহী জাতের পেঁপে চাষ করছি। প্রথম বছর এক বিঘায় ৬৫ হাজার টাকা খরচ করে বিক্রি করেছি দুই লাখ ২৫ হাজার টাকার পেঁপে। ভালো লাভ হওয়ায় এবার তিন বিঘা জমিতে চাষ করেছি। অন্যান্য ফসলের তুলনায় পেঁপে চাষে ঝুঁকি কম, লাভও বেশি।
জাজিরার চরখোড়াতলা গ্রামের কৃষক আলমগীর সদরদার বলেন, কৃষি কর্মকর্তাদের অনুপ্রেরণায় চার বছর আগে পেঁপে আবাদ শুরু করি। প্রথম বছর বিঘাপ্রতি দেড় লাখ টাকা লাভ হয়েছিল। পরের বছরগুলোতে অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে ফলন ও লাভ দুটোই বেড়েছে। আগে মৌসুমভিত্তিক সবজি চাষ করতাম। খরচের তুলনায় লাভ কম হতো। এখন স্থানীয় পাইকারের মাধ্যমে শরীয়তপুর ও ঢাকায় পেঁপে বিক্রি করে ভালো আয় করতে পারছি।
জাজিরা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ওমর ফারুক জানান, প্রথম দিকে কৃষকদের আগ্রহ ছিল কম। কিন্তু নিয়মিত প্রশিক্ষণ, উন্নত জাতের চারা সরবরাহ, রোগবালাই প্রতিরোধ ও বাজারজাতকরণে পরামর্শ দেয়ায় কৃষকরা বেশ আগ্রহী হয়ে উঠছেন। সঠিক পদ্ধতি ও উন্নত জাত ব্যবহারে কম খরচে বেশি লাভ পাচ্ছেন। ফলে আশপাশের কৃষকরাও পেঁপে চাষে এগিয়ে আসছেন।
তিনি আরো বলেন, পেঁপের বহুমুখী ব্যবহার রয়েছে। পাকা পেঁপে ফল হিসেবে তো বেশ লোভনীয় একটি ফল, সেই সাথে কাঁচা পেঁপেও সবজি হিসেবে বেশ সুস্বাদু। এ ছাড়া পেঁপে গাছ থেকে পাওয়া লেটেক্স ওষুধ শিল্পে ব্যবহৃত হওয়ায় রফতানির সুযোগ তৈরি হয়েছে। আমরা আশা করি, উচ্চমূল্যের এই ফসল কৃষকদের অর্থনৈতিক অবস্থাকে আরো শক্তিশালী করবে।



