আগামী সপ্তাহেই ইরানের সাথে চুক্তির আশা মার্কিন প্রেসিডেন্টের

ট্রাম্প-নেতানিয়াহু টানাপড়েন লেবানন ইস্যুতে নতুন উত্তেজনা

Printed Edition

নয়া দিগন্ত ডেস্ক

আগামী সপ্তাহের মধ্যেই ইরানের সাথে একটি ঐতিহাসিক চুক্তি সম্পন্ন হতে পারে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। প্রস্তাবিত এই চুক্তির আওতায় চলমান দ্বিপক্ষীয় যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বৃদ্ধি এবং বর্তমানে অবরুদ্ধ থাকা কৌশলগত হরমুজ প্রণালী আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য আবার খুলে দেয়ার বিষয়ে সমঝোতা হবে। ইরানের সাথে এই সম্ভাব্য শান্তিচুক্তিটি যেকোনো ধরনের ‘সামরিক বিজয়ের চেয়েও অনেক বড় ও ভালো অর্জন হতে পারে’ বলেও মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল যৌথভাবে ইরানে আক্রমণ করার পর অঞ্চলজুড়ে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরবর্তীতে এপ্রিলের শুরুতে একটি নড়বড়ে যুদ্ধবিরতি হলেও বর্তমান পরিস্থিতি একধরনের অচলাবস্থার ভেতর রয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে একটি পূর্ণাঙ্গ চুক্তির আশা ক্ষীণ হয়ে আসায় উভয় পক্ষই এখন একটি সাময়িক বা অন্তর্বর্তীকালীন সমঝোতার দিকে মনোযোগ দিচ্ছে।

এ দিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর মধ্যকার সম্পর্কের অবনতি নিয়ে নতুন তথ্য সামনে এসেছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম *অ্যাক্সিওস*-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক এক উত্তেজনাপূর্ণ ফোনালাপে ট্রাম্প নেতানিয়াহুকে স্মরণ করিয়ে দেন যে, তিনি রাজনৈতিকভাবে তাকে বহুবার রক্ষা করেছেন এবং এজন্য তার কৃতজ্ঞ থাকা উচিত। প্রতিবেদনে একটি সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়, ট্রাম্প নেতানিয়াহুকে সরাসরি বলেন, “এখন সবাই তোমাকে ঘৃণা করে, আর এই কারণে ইসরাইলকেও ঘৃণা করছে।”

কূটনৈতিক জটিলতা ও ট্রাম্পের মধ্যস্থতা

সোমবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম এবিসি নিউজের প্রধান ওয়াশিংটন প্রতিনিধি জোনাথন কার্লের সাথে এক বিশেষ টেলিফোন সংলাপে অংশ নিয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মধ্যপ্রাচ্যের চলমান পরিস্থিতি নিয়ে এসব ইতিবাচক কথা বলেন।

আলোচনার সার্বিক অগ্রগতি সম্পর্কে ট্রাম্প গণমাধ্যমকে জানান, ইরান ও মার্কিন প্রতিনিধিদের মধ্যকার পরোক্ষ আলোচনায় সম্প্রতি কিছুটা কৌশলগত ত্রুটি বা বাধা দেখা দিয়েছিল, কিন্তু তিনি খুব দ্রুতই নিজের ব্যক্তিগত কূটনৈতিক প্রভাবে পরিস্থিতির মোড় সম্পূর্ণ ঘুরিয়ে দিয়েছেন। ট্রাম্পের স্পষ্ট মূল্যায়ন অনুযায়ী, সেই কূটনৈতিক ত্রুটিটি ছিল মূলত লেবাননের ভূখণ্ডে ইসরাইলের অব্যাহত বিমান ও স্থল হামলার কারণে ইরানের রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে তৈরি হওয়া চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ।

মধ্যপ্রাচ্যের এই জ্বলন্ত পরিস্থিতি শান্ত করার বিষয়ে নিজের ভূমিকার বিবরণ দিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, তিনি নিজে হিজবুল্লাহর উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদের সাথে কথা বলেছেন এবং তাদের সব ধরনের গোলাগুলি ও রকেট হামলা বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন। এর পরপরই তিনি ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সাথে জরুরি ফোনালাপে যুক্ত হয়ে তাকেও লেবাননে সামরিক অভিযান থামানোর কঠোর নির্দেশ দেন।

মার্কিন প্রেসিডেন্টের এমন দ্বিমুখী মধ্যস্থতার ফলে শেষ পর্যন্ত ওই দুই পক্ষই একে অপরের ওপর চলমান হামলা সম্পূর্ণ বন্ধ করতে সম্মত হয়েছে, যা ইরানের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের মূল চুক্তি এগিয়ে নেয়ার পথকে পরিষ্কার করেছে। ইরানের মতো একটি আঞ্চলিক পরাশক্তির সাথে শান্তিচুক্তি সম্পাদন করা কোনো সহজ বিষয় নয় উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেন, “এখানে একটি বিশাল ও প্রভাবশালী দেশের কথা বলা হচ্ছে যাদের সাথে চূড়ান্ত চুক্তি হতে যাচ্ছে এবং যাদের সাথে দীর্ঘদিন ধরে চরম শত্রুতা বিরাজ করছে। এই চুক্তিটি যেমন তেহরানের জন্য সহজ নয়, ঠিক তেমনি ওয়াশিংটনের দিক থেকেও বিষয়টি আসলে সহজসাধ্য নয়। তবে প্রতিকূলতার মাঝেও যুক্তরাষ্ট্র যা যা অর্জন করতে চাইছে তা ক্রমান্বয়ে পাচ্ছে।”

হরমুজ প্রণালী আবার খুলে দেয়ার বিষয়ে সমঝোতা স্মারক কবে নাগাদ চূড়ান্ত হবে-এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প সরাসরি বলেন, তার দৃঢ়বিশ্বাস আগামী সপ্তাহের মধ্যেই এটি সফলভাবে সম্পন্ন হবে, যদিও মার্কিন স্বার্থে তাকে এখনো আরো কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে দরকষাকষি করতে হবে।

ট্রাম্প-নেতানিয়াহু সম্পর্কে টানাপড়েন : লেবানন ইস্যুতে নতুন উত্তেজনা

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর মধ্যকার সম্পর্কের অবনতি নিয়ে নতুন তথ্য সামনে এসেছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম *অ্যাক্সিওস*-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক এক উত্তেজনাপূর্ণ ফোনালাপে ট্রাম্প নেতানিয়াহুকে স্মরণ করিয়ে দেন যে, তিনি রাজনৈতিকভাবে তাকে বহুবার রক্ষা করেছেন এবং এজন্য তার কৃতজ্ঞ থাকা উচিত। এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে যখন ইসরাইলের সম্ভাব্য লেবানন অভিযান নিয়ে ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের মধ্যে মতপার্থক্য স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। ইসরাইলের জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির প্রকাশ্যে ট্রাম্পের চাপের সমালোচনা করে বলেন, “এটাই আমাদের বন্ধু প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে ‘না’ বলার সময়।” তার এই বক্তব্য ইসরাইলি ডানপন্থী শিবিরের একাংশের অসন্তোষেরই প্রতিফলন।

অন্য দিকে, ট্রাম্প নেতানিয়াহুর সাথে আলোচনার পর ঘোষণা দেন যে, ইসরাইল লেবাননে নতুন করে হামলা চালাবে না এবং বৈরুতে ইসরাইলি সেনা মোতায়েনের কোনো পরিকল্পনাও তাদের নেই। একই সাথে লেবাননের পার্লামেন্ট স্পিকার নাবিহ বেরির শীর্ষ উপদেষ্টার মাধ্যমে মার্কিন প্রশাসনকে জানানো হয়েছে যে, হিজবুল্লাহও উত্তেজনা কমাতে সহযোগিতা করতে আগ্রহী।

এই ঘটনাপ্রবাহ ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক সংঘাতের পরিবর্তে কূটনৈতিক সমাধানের পথে এগোতে ট্রাম্প প্রশাসন বেশি আগ্রহী। তবে ইসরাইলের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপ এবং নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে ওয়াশিংটন-তেল আবিব সম্পর্কে নতুন টানাপড়েন সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেয়া যাচ্ছে না।

ট্রাম্প চান সংযম, বেন-গভির চাইছেন আরো হামলা

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ইসরাইলের অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্য এখন আরো স্পষ্ট হয়ে উঠছে। একদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বৃহত্তর আঞ্চলিক যুদ্ধ এড়াতে সংযম ও উত্তেজনা প্রশমনের ওপর জোর দিচ্ছেন; অন্য দিকে ইসরাইলের জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী বেন-গভির হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে আরো কঠোর ও ব্যাপক সামরিক পদক্ষেপের আহ্বান জানাচ্ছেন।

এই অবস্থানগত পার্থক্য ইঙ্গিত করছে যে ইসরাইল, যুক্তরাষ্ট্র এবং আঞ্চলিক মিত্রদের মধ্যে কৌশলগত অগ্রাধিকার এক নয়। ট্রাম্প প্রশাসন আশঙ্কা করছে, লেবানন ফ্রন্টে সংঘাত আরো বিস্তৃত হলে তা ইরানসহ বৃহত্তর আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নিতে পারে। বিপরীতে, বেন-গভিরের মতো কট্টরপন্থী নেতারা মনে করেন, হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে শক্তিশালী সামরিক চাপই দীর্ঘমেয়াদে ইসরাইলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।

ফলে প্রশ্ন এখন একটাই- পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে? যদি কূটনৈতিক সংযম প্রাধান্য পায়, তাহলে উত্তেজনা কমার সম্ভাবনা রয়েছে। কিন্তু যদি সামরিক প্রতিক্রিয়া আরো বাড়ানো হয়, তবে সংঘাত লেবাননের সীমা ছাড়িয়ে সমগ্র মধ্যপ্রাচ্যকে নতুন সঙ্কটের দিকে ঠেলে দিতে পারে। বর্তমান পরিস্থিতিতে যুদ্ধ ও কূটনীতির এই টানাপড়েনই মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

তেহরানের সতর্কতা ও কৌশলগত অবস্থান

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত নিরসন এবং হরমুজ প্রণালী আবার খুলে দিতে যুক্তরাষ্ট্র যে চুক্তির প্রস্তাব দিয়েছে, তা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ বা প্রত্যাখ্যান করেনি ইরান। দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, তেহরানে এখনো প্রস্তাবটির চূড়ান্ত খসড়া নিয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনা চলছে।

ইরানের আলোচক দলের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানিয়েছে, অতীতের তেতো অভিজ্ঞতার কারণে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে যেকোনো সমঝোতা নিয়ে তেহরান অত্যন্ত সতর্ক। তাদের অভিযোগ, অতীতে ওয়াশিংটন একাধিকবার চুক্তির ক্ষেত্রে ‘বিশ^াসভঙ্গ’ করেছে। সে কারণে এবার ইরান কেবল বাস্তব ও নিশ্চিত লাভ না পেলে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে যেতে চায় না।

এ দিকে কয়েক মাস ধরে সংঘাত চলার পর কূটনৈতিক প্রচেষ্টা জোরদার হয়েছে, যেন পরিস্থিতি আর উত্তপ্ত না হয়। বিশেষ করে বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহে বড় প্রভাব ফেলেছে এই উত্তেজনা। রয়টার্সের এক খবরে বলা হয়েছে, ইরান বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে একটি সীমিত ও অন্তর্বর্তী চুক্তির দিকে ঝুঁকছে। এর মাধ্যমে একদিকে অর্থনৈতিক চাপ কিছুটা কমানো যাবে, অন্য দিকে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে বড় ধরনের ছাড় দেয়ার প্রয়োজন হবে না।

ইরানের এই কৌশল অবশ্য নতুন নয়। দেশটি দীর্ঘদিন ধরেই বাইরের চাপ সামলে নিজেদের মূল অবস্থান ধরে রেখে কূটনৈতিক যোগাযোগ চালু রাখার নীতি অনুসরণ করে আসছে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে অর্থনৈতিক সঙ্কট, আর্থিক সুবিধা পাওয়া এবং অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা বজায় রাখার বিষয়টিও বড় হয়ে উঠেছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে ইরানের নীতিনির্ধারকদের ঘনিষ্ঠ তিনটি সূত্র এমনটাই জানিয়েছে।

কর্মকর্তারা মনে করছেন, এই সীমিত চুক্তি তাদের কিছুটা সময় কিনে দেবে, আর্থিক স্বস্তি এনে দেবে এবং অবনতিশীল অর্থনীতির কারণে বাড়তে থাকা অভ্যন্তরীণ ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করবে; অথচ সবচেয়ে বিতর্কিত বিষয়গুলো নিয়ে এখনই কোনো কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হবে না।

তেহরানের দৃষ্টিতে এ ধরনের ব্যবস্থা মূলত সামরিক ও অর্থনৈতিক চাপকে নগদ অর্থ, কিছুটা স্বস্তি এবং উত্তেজনা হ্রাসের সুযোগে রূপান্তর করার উপায়। একই সাথে তারা সংবেদনশীল পারমাণবিক কর্মকাণ্ড সীমিত করতেও রাজি নয়। ইরান মূলত চায়- লেবাননসহ সব ফ্রন্টে সংঘাতের অবসান; তেল বিক্রির মাধ্যমে অর্জিত কয়েক বিলিয়ন ডলার আয়ের প্রবেশাধিকার; অপরিশোধিত তেল রফতানিতে বিশেষ ছাড়; যুক্তরাষ্ট্রের বন্দর অবরোধ প্রত্যাহার এবং হরমুজ প্রণালীর ওপর তাদের একক প্রভাব বজায় রাখা।

প্রস্তাবিত কাঠামোটি মূলত অস্থায়ী শিথিলতা এবং ধাপে ধাপে জলপথ ব্যবহারের সুযোগের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠবে। তবে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ সক্ষমতা কিংবা তেহরানের কাছে থাকা উচ্চমাত্রার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদ (যার মধ্যে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত সমৃদ্ধকৃত উপাদানও রয়েছে), সেসব স্পর্শকাতর প্রশ্ন এখনই মীমাংসা হচ্ছে না।

ট্রাম্পের অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক চাপ

এই আলোচনার সাফল্যের ওপর অনেক কিছু নির্ভর করছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালী আবার উন্মুক্ত করার এবং মার্কিন বাজারে জ্বালানির দাম নিয়ন্ত্রণে রাখার তীব্র চাপের মুখে রয়েছেন। একই সময়ে ইরানকে কোনো ধরনের ছাড় দেয়া হলে নিজ দল রিপাবলিকান পার্টির কট্টরপন্থী মহলের সমালোচনাও তাকে মোকাবেলা করতে হবে।

অন্য দিকে ইরানের নেতৃত্বও অভ্যন্তরীণ চাপের মুখে রয়েছে। বছরের পর বছর ধরে চলা নিষেধাজ্ঞা, অর্থনৈতিক অব্যবস্থাপনা এবং সাম্প্রতিক সংঘাত দেশটিতে উচ্চ মূল্যস্ফীতি, মুদ্রার অবমূল্যায়ন এবং জীবনযাত্রার মানের তীব্র অবনতি ঘটিয়েছে। সূত্রগুলোর মতে, স্বল্পমেয়াদি আর্থিক প্রবাহ পাওয়ার বিষয়টিই একটি প্রাথমিক চুক্তির প্রতি তেহরানের আগ্রহের অন্যতম প্রধান কারণ। কারণ, এতে অর্থনীতি সচল রাখা, তাৎক্ষণিক চাপ কমানো এবং নতুন করে অস্থিরতা বা গণবিক্ষোভের ঝুঁকি ঠেকানো সম্ভব হতে পারে।

তবে হরমুজ প্রণালী এখনো ইরানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত হাতিয়ার। দেশটির শাসকগোষ্ঠীর মধ্যে এটি এখন আর শুধু দর-কষাকষির একটি উপাদান হিসেবে নয়, বরং দীর্ঘস্থায়ী কৌশলগত সম্পদ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সূত্রগুলোর মতে, এমন কোনো ব্যবস্থা যদি করা যায় যাতে নৌপরিবহন আবার স্বাভাবিক হয় কিন্তু একই সাথে ইরানের এই প্রভাব অক্ষুণœ থাকে, তাহলে তেহরানের হরমুজ প্রণালীর ওপর নিয়ন্ত্রণমূলক প্রভাব বহাল থাকবে। ফলে বাণিজ্যিক চলাচল আবার শুরু হলেও এই অঞ্চলের দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা রাজনৈতিক আলোচনার ওপরই নির্ভরশীল থাকবে।

একটি সূত্র জানিয়েছে, একটি সীমিত চুক্তি কার্যত যুদ্ধপূর্ব পরিস্থিতি পুনঃপ্রতিষ্ঠা করবে, কিন্তু এতে ইরানকে ওয়াশিংটনের দাবির কাছে নতি স্বীকার করতে হবে না। সূত্রটি আরো বলেছে, “যুদ্ধ শুরু করে ট্রাম্প মূলত ইরানকে হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণের উপহার দিয়েছেন।”

সর্বশেষ পরিস্থিতিতে মনে হচ্ছে- ট্রাম্প প্রশাসন মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত বা সম্প্রসারণ করার চেয়ে কূটনৈতিক সমাধানকে বেশি প্রাধান্য দিচ্ছে; যেখানে নেতানিয়াহু সরকার ক্রমাগত আক্রমণাত্মকভাবে সামরিক ও নিরাপত্তা চাপ বজায় রাখার নীতিতে অটল। এর ফলে ওয়াশিংটন ও তেলআবিবের মধ্যকার নীতিগত ফাটল ও দৃশ্যমান মতপার্থক্য আগামী দিনে আরো স্পষ্ট হয়ে উঠতে পারে।