আসাদুল ইসলাম সবুজ লালমনিরহাট
লালমনিরহাটে পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের তিন উপজেলার একমাত্র চিকিৎসক টানা তিন মাসের ছুটিতে থাকায় চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন হাজারো নারী-পুরুষ। বিশেষ করে গর্ভবতী মা, কিশোরী ও পরিবার পরিকল্পনাসেবা নিতে আসা দম্পতিরা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।
জানা গেছে, লালমনিরহাট ১০ শয্যাবিশিষ্ট মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র, আদিতমারী ও কালীগঞ্জ উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের দায়িত্বে থাকা একমাত্র মেডিক্যাল অফিসার (এমসিএইচ-এফপি) ডা: রাশেদ মেনন গত ১ এপ্রিল থেকে আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত তিন মাসের ছুটিতে রয়েছেন। পারিবারিক কারণ দেখিয়ে তিনি ছুটির আবেদন করেন। পরে লালমনিরহাট পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের উপপরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মোজাম্মেল হক ছুটি অনুমোদন করেন।
তবে চিকিৎসকের অনুপস্থিতিতে কোনো বিকল্প চিকিৎসক নিয়োগ না দিয়ে দু’জন নন-মেডিক্যাল কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে পরিবার পরিকল্পনাবিষয়ক গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসাসেবা কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে।
পরিবার পরিকল্পনা বিভাগ সূত্রে জানা যায়, আগে প্রতিদিন গড়ে ৫০ জন রোগী চিকিৎসাসেবা নিতে আসতেন। বর্তমানে সেই সংখ্যা কমে ১০ থেকে ১৫ জনে নেমে এসেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, চিকিৎসক না থাকায় জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতির বিভিন্ন সেবা পাওয়া যাচ্ছে না। এতে অনাকাক্সিক্ষত গর্ভধারণের আশঙ্কাও বাড়ছে।
লালমনিরহাট শহরের অন্তঃসত্ত্বা খাদিজা খানম বলেন, সন্তান প্রসবের সময় ঘনিয়ে এসেছে। ডাক্তারের জন্য মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে এসেছি, কিন্তু ডাক্তার পাইনি। গরিব মানুষ হিসেবে এখানে নিয়মিত ডাক্তার থাকলে অনেক উপকার হতো।
আদিতমারী উপজেলার রহিমা খাতুন বলেন, এই কেন্দ্রে প্রতিদিন অনেক নারীরোগী আসেন। আগে সপ্তাহে দুই-তিন দিন ডাক্তার পাওয়া যেত, এখন তাও নেই। চিকিৎসা না পেয়ে বাড়ি ফিরে যাচ্ছি।
স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, জনবল সঙ্কটের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি ছুটি অনুমোদনের ফলে চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হচ্ছে। তাদের মতে, উচ্চতর ডিগ্রির জন্য কোনো চিকিৎসকের দীর্ঘ ছুটির অনুমোদন সাধারণত মন্ত্রণালয় থেকে হওয়ার কথা। এ ক্ষেত্রে স্থানীয়ভাবে ছুটি অনুমোদন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
তবে এ বিষয়ে জানতে চাইলে ডা: রাশেদ মেনন বলেন, আমি কেন ছুটি নিয়েছি, তা বলতে বাধ্য নই। বিষয়টি অফিস জানে।
অন্যদিকে উপপরিচালক মোজাম্মেল হক বলেন, বিধি অনুযায়ী তিনি ছুটি পেয়েছেন। ছুটি নেয়া তার অধিকার। ছুটিতে গিয়ে তিনি কী করছেন, তা দেখার দায়িত্ব আমার নয়।



