মাউশিতে বদলি আতঙ্ক

একদিনে শিক্ষা প্রশাসনের ১৩ জনকে ওএসডি ও বদলি

শাহেদ মতিউর রহমান
Printed Edition

শিক্ষা প্রশাসনের মাঠপর্যায়ের তদারকির দায়িত্বে থাকা প্রতিষ্ঠান মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদফতরে (মাউশি) চলছে বদলি আতঙ্ক। গতকাল সোমবার একদিনেই মাউশির শীর্ষ পদ থেকে বিভিন্ন পরিচালক এবং শিক্ষার মাঠ প্রশাসনের ১৩ কর্মকর্তাকে বদলি ও ওএসডি করা হয়েছে। মাউশির ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক পদে থাকা কলেজ ও প্রশাসন শাখার পরিচালক অধ্যাপক বিএম আব্দুল হান্নানকে গতকাল ওএসডি করা হয়েছে। ঐ একই পদে নিয়োগও দেয়া হয়েছে। মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদফতরের ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালকের দায়িত্বে থাকা বি এম আব্দুল হান্নানকে ওএসডি করে একই পদে অর্থাৎ মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদফতরের কলেজ ও প্রশাসন শাখার পরিচালক নিযুক্ত হয়েছেন মো: নাজমুল হক। তিনি ফরিদপুরের সরকারি আইন উদ্দিন কলেজের অধ্যক্ষ, মৃত্তিকা বিজ্ঞান বিষয়ের অধ্যাপক। ১৬তম বিসিএস থেকে ক্যাডার পদে নিয়োগ পান।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষক ও কর্মচারী অবসর সুবিধা বোর্ডের পরিচালক মো: জাফর আহমদকে ওএসডি করে সরকারি তিতুমির কলেজে সংযুক্ত করা হয়েছে। মাউশিতে ওএসডিতে থাকা মোসাম্মদ কামরুন নাহারকে ঢাকা কলেজে বদলি করা হয়েছে। অপর কর্মকর্তা গৌর কুমার চৌধুরীকে মাদারীপুর সরকারি কলেজ থেকে বদলি করে সরকারি ব্রজলাল কলেজ, খুলনায় বদলি করা হয়েছে। মাউশির পরিকল্পনা ও উন্নয়ন শাখার গবেষণা কর্মকর্তা মোছা: আয়শা সিদ্দীকা মৌসুমীকে ওএসডি করে সরকারি উদ্যান কলেজে সংযুক্ত করা হয়েছে। আরো বদলি করা হয়েছে আবু মোহাম্মদ রেজাউল হাসানকে । তাকে ওএসডি করে সবুজবাগ সরকারি মহাবিদ্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে। ওএসডিতে থাকা মোহাম্মদ জহিরুল হক স্বপনকে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের সচিব হিসেবে প্রেষণে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড থেকে বদলি করে ড. এ কে এম সামছু উদ্দিন আজাদকে চট্টগ্রাম সরকারি কলেজে বদলি করা হয়েছে। আবু মুসা মো: তারেককে সিলেট আলিয়া মাদরাসা থেকে বদলি করে সিলেট শিক্ষা বোর্ডে বিদ্যালয় পরিদর্শক পদে বদলি করা হয়েছে।

সিলেট শিক্ষা বোর্ড থেকে বদলি করে মোহাম্মদ মঈনুল ইসলামকে মাউশিতে ওএসডি করা হয়েছে। বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ থেকে মো: আনোয়ার হোসেনকে বদলি করে মাউশিতে প্রশিক্ষণ শাখায় পদায়ন করা হয়েছে। অপর দিকে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ণ কর্তৃপক্ষ এনটিআরসিএর উপপরিচালকের পদ থেকে বদলি করে দীপা পারভিনকে ওএসডি (পিআরএলের সুবিধার্থে) করা হয়েছে। মাউশির একটি সূত্র জানায়, আগামী সপ্তাহের মধ্যে শিক্ষা সেক্টরে আরো বড় পরিসরে বদলি ও পদায়নের কথা রয়েছে। তবে বদলি এবং পদায়নের এই সুযোগে যেন গত ১৭ বছরের কোনো ফ্যাসিষ্ট বা সুবিধাভোগী কোনো কর্মকর্তা অতিরিক্ত সুবিধা কিংবা পরিচয় গোপন করে বাড়তি সুযোগ নিতে না পারেন সেদিকে শিক্ষা প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হবে। যদিও ইতোমধ্যে অভিযোগ উঠেছে যে, আগের ফ্যাসিস্ট আমলের অনেক কর্মকর্তা নানাভাবে ম্যানেজ করেই বদলি কিংবা পদায়নের ক্ষেত্রে বাড়তি সুযোগ সুবিধা নিচ্ছেন। এ বিষয়েও সবাইকে আরো বেশি সজাগ থাকতে হবে।