সারা দেশে জামায়াতের বিক্ষোভ ও সমাবেশ

বিদ্যুতের মূল্য না বাড়িয়ে দুর্নীতি বন্ধ করুন

Printed Edition
জ্বালানি তেল ও বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রতিবাদে রাজধানীর পল্টন এলাকায় জামায়াতে ইসলামীর বিক্ষোভ : নয়া দিগন্ত
জ্বালানি তেল ও বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রতিবাদে রাজধানীর পল্টন এলাকায় জামায়াতে ইসলামীর বিক্ষোভ : নয়া দিগন্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক

দফায়-দফায় জ্বালানি তেল ও বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার সরকারের উদ্দেশে বলেছেন, বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি না করে দুর্নীতি বন্ধ করুন। সরকার গঠনের মাত্র তিন মাসের ব্যবধানে মন্ত্রীদের দেখলেই জনগণ ভুয়া ভুয়া স্লোগান দিচ্ছে, সরকারের সেটি বুঝতে না পারা সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা। জনগণের ওপর জুলুম-নির্যাতন করে কেউই ক্ষমতায় থাকতে পারেনি, পারবে না। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের উত্তর গেটে বিক্ষোভ মিছিল-পূর্ব সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, এই সরকার জনগণের সাথে দেয়া প্রতিটি প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেছে। সরকার নির্বাচনী বৈতরণী পার হতে জনগণকে চমকপ্রদ প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। বিএনপি নিজের ৩১ দফায় সংবিধান সংস্কারের ওয়াদা দিলেও সরকার গঠন করে সেই ওয়াদা পূরণ করেনি। বরং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংসদে দাঁড়িয়ে স্বীকার করেছেন তারা কেবলমাত্র নির্বাচনের জন্যই সংস্কারের পক্ষে কথা বলেছে। তারা সংস্কার চায় না বলেই গণভোটের রায় মেনে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করছে না। কারণ সংস্কার হলে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে দলীয়করণ করতে পারবে না, চাঁদাবাজি করতে পারবে না, ব্যাংক দখল-লুট করতে পারবে না।

তিনি আরো বলেন, বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি করতে সরকার গণশুনানির আয়োজন করেছিল। সেই গণশুনানিতে অংশীজনেরা বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি না করার সুপারিশ করেছে। কিন্তু সরকার জনগণের সেই সুপারিশ ও মতামত উপেক্ষা করে আবারো প্রায় ১৭ শতাংশ দাম বৃদ্ধির পথে হাঁটছে। সরকারের শুরুই হয়েছে জনগণের গণরায় উপেক্ষা করার মধ্য দিয়ে। জনগণ গণভোটে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের পক্ষে গণরায় দিয়েছে। কিন্তু সরকার সেই রায় উপেক্ষা করে সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ গ্রহণ করেনি এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করেনি। এ জন্য জনগণ মনে করে এই সরকার গণবিরোধী সরকার। বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

সংগঠনের সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান এমপি বলেন, সরকার এক মাসে দুইবার তেলের দাম বৃদ্ধি করেছে। এর আগে গ্যাসের দাম বৃদ্ধি করেছে।

দফায় দফায় বিদ্যুতের দাম বাড়াচ্ছে। দ্রব্যমূল্য ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি চরম অবনতিতে জনগণের জানমালের কোনো নিরাপত্তা নাই। ইসলামী ব্যাংকে এমন এক ব্যক্তিকে চেয়ারম্যান নিয়োগ দেয়া হয়েছে যিনি দুর্নীতি, অনিয়ম, লুটপাট ও ক্ষমতার অপব্যবহারের দায়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর পদ থেকে পদত্যাগ করেছিল। সরকারের সমালোচনা করে তিনি আরো বলেন, সরকার রাষ্ট্রীয় সব প্রতিষ্ঠানে দলীয়করণ করছে এবং ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের দোসরদের পুনর্বাসন করছে। যাদের পুনর্বাসন করা হচ্ছে, তারাই সুযোগ বুঝে সরকারকে ছোবল মারতে পারে।

তিনি সরকারকে সতর্ক করে বলেন, ফ্যাসিস্টের দোসরদের সাথে বন্ধুত্ব করে নিজের বিপদ টেনে আনবেন না। জনগণের বিপক্ষে না গিয়ে, জনগণের মতামতের প্রতি সম্মান জানাতে তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

সভাপতির বক্তব্যে নূরুল ইসলাম বুলবুল এমপি বলেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধিসহ কৃষি, শিল্প খাতে মারাত্মক প্রভাব ফেলবে। এই প্রভাব সরাসরি জনগণের ওপর পড়বে। এক মাসে দু’বার তেল ও বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি বাংলাদেশের ইতিহাসে এই প্রথম। তেল ও বিদ্যুতের দাম বাড়িয়ে জনগণের পকেট কেটে সরকার অতিরিক্ত টাকা কোথায় নেবে- তা জাতি জানতে চায়। ইসলামী ব্যাংকের একজন গ্রাহক হিসেবে নিজের এক টাকাও আর লুট এবং পাচার করতে দেয়া হবে না।

কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন বলেন, প্রায় ১৬.৭ শতাংশ বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত গণবিরোধী সিদ্ধান্ত। মাত্র ৩ মাসে সরকার দুইবার বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি করায় তিনি তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, অবিলম্বে এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করতে হবে।

সমাবেশে আরো উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি মুহাম্মদ দেলাওয়ার হোসেন, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি ড. আব্দুল মান্নান, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের সহকারী সেক্রেটারি ডা: ফখরুদ্দিন মানিক, মহানগরী দক্ষিণের কর্মপরিষদ সদস্য যথাক্রমে সৈয়দ জয়নুল আবেদীন এমপি, হাফেজ রাশেদুল ইসলাম এমপি, আবদুস সালাম, ড. মোবারক হোসেন, শাহীন আহমেদ খান, মহানগরী দক্ষিণের সহকারী মিডিয়া সম্পাদক আশরাফুল আলম ইমন, মহানগরী দক্ষিণের সহকারী অফিস সেক্রেটারি মুজিবুর রহমানসহ বিভিন্ন পর্যায়ের দায়িত্বশীল নেতৃবৃন্দ।

সমাবেশ শেষে, এক বিশাল বিক্ষোভ মিছিল বায়তুল মোকাররম উত্তর গেট থেকে শুরু হয়ে পল্টন মোড়-বিজয়নগর প্রদক্ষিণ করে কাকরাইল মোড়ে গিয়ে শেষ হয়।

চট্টগ্রাম ব্যুরো জানায়, কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে চট্টগ্রাম মহানগর জামায়াতে ইসলামী। গতকাল বিকেলে আন্দরকিল্লা শাহী জামে মসজিদের উত্তর গেইটে এই বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগরীর আমির মুহাম্মদ নজরুল ইসলামের সভাপতিত্বে এতে আরো বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগরীর অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি মুহাম্মদ উল্লাহ, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের মহানগর সভাপতি এস এম লুৎফর রহমান। বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশে আরো উপস্থিত ছিলেন এবং নগর কর্মপরিষদ সদস্য হামেদ হাসান এলাহী, আমির হোসাইন, ড. আ ম ম মসরুর হোসাইন, সদরঘাট থানা আমীর এম এ গফুর, চকবাজার থানা আমীর আহমেদ খালেদুল আনোয়ার, পাঁচলাইশ থানা আমির ইঞ্জিনিয়ার মাহবুবুল হাছান রুমি, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন চট্টগ্রাম মহানগরীর সহসভাপতি মকবুল আহমেদ, চট্টগ্রাম-১১ আসনে জামায়াতের হয়ে প্রতিদ্বন্ধী প্রার্থী শফিউল আলম, বিশিষ্ট চিকিৎসক নেতা ডা: আবু নাছের প্রমুখ।

সভাপতির বক্তৃতায় নজরুল ইসলাম বলেন, তেল, গ্যাস ও বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির গণবিরোধী সিদ্ধান্ত অবিলম্বে বাতিল করতে হবে এবং দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। তিনি বলেন, জাতীয় সংসদ বা সংসদীয় কমিটিতে কোনো আলোচনা ছাড়াই বাজেট ঘোষণার আগে সরকার দফায় দফায় জ্বালানি তেল, গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম বাড়িয়ে একটি খারাপ নজির স্থাপন করেছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস উঠেছে। নজরুল ইসলাম বলেন, স্থানীয় বাজারে মোটা চাল ৫৫ থেকে ৬০ টাকা এবং সরু চাল ৭৫ থেকে ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। বোতলজাত সয়াবিন তেলের সঙ্কট ও ডালের দাম বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে।

সমাবেশ শেষে বিক্ষোভ মিছিলটি নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে জামালখান প্রেস ক্লাবে এসে শেষ হয়।

রাজশাহী ব্যুরো জানায়, কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে জামায়াতে ইসলামী রাজশাহী মহানগরী। গতকাল বিকেলে নগরীর সাহেব বাজার জিরোপয়েন্ট এলাকায় এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। সমাবেশে বক্তারা বলেন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে জনগণের নাভিশ্বাস উঠেছে। অথচ এ সময়ে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি করে সরকার জনগণের ওপর নির্মম খড়গ চালাচ্ছে।

সরকারের দখল ও দলীয়করণের প্রতিবাদ জানিয়ে তারা বলেন, সরকার জেলা পরিষদ ও সিটি করপোরেশনগুলোতে দলীয় প্রশাসক বসিয়ে জনগণের উপরে দলীয় নেতাদের চাপিয়ে দিয়েছেন।

রাজশাহী মহানগরী জামায়াতের নায়েবে আমির অ্যাডভোকেট আবু মোহাম্মদ সেলিমের সভাপতিত্বে ও সেক্রেটারি ইমাজ উদ্দিন মণ্ডলের সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য রাখেন মহানগরী জামায়াতের আরেক নায়েবে আমির ডাক্তার মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর, সহকারী সেক্রেটারি অধ্যক্ষ মাহবুবুল আহসান বুলবুল, শাহাদৎ হোসাইন, সাংগঠনিক সম্পাদক জসিম উদ্দিন সরকার, ব্যবসা ও কল্যান সম্পাদক অধ্যাপক এ কে এম সারওয়ার জাহান প্রিন্স, অফিস সম্পাদক তৌহিদুর রহমান সুইট, যুব বিভাগের সেক্রেটারি সালাউদ্দিন আহমেদ প্রমুখ।

রংপুর ব্যুরো জানায়, রংপুর মহানগরীতে বিক্ষোভ করেছে জামায়াতে ইসলামী। গতকাল বিকেলে নগরীর ৩৬ জুলাই চত্বর থেকে মহানগর শাখার আমির এ টি এম আজম খানের নেতৃত্বে বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু হয়।

পরে নগর ভবন, কৈলাশরঞ্জন স্কুল মোড়, জেলা পরিষদ সুপার মার্কেট মোড়, পায়রা চত্বর, প্রেস ক্লাব, জীবন বীমা মোড়, গ্রান্ড হোটেল মোড় হয়ে শাপলা চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। পরে শাপলা চত্বরে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন জামায়াত আমির এ টি এম আজম খান, সেক্রেটারি আনোয়ারুল ইসলাম কাজল, প্রচার ও মিডিয়া সম্পাদক অ্যাডভোকেট কাউসার আলী প্রমুখ।

বগুড়া অফিস জানায়, বগুড়া মহানগর জামায়াতে ইসলামী বিশাল বিক্ষোভ মিছিল করেছে। বগুড়া আইন কলেজ ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল পূর্ব সমাবেশে বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও বগুড়া মহানগর আমীর অধ্যক্ষ মাওলানা আবিদুর রহমান সোহেল, মহানগর সেক্রেটারি অধ্যাপক আ স ম আব্দুল মালেক, অ্যাডভোকেট আল আমিন, অ্যাডভোকেট শাহীন মিয়া, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের বগুড়া মহানগর সভাপতি আজগর আলী, মাওলানা আব্দুল হালিম বেগ, মাওলানা হেদায়েতুল ইসলাম প্রমুখ। এ সময় বক্তারা বলেন, মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেছিলেন আগামী দুই বছর বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধি করা হবে না। অথচ সরকার তিন মাসের মাথায় ২০ শতাংশ মূল্য বৃদ্ধি করে জনগণের কাছে দেয়া প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেছে।

বরিশাল ব্যুরো জানায়, সরকার একের পর এক নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি করে যাচ্ছে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে জনগণের জীবনযাপন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। গতকাল বরিশাল মহানগরীতে বিক্ষোভ মিছিল-পূর্ব সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে এ কথা বলেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও মহানগর আমির মাওলানা জহির উদ্দিন মু. বাবর।

মহানগরীর সহকারী সেক্রেটারি মুহাম্মাদ আতিকুল্লাহর সঞ্চালনায় সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন মহানগরীর নায়েবে আমির অধ্যাপক মাহমুদ হোসাইন দুলাল, সহকারী সেক্রেটারি মাস্টার মিজানুর রহমান ও তারিকুল ইসলাম এবং বরিশাল মহানগর শিবিরের সভাপতি হাসান নাঈম। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন মহানগর কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা জয়নুল আবেদীন, কোতোয়ালি উত্তর থানা আমির অধ্যাপক আনোয়ার হোসাইন, কাউনিয়া থানা আমির মাওলানা মোস্তাফিজুর রহমান, ব্যবসায়ী বিভাগের সভাপতি মোয়াজ্জেম হোসেন হাওলাদার, অ্যাডভোকেট আবুল খায়ের শহীদসহ জামায়াত নেতৃবৃন্দ।

কুমিল্লা প্রতিনিধি জানান, কুমিল্লায় বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে জামায়াতে ইসলামী কুমিল্লা মহানগর। বিকেলে কুমিল্লা টাউন হল মাঠে আয়োজিত সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন কুমিল্লা মহানগর জামায়াতের আমির ও কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য কাজী দ্বীন মোহাম্মদ। সমাবেশ পরিচালনা করেন মহানগর সেক্রেটারি মু. মাহবুবুর রহমান। সমাবেশে বক্তব্য দেন মহানগর জামায়াতের নায়েবে আমির মোহাম্মদ মোছলেহ উদ্দিন, সহকারী সেক্রেটারি কামারুজ্জামান সোহেল, নাছির আহম্মেদ মোল্লা, কুমিল্লা মহানগর ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি নাজমুল হাসান পঞ্চায়েত এবং কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি সাইফুল ইসলামসহ নেতারা।

বরিশালে ১ ঘণ্টা লেনদেন বন্ধ

বরিশাল ব্যুরো জানান, ইসলামী ব্যাংকের নতুন চেয়ারম্যান খুরশীদ আলমকে এস আলমের দোসর আখ্যা দিয়ে তার অপসারণ ও ব্যাংকটিকে দখলমুক্ত রাখার দাবিতে বরিশালে বিক্ষোভ সমাবেশ ও কলম বিরতি পালন করেছে সচেতন গ্রাহক ফোরাম।

গতকাল সকাল ৯টায় নগরীর বগুড়া রোড বরিশাল শাখার সামনে এসব কর্মসূচি পালিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন গ্রাহক ফোরামের আহ্বায়ক প্রফেসর মোহাম্মদ আব্দুর রব।

এ সময় গ্রাহক নেতারা ব্যাংকের ওই শাখায় আসা গ্রাহকদের এক ঘণ্টা লেনদেন থেকে বিরত থাকতে আহবান জানালে উপস্থিত সকলে তা সাদরে পালন করেন। ফলে ব্যাংকের সব কার্যক্রম এক ঘণ্টা বন্ধ থাকে। ঘোষিত কলম বিরতি পালনের সময় গ্রাহকরা প্রয়োজনে আরো কঠোর কর্মসূচি ঘোষণার দাবি জানান।

এদিকে বিক্ষোভ সমাবেশে দখলদার এস আলমের বিচারসহ ৮ দফা দাবিতে ব্যাংকের গ্রাহকসহ বিভিন্ন শ্রেণীপেশার শত শত মানুষ অংশ নেন। তারা প্ল্যাকার্ড ও ব্যানার নিয়ে ব্যাংকের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং ব্যাংক পরিচালনা ও নিয়োগ প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক প্রভাব ও অনিয়ম বন্ধের দাবি জানান।

ব্যাংকের গ্রাহক বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ প্রফেসর আব্দুুর রবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, গ্রাহক ইঞ্জিনিয়ার আ: রব, ব্যবসায়ী মো: নাসির দ্দিন, অধ্যাপক আব্দুল রাজ্জাক, মিজানুর রহমান, সুলতানুল আরেফিন, জাহাঙ্গির কবির, তৈয়বুর রহমান আজাদ প্রমুখ।

সিলেটে অবস্থান কর্মসূচি পালন

সিলেট ব্যুরো জানান, ইসলামী ব্যাংকের অবৈধ চেয়ারম্যানের অপসারণ, আমানতের সুরক্ষা, গ্রাহকদের স্বার্থ রক্ষা, এস আলম ও ফ্যাসিস্টের দোসরদের বয়কট এবং গ্রাহকদের ওপর পুলিশি হামলার প্রতিবাদে সিলেট শহরের পৃথক স্থানে অবস্থান কর্মসূচি পালিত হয়েছে। গতকাল সকালে নগরীর ইসলামী ব্যাংকের তালতলা, জিন্দাবাজার, লালদিঘীরপাড় ও আম্বরখানা শাখার সামনে অবস্থান কর্মসূচী পালন করে ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরাম সিলেট।

এছাড়াও নগরীর সব শাখা-উপশাখার সামনে সচেতন গ্রাহকদের সমাবেশ ও অবস্থান কর্মসূচি পালিত হয়। এতে বিপুল সংখ্যক গ্রাহক অংশ নেন। পাশাপাশি গ্রাহক ফোরামের অনুরোধের প্রেক্ষিতে সকাল ১০টা থেকে ১১টা পর্যন্ত বিভিন্ন শাখায় ব্যাংক কর্মকর্তা-কর্মচারীদের এক ঘণ্টা কলম বিরতি পালনের অনুরোধ জানানো হয়। গ্রাহকদের অনুরোধের প্রেক্ষিতে বিভিন্ন শাখার কর্মকর্তারা কলম বিরতি পালন করেন।

নগরীর তালতলায় ইসলামী ব্যাংক অফিসের সামনে অনুষ্ঠিত অবস্থান কর্মসূচিতে সভাপতিত্ব করেন ইসলামী ব্যাংকিং গ্রাহক ঐক্য পরিষদ সিলেটের প্রধান সমন্বয়ক ফাতির আহমদ। অ্যাডভোকেট আব্দুল খালিকের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহক ও সিলেট জেলা বারের বিশিষ্ট আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো: আলীম উদ্দিন, অ্যাডভোকেট জামিল আহমদ রাজু, অ্যাডভোকেট দেলোয়ার হোসেন শামীম, অ্যাডভোকেট জিয়াউদ্দিন নাদের, অ্যাডভোকেট শফিকুল ইসলাম, অ্যাডভোকেট আব্দুল খালিক, ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহক কলিম উদ্দিন, তারেকুল ইসলাম রোকন ও সাইফুর রহমান।

জিন্দাবাজারে অনুষ্ঠিত অবস্থান কর্মসূচীতে সভাপতিত্ব করেন গ্রাহক আলীমুল এহছান চৌধুরী। লালদিঘীরপাড়ের কর্মসূচিতে সভাপতিত্ব করেন সিলেট জেলা বারের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ইয়াসীন খান ও আম্বরখানায় সভাপতিত্ব করেন কবির আহমদ।

বগুড়ায় কলম বিরতি

বগুড়া অফিস জানান, ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যানের অপসারণ, আমানতের সুরক্ষা, গ্রাহকদের স্বার্থ রক্ষা, এস আলম ও ফ্যাসিস্টের দোসরদের বয়কট এবং ঢাকায় গ্রাহকদের ওপর পুলিশি হামলার প্রতিবাদে ইসলামী ব্যাংকের বগুড়া শাখার সর্বস্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এক ঘণ্টার কলম বিরতি পালন করেছেন। গতকাল সকাল ১০টা থেকে ১১টা পর্যন্ত ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরাম বগুড়া মহানগরীর আহ্বানে ব্যাংক কর্মকর্তারা গ্রাহকদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এই কলম বিরতি পালন করেন।

এ সময় কবি কাজী নজরুল ইসলাম সড়কের ইসলামী ব্যাংক বগুড়া শাখার সামনে মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন গ্রাহক ফোরামের সভাপতি অ্যাডভোকেট শাহীন মিয়া, সদস্যসচিব শ্রমিক নেতা আজগর আলী, বিশিষ্ট আইনজীবী আল আমীন তরফদার, মাস্টার আনোয়ারুল ইসলাম, এনামুল হক রানা, আরিফুর রহমান, শাহনেওয়াজ রেবা প্রমুখ। মানববন্ধনে কলম বিরতির জন্য ব্যাংক কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ধন্যবাদ জানিয়ে তারা বলেন, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকার একটি নির্দিষ্ট মহলের মাধ্যমে ইসলামী ব্যাংকসহ দেশের ব্যাংকিং খাতে যে নজিরবিহীন লুটপাট ও ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হয়েছে, দেশের মানুষ তা ভুলে যায়নি। নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আওয়ামী ফ্যাসিবাদের দোসর ও ঋণ খেলাপি। তিনি ব্যাংককে রক্ষা করতে পারবেন না। তাকে এই গুরুত্বপূর্ণ পদে বহাল রাখলে ব্যাংকটি আবারো ভয়াবহ লুটপাটের মুখে পড়বে এবং সাধারণ মানুষের আমানত অনিরাপদ হয়ে পড়বে।

অবিলম্বে অবৈধ ও দলীয়ভাবে নিয়োগকৃত চেয়ারম্যানের নিয়োগ বাতিলপূর্বক কোটি কোটি আমানতকারী ও গ্রাহকদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান।