তারিকুল ইসলাম নাগরপুর (টাঙ্গাইল)
টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলায় দাঁড়িয়ে আছে এক শতাব্দী প্রাচীন ইতিহাসের সাক্ষী, নাগরপুর জমিদার বাড়ি। টাঙ্গাইল সদর থেকে মাত্র ২৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই দৃষ্টিনন্দন উপজেলা সবুজে ঘেরা প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, নদী বেষ্টিত পরিবেশ এবং ঐতিহাসিক স্থাপত্যের জন্য দীর্ঘদিন ধরেই পর্যটন সম্ভাবনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে। উপজেলার ২২ একর জমির ওপর বিস্তৃত এই জমিদার বাড়ি শুধু স্থাপত্য নয়, নাগরপুরের দীর্ঘ সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক ইতিহাসের ধারকও বটে।
ইতিহাস অনুসারে, সুবিদ্ধা খাঁর সূত্র ধরে চৌধুরী বংশ নাগরপুরে জমিদারির যাত্রা শুরু করেন। বংশের প্রথম পুরুষ যদুনাথ চৌধুরী প্রায় ৫৪ একর জমির ওপর তাদের জমিদারি প্রতিষ্ঠা করেন। তার তিন ছেলে, উপেন্দ্র মোহন, জগদীন্দ্র মোহন ও শশাঙ্ক মোহনের হাত ধরে চৌধুরী বংশের খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে। উপেন্দ্র মোহনের বড় ছেলে সতীশ চন্দ্র রায় চৌধুরী সাধারণ মানুষের জন্য সামাজিক কর্মকাণ্ডের স্বীকৃতিস্বরূপ ব্রিটিশ সরকারের ‘রায় বাহাদুর’ উপাধি লাভ করেন।
চৌধুরী বংশের আরেক বিশিষ্ট সদস্য সুরেশ চন্দ্র রায় চৌধুরী ছিলেন পাশ্চাত্য সংস্কৃতিমনা, শৌখিন ও ক্রীড়াপ্রেমী। তিনি উপমহাদেশের বিখ্যাত ইস্ট বেঙ্গল ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সেক্রেটারি। মোগল ও পাশ্চাত্য স্থাপত্যরীতির মিশ্রণে নির্মিত এই জমিদার বাড়ির বৈঠকখানা, নহবতখানা, রঙ্গমহল এবং সুদৃশ্য চিড়িয়াখানা সে সময় নাগরপুরকে এক অভিজাত সাংস্কৃতিক কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত করে। চিড়িয়াখানায় ছিল ময়ূর, কাকাতোয়া, হরিণ ও ময়নার পাশাপাশি সুরেশ চৌধুরীর শৌখিনতায় একসময় স্থান পায় বাঘ ও সিংহও।
১৯৪৭ সালে দেশ বিভক্তির পর চৌধুরী বাড়ির সম্পত্তি সরকারের অধিগ্রহণে যায়। বর্তমানে মূল ভবনটিতে ১৯৮৯ সালে প্রতিষ্ঠিত নাগরপুর মহিলা অনার্স কলেজ পরিচালিত হচ্ছে। কলেজের অধ্যক্ষ আনিসুর রহমান জানান, ৫ দশমিক ৮১ একর জমি কলেজের নামে বরাদ্দ হলেও কিছু অংশ এখনো বেদখলে রয়ে গেছে।
প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আগত দর্শনার্থীদের পদচারণায় মুখর থাকে এ স্থান। স্থানীয়দের দাবি, সরকারি উদ্যোগে যদি জমিদার বাড়িটিকে পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে ঘোষণা করা হয়, নাগরপুরের অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে। সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ ও ব্যবস্থাপনায় নাগরপুরের এই জমিদার বাড়ি দেশজুড়ে অন্যতম দর্শনীয় স্থানে পরিণত হতে পারে।



