বগুড়া অফিস
এবারের ঈদুল আজহার কুরবানির পশুর চামড়া সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য আরো বেড়েছে। অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে এবার তারা এতটাই শক্তিশালী ছিল যে চামড়া বিক্রি করতে না পেরে রাস্তা, ড্রেন, জঙ্গলে ফেলে দিয়েছেন পশু কোরবানিদাতারা।
অনেকে বাধ্য হয়ে ছাগলের চামড়া ৫ টাকা, গরুর চামড়া গড়ে ২০০-৩০০ টাকায় বিক্রি করেছেন। ফলে বরাবরের মতো এবারো গরিব দুস্থরা চামড়ার হক থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।
বগুড়ার বিভিন্ন পশু মালিকের কাছ থেকে জানা যায়, ৩ লাখ ৬০ থেকে ৩ লাখ ৮০ হাজার টাকায় গরু কিনে কোরবানি দিয়ে চামড়া বিক্রি করেছেন মাত্র ২৮০ থেকে ৩০০ টাকায়। অনেকেই ক্রেতা না পেয়ে স্থানীয় মাদরাসাগুলোতে দান করেন।
নগরের নামাজগড় হাফেজিয়া মাদরাসার প্রধান মুহতামিম বলেন, বিভিন্ন এলাকার মানুষ মাদরাসায় চামড়া দান করেছেন। ১৭৬টি ছাগলের চামড়া বিক্রির জন্য নগরের বাদুরতলা ব্যবসায়ীদের কাছে ১০ টাকা পিস দরে বিক্রি করতে হয়েছে, তাতে গাড়ি ভাড়াও ওঠেনি।
বাদুরতলার চামড়া ব্যবসায়ীরা বলেন, সরকার শুধু দাম নির্ধারণ করেছে তারা তো চামড়া কিনছে না, আমরা আমাদের দামে কিনছি। সবচেয়ে বড় গরুর চামড়া ৭০০ টাকা, নিচে ৫০ টাকা পিস দরেও কিনছি। তাও ঢাকায় ট্যানারির কাছে কেনা দামে বিক্রি করতে পারব কি না, সন্দেহ আছে। ফলে চামড়া কিনেও বিপাকে আছি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জেলায় ছোট-বড় ৩৪৫ জন চামড়া ব্যবসায়ীর মধ্যে চামড়া কিনছেন মাত্র ১৫৬ জন।
জেলা চামড়া ব্যবসায়ী সমিতির নেতৃবৃন্দ বলেন, সরকারি দরে চামড়া কিনলে পথে বসতে হবে। কারণ, ওই দামে ঢাকার ট্যানারি মালিকরা আমাদের থেকে চামড়া কিনবে না। এ ছাড়া ট্যানারি মালিকরা প্রতি বছরেই আমাদের থেকে বাকিতে চামড়া কিনে সময়মতো দাম পরিশোধ করে না। এখনো গত বছরের পাওনা আছি ১৬ কোটি টাকা।



