আকরাম হোসাইন শেরপুর (বগুড়া) ও রুহুল আমিন আত্রাই (নওগাঁ)
বাম্পার ফলনের আশায় আলু চাষ করলেও বাজারে দামের ধসে বগুড়ার শেরপুর ও নওগাঁর আত্রাইয়ের কৃষকদের মধ্যে দেখা দিয়েছে হতাশা। উৎপাদন ভালো হলেও ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়েছেন তারা। কৃষকদের আশঙ্কা, এ পরিস্থিতি চলতে থাকলে আগামী মৌসুমে আলু চাষে আগ্রহ হারাবেন অনেকেই।
বগুড়ার শেরপুর উপজেলায় চলতি মৌসুমে আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিল প্রায় দুই হাজার ৫০০ হেক্টর জমি। তবে কৃষকদের আগ্রহে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় দুই হাজার ৭৮০ হেক্টরে। অনুকূল আবহাওয়ায় বিঘাপ্রতি গড়ে প্রায় ১২০ মণ ফলন হয়েছে। কিন্তু বাজারে দাম নেমে এসেছে প্রতি কেজি মাত্র ছয় থেকে আট টাকায়। ফলে বিঘাপ্রতি যেখানে ৬৫ থেকে ৭৫ হাজার টাকা খরচ হয়েছে, সেখানে বিক্রি করে উঠছে মাত্র ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা।
উপজেলার কুসুম্বি, মির্জাপুরসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের মাঠে এখন আলু তোলার ব্যস্ততা। কিন্তু পাইকারি বাজারে দামের ধস নামায় কৃষকদের মাথায় হাত। স্থানীয় কৃষক জাহাঙ্গীর ইসলাম ও আইয়ুব আলী জানান, সার, কীটনাশক, সেচ ও শ্রমিকসহ এক বিঘা জমিতে প্রায় ৪০ থেকে ৪৫ হাজার টাকা খরচ হয়। জমি লিজ নিলে খরচ আরো বেড়ে যায়। বর্তমান দরে আলু বিক্রি করলে অর্ধেক খরচও উঠছে না।
মির্জাপুর ইউনিয়নের কৃষক জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, গত বছর ১৫০ বিঘা জমিতে আলু চাষ করে তিনি প্রায় ৪০ লাখ টাকা লোকসান করেছিলেন। সেই ক্ষতি পুষিয়ে নেয়ার আশায় এবারো বড় পরিসরে চাষ করলেও একই পরিস্থিতির মুখে পড়েছেন। অন্য দিকে নওগাঁর আত্রাই উপজেলায়ও প্রায় তিন হাজার হেক্টর জমিতে আলু চাষ হয়েছে। গত বছর ব্যাপক লোকসানের অভিজ্ঞতা থাকলেও আশা ও শঙ্কার মধ্যেই কৃষকরা এবারো আলু আবাদ করেছেন। উপজেলার আহসানগঞ্জ, কালিকাপুর ও হাটকালুপাড়া ইউনিয়নে সবচেয়ে বেশি জমিতে আলু চাষ হয়েছে।
আত্রাইয়ের চৌরবাড়ি গ্রামের কৃষক আজিজুল হক বলেন, তিনি ১৫ বিঘা জমিতে আলু চাষ করেছেন এবং এবার ভালো ফলনের আশা করছেন। তবে ন্যায্যমূল্য না পেলে আবারো লোকসানে পড়তে হবে। একই গ্রামের কৃষক আব্দুল জব্বার বলেন, ‘গত বছর আলুর দাম পড়ে গিয়ে বড় লোকসান হয়েছে। এবার সরকার যেন ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করে।’
কৃষকদের মতে, আলু সংরক্ষণের খরচও বেড়েছে। গত বছর যেখানে প্রতি বস্তা আলু হিমাগারে রাখতে খরচ ছিল ১৮০ টাকা, এবার তা বেড়ে ২২০ টাকায় দাঁড়িয়েছে। পরিবহনসহ মোট ব্যয় প্রায় ৩০০ টাকার কাছাকাছি হওয়ায় অনেক কৃষক অর্থাভাবে আলু সংরক্ষণ করতে পারছেন না।
শেরপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ফারজানা আক্তার বলেন, অনুকূল আবহাওয়ায় এবার আলুর বাম্পার ফলন হয়েছে। তবে বাজারে দাম কম থাকায় কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। কৃষকদের দাবি, শুধু রফতানির আশ্বাস নয়, এখনই বাজার নিয়ন্ত্রণ ও আলুর ন্যায্যমূল্য নির্ধারণে সরকারের কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন। তা না হলে আগামী মৌসুমে আলু চাষে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।



