রাশিদুল ইসলাম
বিশিষ্ট আইনশাস্ত্রবিদ, গবেষক ও লেখক অধ্যাপক মাইমুল আহসান খান বলেছেন, ভারতের হিন্দুত্ববাদী রাজনৈতিক সংস্কৃতি সারা বিশ্বের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্বর এই সংস্কৃতি বাংলাদেশকে বড় গাজায় পরিণত করার ষড়যন্ত্র করছে। পুশইন তারই অংশ। তিনি বলেন, ভারতের পশ্চিমবঙ্গ আমাদের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের শেষ দেয়াল। এটা ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে। এটা আমাদের চিন্তার মধ্যে রাখা উচিত। পশ্চিমবঙ্গ ও মমতা বন্দোপাধ্যায় ‘ফর দি লাস্ট ওয়াল ফর দি প্রটেকশন অব আওয়ার ইন্ডিপেনডেন্সি, সভরেইন্টি অ্যান্ড ডিগনিটি, ইট ইজ এ ম্যাটার অব হোল এনটায়ার বেঙ্গলি ন্যাশন’। বিজেপির হিন্দুত্ববাদী রাজনৈতিক দর্শনে অখণ্ড ভারতবর্ষ আবার প্রতিষ্ঠার চেষ্টা ভারতকে উল্টো খণ্ড বিখণ্ড করে দেবে। কিন্তু আমরা বেনিফিট নিতে পারব না কারণ ‘উই আর নট প্রিপেয়ারড’। কেন্দ্রীয়ভাবে বিজেপি ভারতের ক্ষমতায় আসবে না, এবার থালাপতি, কংগ্রেস, মমতা সবাই মিলে জিতে যাবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
নয়া দিগন্তকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে অধ্যাপক মাইমুল আহসান খান এসব কথা বলেন।
নয়া দিগন্ত : আমাদের কী করা উচিত? শিলিগুড়িতে ভূগর্ভস্ত রেলপথ নির্মাণসহ বিভিন্ন অবকাঠামো তৈরি করছে ভারত, সীমান্তে হত্যা থামছে না এবং পুশইনের শঙ্কা বাড়ছে।
মাইমুল আহসান খান : ’৭১ সালে ডেসপারেট সিচুয়েশনে ছিলাম, আমাদের কোনো উপায় ছিল না, পাকিস্তানিদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ছাড়া। ভেবেছিলাম একটা স্বাধীন ভূখণ্ড পেয়েছি, শিগগিরই নয়াদিল্লি বুঝিয়ে দিলো আমরা স্বাধীন ভূখণ্ড পাইনি, আগে পাকিস্তানিরা নিয়ন্ত্রণ করত, এখন আমরা ভারতীয়রা তোমাদের নিয়ন্ত্রণ করব। হিন্দুস্থানিরা যা বলবে তা শুনতে হবে। চট্টগ্রামতো তখনই ওরা দখল করতে চেয়েছিল, নোয়াখালী থেকে পুরো অঞ্চল থেকে সৈন্য সরাতেই চায়নি। ঘটনাপ্রবাহে তাদের পক্ষে তা সম্ভব হয়নি। এখন বিজেপি ক্ষমতায় এলে শিলিগুড়ি চিকেননেকে রংপুরের বেশকিছু অংশ দখল করে নেয়ার ষড়যন্ত্র করছে ভারত, তাদের ধারণা দুনিয়া ও আমাদের তাকিয়ে দেখা ছাড়া আর কোনো উপায় থাকবে না। বাংলাদেশকে বড় গাজাতে রূপান্তরিত করতে চায় ভারত।
নয়া দিগন্ত : মিজোরাম ছাড়া বাংলাদেশের চার পাশে ভারতের সব রাজ্যে বিজেপির শাসন, শুভেন্দু অধিকারী কাঁটাতার নির্মাণের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এবং বলছেন শেখ হাসিনা বৈধ প্রধানমন্ত্রী।
মাইমুল আহসান খান : ওগুলি ফালতু কথা। শুভেন্দুরা পারবে না। হাসিনাকে পুশব্যাক করলে বাংলদেশে ছয় বছরের শিশু থেকে শুরু করে আমাদের মতো অসহায় দুর্বল বৃদ্ধরা ঝাঁপিয়ে পড়বে। হাসিনার ওই খায়েশ মিটবে না।
নয়া দিগন্ত : ভারতের সাথে ইসরাইলের নিরাপত্তা চুক্তি আছে, বাংলাদেশকে গাজায় রূপান্তরিত করার ক্ষেত্রে কি ওই চুক্তি কোনো ভূমিকা রাখতে পারে?
মাইমুল আহসান খান : ইরান ও তুরস্ক মনে করে ভারত ও ইসরাইলের নিরাপত্তা চুক্তির পেছনে বাংলাদেশকে গাজায় পরিণত করার পরিকল্পনা রয়েছে। আমরা শঙ্কা করতে পারছি না কারণ সব দুনিয়াকে আত্মস্থ করে চিন্তা করি না। আমরা ছোটখাটো জিনিস নিয়ে ব্যস্ত। তুরস্ক ও ইরানের লিটারেচার ফলো করলে বিষয়টি আঁচ করা যায়। তুরস্ক তো পাকিস্তানকে বলেই দিয়েছে এ ধরনের পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে, যদি ভারত বাংলাদেশের ভূখণ্ড দখল করে তাহলে বাংলাদেশকে যেন সাহায্য করা হয়। পাকিস্তান বলেছে, এটা চীন ছাড়া হবে না।
নয়া দিগন্ত : ভারতের কোনো কোনো সাংবাদিক বলছেন, বাংলাদেশে চার কোটি হাসিনা সমর্থক যদি সশস্ত্র হয়ে ওঠে তাহলে তাদের দেশের কিছু করার থাকবে না।
মাইমুল আহসান খান : এটা আমাদের মনস্তাত্ত্বিকভাবে দুর্বল করার জন্য ওরা বলে। আমাদের পার্লামেন্টে যে আলোচনা হয় তা নিয়ে ওরা হাসাহাসি করে। পার্লামেন্টে এমন অবস্থা দেখে ওরা মনে করে আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ ভালো হয়ে যাবে। সুযোগ সৃষ্টি হবে। আমিও মুক্তিযুদ্ধে আওয়ামী লগের জন্য, দেশের জন্য জান দিতে অস্ত্র হাতে নিয়েছি, চার কোটি সমর্থক ওসব কিছু না, এখন আওয়ামী লীগের নাম শুনলে তওবা আস্তাগফিরুল্লাহ পড়ি। মানুষ একরকম নাই, পরিবর্তন হয়েছে।
নয়া দিগন্ত : তাহলে গাজায় রূপান্তরিত হওয়ার শঙ্কা করছেন কেন?
মাইমুল আহসান খান : বর্ষাকালে নদী নালা প্রাকৃতিকভাবে রক্ষাকবচ। কিন্তু শীতকালে আমরা কী করব জানি না। ’৭১ সালে জুন মাসের দিকে ইন্দিরা গান্ধী তার সেনাপ্রধানকে বাংলাদেশ দখল করে নিতে বললে সেনাপ্রধান বলেছিলেন, আলেক্সান্ডার দি গ্রেট থেকে শুরু করে কোনো বুদ্ধিমান সেনানায়ক বর্ষাকালে বেঙ্গল দখল করার চেষ্টা করেনি। কারণ তাকে প্রাকৃতিকভাবেই শোচনীয় পরাজয় বরণ করতে হবে। একই কারণে বারো ভুঁইয়াদের প্রতিরোধে মোগলরা বারবার ফিরে গেছে।
নয়া দিগন্ত : তাহলে রাজনৈতিক সচেতনতা জরুরি, দু’দেশের সরকার থেকে সরকার ছাড়াও জনগণের মধ্যে বোঝাপড়া দরকার?
মাইমুল আহসান খান : মমতার ম্যাজিক কতদিন চলবে এ নিয়ে একটা বই লিখেছিলাম। বইটির দ্বিতীয় সংস্করণ প্রকাশ হবে। পশ্চিমবঙ্গকে আমাদের সাথে রাখতে হবে। তাদেরকে বলতে হবে ’৭১-এ বিপদে পড়লে তোমরা যেমন আমাদের সাহায্য করেছিল তারচেয়ে হাজারগুণ বেশি সাহায্য করব যদি তোমরা বিপদে পড়। দ্বিতীয়ত ওদের জিজ্ঞেস করতে হবে তোমরা কি আরো স্বায়ত্তশাসন চাও নাকি সেপারেট স্টেট চাও? তোমরা নিজেরা ঠিক করার পর তোমাদের সাথে আমাদের কথা হবে। কিয়ার মেসেজ দিতে হবে ওরা আমাদের জাতিসত্তার অংশ। কেউ মুসলমান, কেউ হিন্দু, কেউ খ্রিষ্টান হতে পারি কিন্তু মৃত্যু পর্যন্ত আমাদের বাঙালি থাকতে হবে। এটাই ধ্রুব সত্য।
নয়া দিগন্ত : পশ্চিমবঙ্গে এবার নির্বাচনে মুসলিম ভোটারদের ব্যাপকভাবে ভোটার তালিকা থেকে ছেঁটে ফেলা হলো।
মাইমুল আহসান খান : ভারতের কেন্দ্রে যদি অ্যান্টি বিজেপি গভর্নমেন্ট না আসে তাহলে পশ্চিমবঙ্গে মুসলমানদের ফতুর বানিয়ে ফেলা হবে। সাঁইত্রিশ শতাংশ মুসলমানকে ভিক্ষার ঝুলি কাঁধে দেয়া হবে। ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে অবস্থাসম্পন্ন মুসলমানদের নিঃশেষ করে ফেলা হবে।
নয়া দিগন্ত : বাংলাদেশে পুশইন করে তাদের ঠেলে দেয়ার শঙ্কা করছে কেউ কেউ।
মাইমুল আহসান খান : এইটা তো তাদের প্ল্যান ছিল বলেই চীনের সহযোগিতা নিয়ে মিয়ানমার বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের আগেভাগে ঠেলে দিয়েছে। মিয়ানমান চীনকে বলেছিল যদি রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে পুশইন না করা হয় তাহলে পশ্চিমবঙ্গ থেকে দুই কোটি লোককে পুশইন করা হবে বাংলাদেশে। তখনতো আর রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে ঠেলে দেয়া যাবে না। চীন বাংলাদেশের বন্ধুরাষ্ট্র হয়েও মিয়ানমারের প্রস্তাবে রাজি হয়ে গেল, মিয়ানমার আরো বলল রোহিঙ্গাদের পুশইন অ্যান্টি ইন্ডিয়ান পারপাজ সার্ভ করবে, পরে চীন বুঝল ভুল হয়ে গেছে। অন্তর্বর্তী সরকারপ্রধান মুহাম্মদ ইউনূসের সাথে চীন রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠাতে সহযোগিতা করতে চাইলেও একজন উপদেষ্টার কারণে তা সম্ভব হয়নি।
নয়া দিগন্ত : একদিকে রোহিঙ্গা সঙ্কট আবার ভারত থেকে পুশইনের হুমকি?
মাইমুল আহসান খান : ভারত পুশইন করতে পারবে না কারণ পশ্চিমবঙ্গে বাঙালিদের ৫০ শতাংশ হিন্দু হয়তো পুশইনকে সমর্থন করবে কিন্তু বাকি ৫০ শতাংশ হিন্দু যদি সমর্থন না করে তার সাথে ৩৭ শতাংশ মুসলমান ছাড়াও আরো ৩০ শতাংশ মানুষ সমর্থন করবে না। পশ্চিমবঙ্গের অন্তত ৭০ শতাংশ মানুষ পুশইনের বিরোধিতা করবে। বাংলাদেশে জুলাই সনদের পক্ষে ৭০ শতাংশ মানুষ ভোট দিলেও সনদ কার্যকর হচ্ছে না। তো পশ্চিমবঙ্গের ৭০ শতাংশ মানুষ পুশইনের বিরোধিতা না করলেও ভারতের কেন্দ্রে বিজেপি সরকার কলাপস করবে খুব কুইকলি। পুশইন করলে বাংলাদেশের প্রতিরোধে ভারতের খণ্ড বিখণ্ড হয়ে যাওয়া অপরিহার্য হয়ে পড়বে। ইসরাইলের ভায়াবিলিটি আগে শতভাগ থাকলেও এখন তা ৩০ শতাংশে নেমেছে অ্যাজ এ স্টেট। ইসরাইল মধ্যপ্রাচ্যে বড় রাষ্ট্র তৈরি করতে চায় আর বিজেপি চায় অখণ্ড ভারত প্রতিষ্ঠা করতে। নরেন্দ্র মোদি ইসরাইলে গিয়ে বলেন ফাদারল্যান্ড। কিভাবে ফাদারল্যান্ড হলো, মুসলমানরা বলতে পারে ফাদারল্যান্ড কিন্তু মোদি কিভাবে বলেন?
নয়া দিগন্ত : বাংলাদেশে যেসব তরুণ বৈষম্যবিরোধী সমাজ ও আধিপত্যবাদ বিরোধী শাসকের স্বপ্ন দেখেছিলেন বা অপরিহার্য দিকনির্দেশনা সৃষ্টি করেছিলেন তা থেকে কি তরুণ সমাজ দূরে সরে যাচ্ছে?
মাইমুল আহসান খান : সমস্যা হচ্ছে একটা জেনারেশন গ্যাপ, তরুণ সমাজ বয়স্কদের বিশ্বাস করতে পারছে না, বয়স্করাও তরুণদের বিশ্বাস করতে পারছে না। সামনে এককথা, পিছনে যেয়ে বলে আরেক কথা, এই যে মোনাফেকি চরিত্রটা আমাদের মধ্যে ঢুকে গেছে, সব ক্ষেত্রেই, এটাই হচ্ছে মূল সমস্যা। পূর্ব ইউরোপের দেশগুলোতে যেমন হয়েছে, জেনারেশন গ্যাপের কারণেই কমিউনিজম, সোস্যালিজম কলাপস করেছে ওখানে। তরুণরা মনে করছে ওলডার জেনারেশন তো আমাদের দিকে তাকায়নি। ভারত ও মিয়ানমার থেকে ইয়াবা, ফেনসিডিলসহ বিভিন্ন মাদকে আক্রান্ত তরুণ সমাজ, অপসংস্কৃতিতো রয়েছেই।
নয়া দিগন্ত : উপায় কী?
মাইমুল আহসান খান : ব্রিটিশ কলোনিয়ালিজমে যখন ছিলাম তখন কেউ চিন্তা করি নাই কে হিন্দু কে মুসলমান। ভারতীয় আধিপত্যবাদকে ঠেকাতে এখন সেই উপলব্ধি বা বোধ জরুরি। নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসু হিন্দু এ কথা কোনো মুসলমান চিন্তা করে নাই। আবার ভাসানী, শেরেবাংলা মুসলমান এটাও কোনো হিন্দু চিন্তা করেনি। সবার মাথায় একটাই চিন্তা ছিল ব্রিটিশদের তাড়াতে হবে। পশ্চিমবঙ্গের মানুষকে বিষয়টি ভেবে দেখতে হবে। দিল্লি থেকে গুজরাটি প্ল্যান নিয়ে কলকাতায় এসে কোনো কাজ হবে না। জ্যোতিবসুরা দীর্ঘ ৩৪ বছর ধরে নতুন এক জেনারেশন তৈরি করে গেছেন। মমতা সেই অ্যাডভ্যান্টাজটাই পেয়েছিলেন, কিন্তু তিনি তা স্বীকৃতি দিয়ে ধরে রাখতে পারলেন না। স্বীকার করলে মমতার ক্ষমতাচ্যুতি হতো না, তাকে ফের বামদের ঐক্যের আহবান জানাতে হতো না। এত বিপুল পরিমাণ মুসলিম ভোটারদের ভোটার তালিকাচ্যুতি করায় মমতার জন্য নির্বাচন কঠিন হয়ে পড়ে। ৬০ লাখ ভোটার তাদের ভোটের অধিকার ফিরে পাবে বলা হলেও নির্বাচনটা তো হয়ে গেল। যারা এ কাজে সাহায্য করেছে বিজেপি এখন তাদের ক্ষমতায় বসাচ্ছে।
নয়া দিগন্ত : বাইরের আগ্রাসন ঠেকানো এবং ভেতরে প্রতিরোধ প্রস্তুতি নেয়া তাহলে জরুরি।
মাইমুল আহসান খান : পশ্চিমবঙ্গের হিন্দু মুসলিম সবার জন্য ন্যারেটিভ তৈরি করতে হবে। ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে একত্রিত হয়ে লড়েছি। সিপাহি বিদ্রোহে হিন্দু মুসলমানের একতাবদ্ধ আন্দোলন কত বড় ছিল। ওটা ব্যর্থ হলেও ব্রিটিশ তাড়ানোর রিহার্সেল ছিল। কার্লমার্ক্স বলেছিলেন, ‘দ্যাট ওয়াজ দি বিগেস্ট রিহার্সেল ইন দ্য হিউম্যান হিস্টরি ইজ দ্য ওয়েস্ট হেজিমনি ওভার দ্য রেস্ট অব দ্য ওয়ার্ল্ড।
নয়া দিগন্ত : আওরঙ্গজেবের সেনাপতিরা ছিলেন হিন্দু এবং শিবাজির সেনাপতিরা ছিলেন মুসলমান।
মাইমুল আহসান খান : এটাই স্বাভাবিক, মাইনরিটিরা সবসময় বিশ্বস্ততার সাথে কাজ করে। এটা মাইনরিটি কার্ড, সে টাকা নিয়ে চলে গেলেও কেউ সমর্থন করবে না। মেজরিটির কেউ এ ধরনের অপকর্ম করলে তার রাজনৈতিক সমর্থক ও স্বজনরা তাকেই সমর্থন করবে। স¤্রাট বাবর বয়সের কারণে ছোট হওয়ায় তার হিন্দু সেনাপতিকে ভয় পেতেন। এই ভয় ভেঙে দিতে সেনাপতি তার সবচেয়ে সুন্দরী বোনটিকে বাবরের সাথে বিয়ে দেন। এরপর বাবরের ভয় কেটে গিয়েছিল। মাইনরিটির একটা বিশাল ব্যাপার আছে। আইনস্টাইনকে ইসরাইলের প্রথম প্রধানমন্ত্রী হতে বললে তিনি বলেছিলেন, দুনিয়ার সব কাজ করলেও প্রধানমন্ত্রী হতে পারব না। অমর্ত্য সেনকে ভারতের অর্থমন্ত্রী হওয়ার প্রস্তাব দিলে তিনি বলেছিলেন দুনিয়ার সব কাজ আমাকে দিতে পারেন, এইটা ছাড়া। এখানে অনেক সাইকোলজি কাজ করে। নবাব সিরাজউদৌলার সাথে যারা বিট্রে করেছিল, তাদের মধ্যে মুসলমানদের সংখ্যা কম থাকলে বিশ্বাসঘাতকতা হয়তো হতো না।
নয়া দিগন্ত : বাংলাদেশ, নেপাল, পাকিস্তান বা সার্কভুক্ত দেশ এবং পুরো ভারতের জন্য হিন্দুত্ববাদই কি হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে? সার্ক তো দাঁড়াতেই পারল না।
মাইমুল আহসান খান : একমাত্র, একমাত্র হিন্দুত্ববাদ আমাদের বর্বর করবে। অসভ্য করবে, আমাদেরকে তথাকথিত গোবর সংস্কৃতিতে নিয়ে যাবে। এটা হিউম্যান সিভিলাইজেশনের জন্য ওয়ান অব দি মোস্ট ডার্কেস্ট ইনডিকেশন। দ্য হিউম্যান সিভিলাইজেশন মে কলাপস ফ্রম ইন্ডিয়া। তবে আমাদের ধ্বংস করতে এলে ভারত খণ্ড বিখণ্ড হয়ে যাবে।



