কলাপাড়া (পটুয়াখালী) সংবাদদাতা
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় চলতি বোরো মৌসুমের ধান কাটা ও মাড়াই পুরোদমে শুরু হয়েছে। মাঠে মাঠে নতুন ধানের গন্ধে উৎসবের আমেজ থাকার কথা থাকলেও কলাপাড়ার চাষিদের মনে এখন কেবলই লোকসানের হাহাকার। উৎপাদন খরচ কয়েক গুণ বাড়লেও বাজারে ধানের ন্যায্য দাম না থাকায় স্বস্তি ফিরছে না কৃষকের ঘরে।
জ্বালানি তেল, সার, কীটনাশক এবং শ্রমিকের মজুরি বৃদ্ধি পাওয়ায় এবার ধান চাষে ব্যয় হয়েছে রেকর্ড পরিমাণ। কৃষকদের দাবি, প্রতি বিঘা জমিতে ধান চাষে খরচ হয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ২৬ হাজার টাকা। অথচ বাজারে বর্তমান দরে ধান বিক্রি করে বিঘাপ্রতি তিন থেকে চার হাজার টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার আশঙ্কায় অনেক কৃষক লোকসান দিয়েই দ্রুত ধান বিক্রি করে দিচ্ছেন।
উপজেলার নয়াকাটা গ্রামের কৃষক ইউনুস জানান, চার বিঘা বর্গা জমিতে চাষাবাদ করে ৭৫ কেজির প্রতি বস্তা ধান মাত্র এক হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি করতে হয়েছে। এতে তার বড় অঙ্কের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। অনন্তপাড়া এলাকার ইউসুফ আলী জানান, গত বছরের তুলনায় এবার ফলনও বিঘাপ্রতি তিন-চার মণ কম হয়েছে।
ন্যায্য মূল্যের দাবিতে গত ৬ মে বুধবার কলাপাড়া পৌর শহরে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে উপজেলা কৃষক সমিতি। পরে ইউএনও মাধ্যমে একটি স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। তাদের প্রধান দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে-
ধানের লাভজনক দাম নিশ্চিত করা এবং সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে ধান কেনা, ধান ক্রয়ে লটারি প্রথা বাতিল করা, অতিবৃষ্টি ও কালবৈশাখীতে ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ দেয়া, সরকারি খালের ইজারা বাতিল ও পুনঃখনন এবং দালাল সিন্ডিকেটের হয়রানি ও ওজনে কারচুপি বন্ধ করা।



